যে মানুষটি সহজে ৫০ কেজির এক বস্তা চাল কিনে ফেলতে পারে,
সে কখনোই বোঝে না— সেই বস্তাটা কাঁধে তোলা কত কষ্টের।
আর যে মানুষটি ঘাম ঝরিয়ে সেই বস্তাটা মাথায় তোলে, সে-ই আবার পারে না একবারে টাকা তুলে তা কিনতে। জীবনের এই অদ্ভুত ভারসাম্য যেন একটি অদৃশ্য দাঁড়িপাল্লা— যেখানে প্রতিটি মানুষের শক্তির পাশে লুকিয়ে থাকে এক বিশাল দুর্বলতা,
আর সক্ষমতার পাশে জন্ম নেয় চুপচাপ এক অভাব।
আল্লাহ কাউকেই সবদিকে পরিপূর্ণ করেন না।
কারো হাতে অর্থ আছে, কিন্তু শান্তি নেই;
কারো ঘরে খাবার আছে, কিন্তু মনের মধ্যে তীব্র একাকিত্ব। কেউ হারিয়ে ফেলে ঘুম, কেউ হারিয়ে ফেলে হাসি।
কেউ সংগ্রামের পাহাড় টেনে নিয়ে চলে, আর কেউ পাওয়ার পরও সুখের ঠিকানা খুঁজে পায় না।
অভাব যেন মানুষের অদৃশ্য সঙ্গী— কখনও তা পেটের, কখনও হৃদয়ের, কখনও স্বপ্নের, কখনও ভালোবাসার। দেখেছ কি?
যে মানুষটি দু’হাতে দান করতে পারে,
সে-ই হয়তো মনের কোণে খুঁজে ফেরে একটি সৎ সঙ্গ; আর যে মানুষটি সামান্যটুকু নিয়েই বাঁচে,
তার চোখে জ্বলে অদ্ভুত শান্তির আলো।
এই পৃথিবীতে তাই কারও জীবনকে দেখে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
যার কাছে যা আছে তা-ই তার পরীক্ষা, আর যা নেই তা-ই তার প্রার্থনা।
অভাব কখনো শুধু দারিদ্র্যের নয়—
অভাব কখনো ভালোবাসার,
কখনো স্বীকৃতির, কখনো একটু আশ্রয়ের।
এভাবেই মানুষ বাঁচে— নিজের সামান্যতা লুকিয়ে,
পরের প্রাচুর্য দেখে, আর মনে মনে ভাবতে থাকে—
কবে সে পূর্ণতা পাবে।
অথচ সত্যটা হলো, পূর্ণতা কেবল সৃষ্টিকর্তার, মানুষের নয়। মানুষের জীবনে অভাবই তাকে মানুষ করে,
তাকে বিনয় শেখায়, তাকে শক্ত করে তোলে—
আর জীবনের আসল স্বাদটাও হয়তো সেখানেই।