যে মানুষকে প্রতিদিন নতুন করে গড়ে তোলে,
আবার কখনো ভেঙেও দেয়।
সে কখনো শক্ত করে তোলে হৃদয়ের পাথর,
আবার কোনো এক বিকেলে সেই একই মানুষকে ভেঙে ফেলে চোখের পানিতে।
সময়ের কাছে কেউই স্থির নয়, কেউই একরূপ নয়।
আজ যে হাসে, কাল সে কাঁদে;
আজ যে জেতে, কাল সে হার মানে নিজেরই অসহায়তায়।
সময় কখনো মানুষকে এমন এক শক্ত দেয়,
যেন পৃথিবীর কোনো ঝড় তাকে নড়াতে পারে না;
আবার কখনো এমন দুর্বল করে দেয়,
যেন সামান্য কথাতেই বুক ফেটে যায়।
এই সময়ই শেখায় ধৈর্য, আবার সময়ই শেখায় তিক্ততা। কখনো মানুষকে করে তোলে জ্ঞানী,
বুঝতে শেখায় জীবনের গুপ্ত মর্ম।
আবার কোনো এক অপরাহ্ণে তাকে এমন অজ্ঞানতার অন্ধকারে ফেলে দেয়,
যেখানে সে নিজেকেই চিনতে পারে না।
সময় মানুষকে অবুঝ করে দেয় ভালোবাসার কাছে,
আর জ্ঞানী করে তোলে বিচ্ছেদের কাছে।
সব শিক্ষা, সব অভিজ্ঞতা—সময়ই দেয়,
আবার সে-ই কেড়ে নেয় নিশ্চিন্ততা।
মানুষ ভাবে সে সময়কে ধরে রাখবে,
কিন্তু সময় তো কারো নয়—
সে শুধু পথ চলে, মানুষকে সঙ্গে নিয়ে,
কখনো আনন্দে, কখনো বেদনায়।
শেষে মানুষ বুঝে, সময়ের কাছে কেউ বড় নয়,
কেউ ছোট নয়—সময়ই আসল চরিত্র,
আমরা কেবল তার অভিনয়ে থাকা ক্ষণিক যাত্রী।