ওরা দাঁড়িয়ে আছে প্রলয়ের ঠিক আগমুহূর্তে
যেন সময়ের গায়ে কারো গোপন আঙুল ছুঁয়ে দিয়েছে
পাহাড়চূড়ার কালো মেঘ থেকে বৃষ্টি নামে না,
কেবল ঝরে পড়ে বুকের ক্ষত,
মানুষের ভুল,
আর ছায়ার গায়ে জমে থাকা দীর্ঘ ক্রোধ।
রাত যত বাড়ে নক্ষত্রেরা তত মুখ ফিরিয়ে নেয়
অসীম অন্ধকারে ডুবে থাকা নদীর মতো
ওরা অপেক্ষা করে এক অঘোষিত সত্যের
প্রেম যার কাছে অর্পিত ছিল
সে জ্বলে উঠেছে আলো হয়ে;
বিরহ সেখানে রেখে গেছে
রাত্রির সমস্ত নিঃশ্বাস।
ওরা শুয়ে থাকে বাতাসের হাহাকারে,
বসে থাকে মৃত্যুর বিস্মৃত দরজায়,
যেখানে কেউ এসে দাঁড়ায় না
শুধু একটি ছায়া ছাড়া।
ছায়া, যার চোখে জল নেই,
কিন্তু পৃথিবীর ক্ষত-বিক্ষত ও রক্তাক্ত সব ইতিহাস আছে।
হাতে বজ্রচাবুক নিয়ে সে
প্রতিটি ভুলের উপর আঘাত করে,
এবং দূরে কোথাও শোনা যায়
লক্ষ লক্ষ ফেরার ডাক
ফিরে আসতে না-পারা মানুষদের জন্য।
কৃত্রিম বুদ্ধি, কৃত্রিম প্রাণ
সবাই এক পায়ে ঘোরায়
অদৃশ্য কলুর পাথর;
এ পৃথিবীর নাম-না-করা যন্ত্রণা।
নীল হয়ে গেছে নক্ষত্রের আলগা দাবি,
তবুও আকাঙ্ক্ষা নদীর মতো
ভাসিয়ে নিয়ে যায়
চাঁদের সব স্ফীত দীর্ঘশ্বাস।
আর ভয় কিসের?
পাথরের তৈরি মৌমাছিরা
আজও মৃতদের কাছে যায়
মধুর বদলে সময় চুরি করতে।
আকাশ-পাতাল জুড়ে
পাখিদের অগণিত ছায়া
ডানা ঝাপটায় বিক্ষোভে
যেন তারা ভুলে গেছে
কে কাকে হত্যা করেছিল প্রথম।
যারা জখম ভুলে যায়
তারা হয় প্রতারক;
তারা খোঁজে এক অন্তহীন পরলোক
যেখানে দুঃখের কোনো রশ্মি পৌঁছায় না।
যারা ভুল করে
তারা পৃথিবী জুড়ে
পাপে বুনে রাখে রণমঙ্গলের ঘাস।
নিষিদ্ধ বইয়ের পাতা উল্টে
জেদী গাধারা জিজ্ঞেস করে
আমাদের ভাগ কোথায়?
সূর্যের বন্দিশ শিখে
মানুষ ভাগ করে নেয়
ধানের প্রতিটি শীষ,
তবুও ভালোবাসা হয়ে ওঠে
দু’চোখ ভরা বিকর্ণ শব্দহীনতা।
এবং শেষ পর্যন্ত
একটি নদীর গোপন কথা বলে যায়
তোমাদের সব কবিতা, সব ইতিহাস,
শেষে এসে আমার জলে ডুবে যায়।
সেই নদীর নাম— কীর্তিনাশা;
আর ভালোবাসার শেষ আলোও
সে-ই কিনে নেয় নিঃশব্দে।