কেউ যায়নি বাদ, জানাজার নামাজ হবে আজ
মুখোশধারীরা ছাড়া সবাই নিয়েছে সহবস্থান।
শহিদ আবু সাঈদের অন্তিম যাত্রায়
নূর হোসেন এসেছিল খালি গায়
বুক-পিঠে এখনো খাচ্ছে ঘূর্ণিপাক
স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক।
ধীর পায়ে, সজল চোখে গেলাম এগিয়ে
ডা. মিলনের দরাজ কণ্ঠে
পটুয়া কামরুল হাসানের সেই উচ্চারণ
‘দেশ আজ বিশ্ববেহায়ার খপ্পরে’।
বলে গেল আসাদ, শোষণের র*ক্তাক্ত ইতিহাস
এখনো রংপুরের বাঁকে বাঁকে
‘জাগো বাহে কুনঠে সবাই’ নুরুলদীন হাঁকে।
দূরে বসে চোখ মুছে ক্ষুদিরাম, সূর্যসেন, প্রীতিলতা
কি করে রুখবে কর্তৃত্ববাদী, আঁকে তারা সেই নীল নকশা।
সালাম, বরকত, রফিক জাব্বার, ওরা ফিরে এসেছে আবার
ঐ শুন
‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো
কথা বলার অধিকার,
নিয়েছে কেড়ে স্বৈরাচার স্বৈরাচার
হয়েছে সময়, হয়েছে সময় ঘুরে দাঁড়াবার
মেরুদণ্ড সোজা যার, সময় তার মুক্ত হবার’
তিতুমীর, সোহরাওয়ার্দী, শেরেবাংলা
মৌলানা ভাসানীর মনোযোগী স্রোতা
শুনে তাঁর কাছে, বায়ান্ন, একাত্তরের প্রকৃত ইতিহাস।
আবু সাইদ বাংলাদেশের মেরুদণ্ড
দেখিয়ে দিয়ে গেছে, কতটা সাহসে নিরস্ত্র হাতে
শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়াতে হয়।
পিছু হটে নয়,
মৃত্যু ভয়, করে জয়, আন্দোলন রাখতে হয় সচল
ইতিহাস সাক্ষী, এ দেশে বরাবর ছাত্ররাই বল।
রাষ্ট্রযন্ত্রের সংস্কার বাংলাদেশের অধিকার
কামানের গোলার চেয়ে ঐক্য শক্তিশালী
কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে দিতে ধিক্কার, হতে হবে সোচ্চার।
ত্রিশলক্ষ শহিদের কাঁধে চড়ে, আবু সাঈদ চলে গেল কবরে।