নিরবতা নীলার বৈশিষ্ট্য না
চঞ্চল নৈপুণ্যে সাজিয়ে রাখা প্রানবন্ত মুখ,
চঞ্চল দুরন্ত, মনে তার ভালোবাসা অফুরন্ত
কিন্তু সময়ের তীব্রতায়, চরম বাস্তবতায় সে আজ পরাস্ত,
তাই অভিমানে ঠোঁটের ফুলিয়ে নীলা
নিশ্চুপ নিস্তেজ বসে থাকে খোলা জানালায়।
হারিয়ে গেছে সীমাহীন হাসি, থেমে গেছে কন্ঠ
খুঁজে চলেছে নিরন্তর সেই বিরল সুখ,
চলছে জীবনে দু:খের ছন্দ, নেই হিসেব ভালো মন্দের
তার সঙ্গী বিভোর অম্লান উদাস, অস্থির মন
চঞ্চল নীলার উড়া যে আজ বারণ।
বন্দী সে দু:খ নামক লোহার খাঁচায়
ডুবে যায় সে অশ্রুপাতের অথৈ জলে
বন্ধ হয়েছে তার আমিত্বের পাগলামি,
ভিতরে অজস্র চঞ্চলতা বন্দী সারি সারি
হৃদয়ের গহীনে করে পায়চারি মরণের পাহারাতে,
পলকে পলকে পরখি সুপ্তিহারা বিরাম হারা।
বিমুগ্ধ প্রাণে ছুটতে চায় নীলার ইচ্ছে দিন রাত
কিন্তু মৃত্যু জড়ায় তাকে নিষ্ঠুর অনাহুত,
বলে উঠে নীলা তুমি এত চঞ্চল কেন বল?
তীব্র আহ্লাদে উন্মাদনার সুর কেন তোমার?
বেদনার গহীনে ক্লান্তিময় নিঘোরে কেন ঘুমাওনা তুমি?
কেন প্রেমের ভূমিতে তোমার অবাধ্য বিচরণ?
তাই আজ নীলা নিশ্চুপ, নিরবতার ঘরে নিয়েছে আশ্রয়
মুখটা মলিন, হাসিগুলো ছড়িয়ে আছে
ঘুণে খাওয়া কাঠের মত যত্রতত্র,
আর নীলা খুঁজে ফিরছে এই বিষন্নতার শেষ
অবচেতন মনের ভাবনা বিষন্নতার গন্তব্যহীন যাত্রা
নীলা কি খুঁজে পাবেনা তার সর্বশেষ মাত্রা?