আমরা যে বলি জীবনের সব অতীত ভুলে গেছি,
চাইলেই কী স্মৃতিময় মুহূর্তগুলো ভুলে থাকা যায়?
সুস্থ দেহেও রয়ে যায় ব্যাধিতে ভুগতে থাকা ক্ষতচিহ্ন
বিদ্যুৎহীন সন্ধ্যায় মনে পড়ে কেরোসিনের চেরাগ বাতি
মনে পড়ে বঁড়শি আর জাল ফেলে মাছ ধরার স্মৃতি।
গোধূলিতে আকাশে খুঁজি সারিবদ্ধ পাখির ঝাঁক
গভীর রাতে পেতে চাই আলোহীন ঘুটঘুটে অন্ধকার
সূর্য ফোঁটার সাথে কানে ভাসে মক্তবের সুলেলিত ধ্বনি।
অবসরে টিভিতে খেলা দেখে মনে পড়ে ক্রীড়া দক্ষতা
কর্মব্যস্ত সময়গুলোতে যদিও ভুলে থাকি নিজেকে
তবুও জীবনের বাঁকে ঘুরে ফিরে আসে অতীত স্মৃতি।
আসলেই কী সুখ অথবা দু:খের স্মৃতি ভোলা যায়?
নির্জনতায় মনে পড়ে হারিয়ে ফেলা প্রিয় স্বজনের মুখ
অস্ফুট কিছু কান্না জন্মদাঁগের মত আজীবন রয়ে যায়
ভুলে গেছি বলে বলেই মনে করি কিছু বোবা অভিমান।
মনে পড়ে চড়ুইভাতি অথবা দলবেঁধে নদীতে সাতার
চা-চক্র আর আড্ডার ফাঁকে ফাঁকে বাদাম খাওয়া
শিক্ষকের বেত্রাঘাতের স্মৃতি চোখে আনে আনন্দ অশ্রু।
কবিতা লিখতে গিয়ে মনে পড়ে পত্র মিতালীর চিঠি
যদিও পেয়েছি পারিবারিক বন্ধনে গড়া নব সংসার
তবুও পুরাতন ডায়েরিতে ভাসে কৈশোরের শুদ্ধপ্রেম।
আমরা যে বলি ভুলে গেছি জঞ্জালভরা নষ্টালজিক,
সত্যিই ভোলা যায় গভীর রাতেও নির্ঘুম রেখেছিলো যা?