কেন জানি আজ সাগরপাড়ে বসে থাকতে ইচ্ছে করছে। চারপাশে মানুষ, আলো, কোলাহল—সবই আছে, তবু মনটা ফাঁকা। বুকের ভিতর জমে থাকা দীর্ঘশ্বাসগুলো যেন মুক্তি চায়, সাগরের বিশালতা দেখে হঠাৎই মনে হয়, হয়তো এই ঢেউগুলো বুঝবে আমার কথা।
যেখানে কষ্টের গল্প বলা যায় না কারো কাছে, সেখানে সাগরই যেন একমাত্র শ্রোতা। আমি বসে থাকি নিরব হয়ে, পায়ের নিচে বালির স্পর্শ, চোখের সামনে বিস্তৃত নীল জলরাশি। ঢেউ আসে, যায়—প্রতিটা ঢেউ যেন নিয়ে যাচ্ছে আমার একটা করে অশ্রু, একটা করে হারিয়ে যাওয়া অনুভব।
এই সাগরপাড়ে বসে থাকলে, মনে হয় সময় থেমে গেছে। শহরের চিৎকার নেই, নেই মুখোশধারী মানুষ। আছে শুধু আমি আর আমার হাহাকার। ভাবি, এতটা ভার নিয়ে কি সত্যিই বাঁচা যায়? আর তখনই মনে হয়, এই সাগরই তো বহন করছে কত শত নদীর কান্না, কত পাহাড়ের ধ্বনি।
আমি চোখ বন্ধ করি। অনুভব করি ঢেউয়ের শব্দে এক ধরনের শান্তি আছে, যেন সান্ত্বনার ভাষা। আমার হারানো দিনগুলো, অপূর্ণ স্বপ্নগুলো, সম্পর্কের ভাঙন—সবকিছু আমি ঢেলে দিই সাগরের বুকে। যেন এক নিঃশব্দ আর্তনাদ ছড়িয়ে পড়ে নোনা জলের গভীরে।
এই নির্জনতার মধ্যেই আমি খুঁজে পাই এক অদ্ভুত আত্মীয়তা। সাগরের মতো আমিও বহন করি—ভাঙা মন, না বলা কথা, অপূরণীয় চাওয়া। হয়তো এ কারণেই সাগর আমাকে ডাকে, একান্ত করে নেয় তার গভীরে।
শেষ বিকেলের আলোয় সোনালি ঢেউ গায়ে মেখে আমি বসে থাকি। কারো অপেক্ষায় নয়, কারো অভিমানে নয়, শুধু নিজের ভিতরের সমস্ত কষ্টগুলো ঢেউয়ের সাথে মিলিয়ে দিতে। যেন আমি হারিয়ে যাই, আবার নতুন করে ফিরে আসি—একটু হালকা হয়ে, একটু নিঃশ্বাস নিতে শিখে।