রক্তে কেনা এই পতাকা, কেন তবে ব্যথায় ভরে?
স্বাধীনতার সূর্য হাসে, অন্ধকারে চারদিক ঘোরে।
দিনমজুরের হাতের ঘাম, যুদ্ধের সেই রণ হুঙ্কার,
রাজনীতির খেলায় তারা হয় আজ কেবল কারবার।
জনতার নামে ভোট হয়, পরে ভোলে সেই জনতার মুখ,
ক্ষমতার সিংহাসনে বসে করে কেবল দম্ভের সুখ।
দেশপ্রেমের গান গায় যারা, মুখে তাদের অগ্নিবাণ,
অন্তরে শুধু রাজসুখ চায়, জনতার বোঝা হয় মরণত্রাণ।
কেন আজও চাষার মুখে, হাসি ফুটে না স্বাধীন ভোরে?
কেন শ্রমিক বোনের চোখে, জল জমে শ্রান্তি ঘোরে?
জনগণই তো করেছিল যুদ্ধ, হাতে ছিল না কাগজের খাতা,
ছিল না দল, ছিল না হুকুম, ছিল শুধু প্রানের ব্যাকুলতা।
আজ যখন সরকার বদলে যায়, দেশটা তবে কেন বদলায়?
ঘর থেকে শুরু করে রাষ্ট্র, শুধু দলীয় ছায়ায় ঢাকায়।
জনতার টাকায় গড়া রাস্তা, ক্ষমতাবানের নামে চলে,
এমন দেশে কী করে বলি — ‘আমি দেশকে ভালোবেসে চলি’?
তবু আশায় বুক বাঁধি, আজ নয়, হোক কাল সকালের আলো,
উঠে আসুক সেই প্রহর, যেখানে দেশটাই হবে সবচেয়ে ভালো।
সেইখানে নেতা হবে জনতার সেবক, নয় কোন রাজাধিরাজ,
দেশপ্রেম হবে কাজের মাধ্যমে, নয় কেবল আবেগ সাজ।
চাইনা আমরা তামাশা রাজনীতি, মুখোশ পরে বসে থাকা,
চাই না কেবল শ্লোগান-গর্জন, চাই কাজের দৃঢ়তা, মাকা।
এই দেশ, এই মানুষ, এই মাটি — একে ভালোবাসা চাই নিঃস্বার্থ,
ক্ষমতার নেশা নয়, চাই ভালোবাসার, মানবতার সত্য শপথ।