ভোর বিহানে চিড়া কুটার আওয়াজ ছিল,
ঘরে ঘরে ঢেঁকি ছিল, ঘাইল চিয়ার প্রচলন ছিল!
সপ্তাহের হাটে হামহাম বাজারী শব্দ ছিল,
এক ছটাক তেল নুন পিঁয়াজ রসুন হলদি বিক্রি হতো
বড় বড় গৃহস্থে এক পোয়া করে সদায় পাতি আনতো
তেলের বোতল তিন টি নিতো,
কেরোসিন মিঠা তেল নারিকেল তেল শিশিতে করে
সবাই কিনে আনতো!
দুই আনা চার আনা ছোট মাছের বাটি বিকতো
এক দেড় টাকায় বড় মাছ মিলতো!
গরুর গোসতের বাটি টাকায় টাকায় বিকতো,
হাঁস মোরগ ডিম সব কিছু ই সস্তা ছিল!
গৃহস্থালি সবাই জানতো
পাথরের পাটা পুঁতাইলে মরিচ পিঁয়াজ রসুন হলদি
সবাই বাটতো, ধান বানা সবাই পারতো
বারা বানি চিঁড়া কুটি গীত গাইতো,
সবার স্বাস্থ্য ভালো ছিল!
খুলনা থেকে বড় বড় নায়ে করে পিঁয়াজ লবণ আনতো
ভৈরব বাজারে মরিচের আড়তে নৌকা বুঝাই হতো!
নায়ে করে হাট বাজার চলতো!
মাটির ঘরে একে অন্যে চালের কাজ করতো
সবাই মিলে মিশে বেতন ভাতা নাহি নিতো।
আলু ক্ষেতের পানি সেচ হতো
একে অন্যে মিলে মিশে! ধান কাটা
চারা রোপণ গরু মহিষ মাঠে চরানো
সব কিছু ই ছিল সম্মিলিত
বিয়ে সাদী মরার মাটি দেয়া শিরনী জিয়াফত
সাম্য সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ সমাজ ছিল
বর যাত্রী কম করে যেয়ে কন্যা আনতে!
মুরুব্বীরা লোক সংখ্যা ধার্য্য করে দিতো।
৪০/৫০ এর বেশি নাহি যেতো
মানুষে মানুষে আত্মার আত্মীয়তা মজবুত ছিল
সুখে দুঃখে একে অন্যে ভাগাভাগি করতো!
ঝড় তোপানে মাটির ঘরের চাল উড়তো
সকলে মিলে ঠিকটাক করে দিতো!
আগুন লেগে ঘর বাড়ি পুড়ে ছাই হতো
দমকল নয়, গায়ের লোক আগুন নিভাতো
প্রতিবেশী সবাই নতুন ঘর বানিয়ে দিতো
বাঁশ বন বেত আমরা দিয়েছি কত শত।
এমন একটা জাতি ছিল বলে বঙ্গবন্ধুর ডাকে
প্রাণ বিসর্জন দিয়ে দেশের স্বাধীনতা আনলো।
হাওরে ঝিলে গাঙ্গে বিলে মিলে মিশে মাছ ধরতো!
ঘরে ঘরে ঢেঁকি চাটা চাউলে খুব মজা লাগতো,
ঘাইলে চিয়ায় চিঁড়া কুটি গীতে ঘুম ভাঙতো!
দুধ নারিকেল গুড় খৈ কলায়
চিড়ামুড়ি মজা লাগতো!
বস্তা বস্তা ভরে আনলেও এখন
আগের দিনের সেই মজা নেই তো
কেউ কারো আপদ বিপদে
আসে না যে আগের মতো
পরিশ্রম করে সুখ ভোগ করতো
মাটির চাটাই-এ ঘুম লাগতো।
খাট পালঙ্কে ফ্যান এসিতে
ঘুম হয় না আগের মতো
জন জীবনে স্বস্তি নেই
শান্তি নেই সেই আগের মতো।
———++-
সাহিত্য কুটির সিলেট
৮ মে ২০২৪