জল জঙ্গল, গাছপালা রোদ্দুর, অরণ্য পাখির গান শুনতে শুনতে, উদাসী ধান ক্ষেত পেরিয়ে,
শহর মফস্বল ছাড়িয়ে দ্রুতগামী ট্রেন ছুটে যাচ্ছিল, এক স্টেশন ছেড়ে অন্য স্টেশন, কেউ কেউ নেমে যাচ্ছিলেন, নতুন যাত্রীরা উঠে আসছিলেন,
কত উন্মনা মুখ, কত সংলাপ, কত সুখ দুঃখের স্মৃতি, কতশত মুখের মিছিল, প্রত্যেকের দুঃখ কষ্ট অনুভূতি ভিন্নতর,
জীবন এরকমই, পথ এগিয়ে যায়, পথের স্মৃতি পড়ে থাকে, শৈশব, কৈশোর, যৌবন পেরিয়ে একদিন বার্ধক্য সামনে এসে দাঁড়ায়,
একটা বয়সে এসে
মানুষ তখন ডুবুরি হয়ে যায়,
আত্মখনন চলে, কত কাজ বাকি রয়ে গেল,
সোনার পাহাড়ে উঠতে গিয়ে কখন যে পা পিছলে
পড়ে গেছি, বুঝতে পারিনি,
তখন মনে হতো, জীবন মানে শুধু ছোটা, আমি কি মিলখা সিং, না ইভান জেটোপেক?
উপলব্ধির জায়গাটা কোথায় গেল?
শুধু বস্তু সম্পদে কি মন ভরে?
ভালোবাসা তঞ্চকতা দিল, মায়াবী সোনার হরিণ
ছোটাতে ছোটাতে দিকভ্রান্ত করে দিল,
বোঝা গেল, বন্ধুত্ব শুধু শৈশবেই অনাবিল থাকে,
পা মেপে চলতে গিয়ে তা দিশা হারায়,
অর্থ বাসনা, সুখ পাখি ধরবার ইচ্ছা নীলকন্ঠ পাখির মতো প্রতিমা বিসর্জন শেষে দিগন্ত রেখায় মিলিয়ে যায়,
তবুও বেঁচে থাকে জীবন প্রেম, বেঁচে থাকার আশ্লেষ,
দ্রুতগামী ট্রেন শেষ গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যায়,
এবার নামতে হবে, এবার নামতে হবে একাই,
সঙ্গে কেউ নেই, চারদিকে হিমশীতল নীরবতা,
মনে মনে বলতে হবে, একটা দুর্লভ মানব জীবন পেয়েছিলাম, আমার অনেক দূরে যাবার কথা ছিল,
এ আমি কোথায় এসে পড়লাম?
বিশ্বাস করুন! আমি এ চাইনি,
আহা! আবার নতুন করে যদি শুরু করতে পারতাম!
পাশ থেকে কেউ বলে উঠবেন, এবার নামুন! ট্রেনের গন্তব্য এটুকুই।