এটা কেমন কথা বললে তুমি ?
কি বললাম?
এই যে একটু আগে বললে ভালোবাসা কখনোই ভালো হয় না।
ঠিকই তো বললাম ভুলতো বলিনি দেখো এই পৃথিবীতে যতো রকমের কান্ড অকান্ড ঘটে ঘটছে তার সবই তো এই ভালোবাসা কিংবা ভালো একটা বাসা মানে ঘরের জন্যে।
ভালো বর,ভালো কনে,ভালো ঘর,সব ভালো কে কবে পেয়েছে?
আর পায় না বলেই যতো সংগ্রাম আর যে প্রেমে পড়েছে সেতো জিন্দা মৃত, ভালোবাসা মানে আধা লাশ।
এসব আমাকে দিয়ে কস্মিনকালে ও হবে না।
তোকে এসবে কে পড়তে বললো?
দেখ তোর এই ফালতু বকবক শুনতে ভালো লাগে না সব সময় নেগেটিভ কথাবার্তা।
উষা আর আকাশ এক সাথে ছোট্ট বেলা হতে একই স্কুল হতে এস এস সি শেষ করে এখন একই কলেজে পড়ছে। সমস্যা হলো যেকোনো বিষয়ে বাড়াবাড়ি করা ওদের অভ্যাস।
আকাশের বোন তমা ও উষার সঙ্গে পড়ে,উষার বড় ভাই নয়ন ও আকাশ এক সাথে পড়তো আগে। একই পাড়ায় থাকা হয়।
আকাশ খুব ই মেধাবী ছাত্র একবছর হলো ইংরেজীতে অর্নাস শেষ করে চাকরির ইন্টারভিও দিয়েই যাচ্ছে।
অন্যদিকে নয়ন কোটায় ডাক্তারীতে চান্স পেয়ে এখন ইন্টার্নি করছে।
আকাশ বললো জানিস
আমি যদি প্রধান মন্ত্রী হতাম সব মন্ত্রীদের আদেশ করতাম প্রতি মাসে মন্ত্রীরা সকলে পাচ লাখ করে গরীবদের জন্যে এলাকা ভিত্তিক ফান্ড করবে। চাল ডাল মৌলিক বিষয় গুলো ওখান থেকে বরাদ্দ হবে।
সেই গরীবদের কাজ হবে রাস্তা ঘাট পার্ক বন সবখানে ফলের গাছ রোপন করবে সব পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখবে সব কিছুর তদারকির জন্যে প্রশাসন থাকবে। দেশে খাবারের কোন অভাব থাকবে না। শাকসবজি হবে পানিরদামে, দেশে কোনো ভিক্ষুক থাকবে না।
বাহ!খুব ভালো তো ‘তা আপনার ক্ষমতায়ন কবে হচ্ছে?
দেখ তমা ; তুই ও তোর বান্ধবী উষার মতো উপহাস করবি না। একদিন আমি দেশের জন্যে কিছু করবো বুঝলি।
এসময় উষা এসে উপস্থিত
তমা বললো আয় আয় তোর উপমাই দিচ্ছিলো ভাইয়া।
তাই নাকি একটা সুখবর আছে।
তমা বললো কি?
উষা বললো
মুক্তিযোদ্ধা কোটা আগের মতো আছে।
উষা তোর জন্যে সুখের হলেও এটা অন্যায় সব কিছু এক তরফা।
তোর দাদা মুক্তিযোদ্ধা ছিলো সেটার জন্যে তোর আব্বুর সরকারি চাকরি ও ভাতা নিশ্চিত হয়েছে।
আমার দাদী সারাটা দিন রাত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যে কষ্ট করে রান্না করতো আর দাদা খাবার সংগ্রহ করে পৌঁছে দিতো।
তুই বলতো,
খাবার ছাড়া শরীরে যুদ্ধ করার শক্তি থাকে? এই কাজটা আমার দাদা দাদী করেছে কিন্তু সার্টিফিকেট নেয় নাই অথচ দেশের জন্যে উনারা বড় ভূমিকা রেখেছিলো।
একটা দেশ স্বাধীন হবার পেছনে সর্বসাধারন আপামর মানুষের ত্যাগ ও ভুমিকা থাকে। কেউ রান্না করে, কেউ খাবার দিয়ে, কেউ সাহস দিয়ে,কেউ অস্ত্র দিয়ে জনবল দিয়ে সবার ত্যাগ ছিলো।
গুটি কয়েক দুষ্ট লোকের জন্যে সবাই সাজা পাবে কেনো?
আর এই যে আমি, তুই, আমরা সবাই কষ্ট করে পড়াশুনা করছি আমরা তো কোনো দোষ করিনি!
তাহলে কেউ খাবে, কেউ মরবে এই বৈষম্য কি ঠিক?
বল?
উষা বললো
আসলে এভাবে ভাবিনি কখনো।
সব শিক্ষার্থীদের কষ্টতো একরকম, ,পড়াশুনা শেষে একটা চাকরি না পেয়ে হতাশার জীবন নিয়ে ধুকে ধুকে মরতে হয়।
বৈষম্য বিভেদ কোটা পদ্ধতির কারণে মেধার মূল্যায়ন হচ্ছে না।
আকাশের আম্মু বললো কিরে তমা উষাকে কিছু খেতে দিবি না?
উষা বললো ,আন্টি :মা আপনাকে ফোন করে ও পাচ্ছে না ,আম্মু ও বলবে তবুও আমি বলছি আগে। আগামী শুক্রবার আমার জন্মদিন রান্না সব আমি আর তমা করবো আর কাটা কুটা সব সাহায্য করবে নয়ন ভাইয়া ও আকাশ ভাইয়া।
তমা বললো ওহ আচ্ছা এই হচ্ছে তোর পরিকল্পনা। ঠিক আছে সময় মতো চলে আসবো।
তবে বলে দিচ্ছি কোনো ক্রিমকেক হবে না এটা সত্যি অস্বাস্থ্যকর । আমি অরেঞ্জ ফ্রুট কেক তৈরী করবো দেখবি কি দারুণ খেতে।
আকাশ বললো রেসিপিটা আমার যদিও তমা ভালো বানায়।
দেখো শরীর ঠিক রাখা জরুরী যা খাবে ফ্যাট কম ভিটামিন সমৃদ্ধ আর উপকারী হতে হবে।
নয়ন ভাইয়া আর আকাশ ভাইয়ার চিন্তা ভাবনা একদম এক রকমের যদিও আকাশ ভাইয়ের রেজাল্ট অনেক ভালো।
আচ্ছা এখন যাই
তমা বললো ঠিক আছে সব কিছু ঠিক করে রাখবি কিন্তু।
একদিন পর
২০২৪ ইং জুলাই মাসের ১৬ তারিখ দুপুর হতে যানবাহন চলাচল বন্ধ।
শিক্ষার্থীদের শান্তি পূর্ণ আন্দোলন শুরু হলো ঢাকা সহ সারা দেশে। কোটামুক্ত দেশ ও মেধা মূল্যায়নের দাবী নিয়ে ।বিষয়টা অবশ্য গ্রহনযোগ্য ও সর্বসম্মত ন্যায্য দাবী ছিলো কিন্তু কি হতে কি হয়ে গেলো।
দলে দলে সবাই রাজপথে দাবী আদায় নিয়ে গনজোয়ার।
আমরা সবাই চিন্তিত মা বাবা ভাই বোন সবাই অস্থির।সবাই ভাবছিলো সরকার মেনে নেবে সব, আন্দোলন থেমে যাবে কিন্তু প্রশাসন নিরপরাধ মেধাবী শিক্ষার্থীদের উপর গুলি চালালেই উত্তাল হয়ে উঠে পুরো দেশের আন্দোলন।
এদিকে আকাশ,নয়ন ও উষা সেই যে ১৭/৭/২০২৪ ইং দুপুরে বের হলো আর ঘরে ফিরেনি।
তমা রাস্তায় নেমেছে তার সহপাঠী ও ভাইয়ের খুজেঁ , তমা জানে না কোথায় তাদের পাবে? পরিবার কাদের স্বপ্ন বুকে নিয়ে বাচবেঁ? কতো আকাশ,কতো নয়ন, কতো উষাদের প্রাণের বিনিময়ে আজ কোটা মুক্ত হলো দেশ।
কি হতো এই রায় আগে শুনালে!
কেনো আজো রক্ত দিয়ে সব পেতে হয়? কেনো দেশের প্রশাসন দেশের মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবহার হয়?
কেনো ওরা বুঝে না দেশের সম্পদ নষ্ট হলে কষ্ট জনগনের হয়।
কেনো এতো অন্যায় হত্যাযজ্ঞ?
হত্যার প্রতিযোগিতায় হত্যা বাড়ে
আর না হোক হত্যার রাজনীতি।
সাধারণ মানুষ দুমুটো ভাতের নিশ্চয়তা চায় অশান্তি যুদ্ধ খুনখারাবি কেউ চায় না।
উষার জন্মদিনটা সবাই মিলে করা হলো না, তমা বাকরুদ্ধ ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে,বোবা আর্তনাদে বিমর্ষ মৃত্যু পথ যাত্রী আকাশ নয়ন ও উষার মা বাবা। পথ চেয়ে আছে কবে ওরা ফিরবে! আকাশ সেই উচ্ছ্ল হাসি নিয়ে আবার ও বলবে দেখিস দেশের জন্যে আমি কিছু করবো!