অবলা নারীর মতো কাঠ খুব চুপচাপ, কখনও দেয়না
অযাচিত লাফ
পেরেক ঢোকাও অথবা আগুনে পোড়াও,
দ্বিধাহীন মেনে নেয় সব উত্তাপ।
এতই নিরীহ,
তুমি যদি তার পেটে গুঁজে দাও পচা গলা লাশ,
পরবাস থেকে আকন্ঠ তুলে এনে আকাশে ওড়াও
লাশের গন্ধ চোষে নিরিবিলি, কিচ্ছু বলে না,
যেনো জুয়ায় মত্ত কাগজের তাস
ঘোরাও ফেরাও,গোলামের থাপ্পর দিয়ে বাঁদীকে পেটাও
অকুন্ঠ রাণীর ঠোঁটে এঁকে দাও রাজার প্রণয়
সে তবু কিচ্ছু বলে না, যেনো মাচায় বসানো বাঁশ।
এতই নিরীহ
কাঠ ঠোকরারা বসায় কামড়, ঘূণপোকা বসায় আঁচড়
বুক থেকে খুলে নেয় ডাগর আদর,
কিচ্ছু বলে না,যেনো ঘিয়ে ভাজা মচমচে বিশুদ্ধ পাপড়
নারীর মতোই, নিষিদ্ধ জলের আঁধারে ডোবাও
রোদ্রে পোড়াও,
করাতের দাঁত দিয়ে ফালি ফালি অসংখ্য চেড়াও,
মাংসের ভাঁজ থেকে খুলে নাও খাল ও বাকল
আলগা হবে কষ, শরীরে নামবে ধ্বস
তবু সেই কাঠ নিকষ রাত্রির মতো থাকে অবিচল।
আমি চিনেছি নারী ও কাঠের বিবর একই সাথে
একই মুদ্রায়। একই মোহনীয় পৃথিবীর রথে,
একই সাথে দীর্ঘ সহবাস,
ছুঁয়েছি অবগুণ্ঠনে ঢাকা নারীর হৃদয়
ছুয়েছি কাঠের নিলয়।
আজ, এই অবসরে
চন্দন কাঠ দিয়ে তোমাকে পোড়াতে গিয়ে দেখি,
তুমি ও চন্দন কাঠ কী সুন্দর মিলে মিশে আছো
যেনো সমুদ্র ও ঢেউ, যা আলাদা করতে পারেনি কেউ।
আমিও পারিনি
পুড়ছে চন্দন কাঠ,
পুড়ছো তুমিও, চুকে বুকে গেছে জীবনের পাঠ,
জ্বলছো দুজনই, উড়ছে উড়নচন্ডী শিখা,
ছাই হচ্ছো, কয়লা হচ্ছো,এখন শুধুই মৃত্যুর পাদটিকা।
তাই আমি নারী ও কাঠের পার্থক্য বুঝি না
নারী যদি মোম হয়, কাঠ তবে শিখার ঠিকানা।