হৃদয়ে দাগা দিয়ে সে চলে গেল,
ঝাউ বীথি পেরিয়ে বালিয়াড়ির
উপর দিয়ে সে একটু একটু করে
দূরে চলে গেল, দূর থেকে আরও দূরে,
সমুদ্রে পারে সূর্য ডুবে গেল,
আকাশে মিটিমিটি তারা ফুটলো,
ঝাউবনের মাথার উপর চাঁদ দেখা
দিল, অন্ধকারের সমুদ্র মোহনার
দিকে এগিয়ে গেল।
আমি বুঝতে পারিনি,
আমার সরলতাকে সে দু পায়ে
মাড়িয়ে চলে গেল,
আসলে, সে একটু বেটার খুঁজছিল,
বোকার হদ্দ আমি বুঝতে পারিনি,
তার জন্য কলঙ্কের মালা গলায় পরেছি,
সদ্য তোলা পদ্ম নিয়ে কতদিন
তার দরোজায় এসে দাঁড়িয়েছি,
কোনো সম্পর্কের মূল্যই সে দিল না,
বোটানিক্যাল গার্ডেনে আসল বটগাছ
খুঁজে দেখার জন্য সেদিন
দুজনে কি আপ্রাণ চেষ্টা,
আমার ভালোবাসা উদাস রাজপথে,
গভীর অরণ্য প্রদেশে কেঁদে ভাসিয়েছে,
সেদিন কেউ সান্ত্বনা দিতে আসেনি,
নদী আকাশ, সবুজ ধান ক্ষেত,
রাতের জোছনা ছাড়া আমার
কোনো বন্ধু ছিল না,
পায়ের তলার মাটি খুঁজে পেতে
অনেকগুলো বছর কেটে গেল,
আজ আমি তার ভালোবাসাকে
অনায়াসে তাচ্ছিল্য করতে পারি,
পার্ক স্ট্রিট মোড়ে সেদিন মুখোমুখি
আমরা, বলল, ভালো আছো,
আমার সমস্ত রাগ গলে জল,
বললাম, ঠিক আছি।
মনে মনে বললাম, এভাবে মিথ্যে
না বললেই পারতাম,
একটু কি শক্ত উত্তর দেওয়া যেত না,
হয়তো যেত, হয়তো নয়,
কি করে ভালোবাসার মানুষকে
আঘাত করতে হয়, আমি শিখি নি,
বন্ধু বলছিল, তোর মতো সবার
কাছে ঠোক্কর খাওয়া
হেরে যাওয়া মানুষ আমি
জীবনে একটাও দেখিনি,
সবাই যেখানে জিততে চায়,
সেখানে তুই হেরে যাবার জন্য
মুখিয়ে থাকিস কেন?
বললাম, সবার পিছনে পড়ে থাকতে
আমার বড্ড ভালো লাগে যে!