মুক্তিপন একটা কমন শব্দ।এই শব্দের সাথে আমরা অনেকে পরিচিত। পত্রিকার হেড় লাইনে বড় বড় অক্ষরে এই নিয়ে প্রায় সময় নিউজ করা হয়।
সাত বছরের আরিয়ান একটা শিশু বাচ্চা।মাত্র দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ে।স্কুল থেকে ফেরার পথে একলোক তার পথরোধ করে দাঁড়ায়।তাকে বলে,
তোমার বাবা গাড়ি এক্সিডেন্ট করেছে।এখন হাসপাতালে ভর্তি আছে।তোমাকে যেতে বলেছে।
সাত বছরের আরিয়ান বাবার এক্সিডেন্টের কথা শুনে থেমে থাকতে পারলো না।অপরিচিত লোকটির সাথে ছুটে গেল।কিন্তু না লোকটি আরিয়ানকে হাসপাতালে না নিয়ে অন্য একটা বাসায় নিয়ে গেল।আরিয়ান লোকটিকে প্রশ্ন করলো,
আমার আব্বু কোথায়?
তুমি বস।কিছুক্ষণ পর তোমার আব্বু আসবে।
একথা বলে লোকটি কাকে যেন ফোন করলো।ফোন পাওয়া মাত্রই কয়েকটা লোক ছুটে আসল।আরিয়ানকে কিছু ফল খেতে দিলো।তারপর বলল,
বাবু চুপচাপ এখানে বসে থাক।একটু ও কথা বলবে না।
আরিয়ান থেকে নেই।আব্বু আব্বু বলে কান্না করছে।তখনি একটা লোক কড়া ধমক দিয়ে বলল,
চিৎকার করবে না।যদি আর একবার আব্বুকে ডাক মেরে ফেলব।
আরিয়ান ভয় পেয়ে থমকে গেল।এরপর লিডার আরিয়ানের বাবাকে ফোন দিয়ে বলল,
হ্যালো শুনতে পাচ্ছেন?
আপনি কে বলছেন?
আমি শামছু বলছি।
জ্বি বলুন।
তোর ছেলে আরিয়ান আমাদের কাছে বন্দি।যদি ছেলেকে ফিরে জীবিত ফিরে পেতে চাস।আগামী চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে আট লক্ষ টাকা নিয়ে আমাদের সঙ্গে দেখা করবি।সাবধান পুলিশকে জানাবি না।যদি জানাস ছেলেকে মেরে ফেলব।
ঠিক আছে জানাব না।ঠিকানা পাঠিয়ে দিন আমি টাকা নিয়ে আসছি।
আরিয়ানের বাবা সাধারণ একজন মুদি দোকানদার। এত অল্প সময়ের মধ্যে আট লক্ষ টাকা কোথায় পাবে?
তবুও অনেক চেষ্টা করলো।কিন্তু টাকা যোগাড় করতে পারলো না।তাদের দেয়া সময় শেষ।এবার উপায়?
নিরুপায় হয়ে আরিয়ানের বাবা পুলিশের শরনাপন্ন হলো।পুলিশ সুপারকে তার ছেলের কিডনামের বর্ণনা দিলো।পুলিশ সুপার তৎক্ষণাত ফোর্স পাঠিয়ে দিলো।তাদের ঠিকানায় এট্যাক করা হলো।শামছুসহ কয়েকজনকে পুলিশ এরেস্ট করল।তারপর জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো।আরিয়ান কোথায় জানতে চাইলে তারা প্রথমে সবকিছু অস্বীকার করে।তারপর কঠিন মাইর দেয়ার পর তারা সবকিছু স্বীকার করে।আরিয়ানের বাবা টাকা না দেয়াতে তাকে মেরে বুকে পাথর বেঁধে ডোবা পুকুরে কচুরি ফেনার নিচে চুবিয়ে রাখে।
তাদের দেয়া ভাষ্য অনুযায়ী পুলিশ ফোর্স নিয়ে সেখানে উপস্থিত হলো।শামছুকেও তারা সঙ্গে নিয়ে যায়।সে হাত ঈশারায় দেখিয়ে দেয় আরিয়ানের লাশ আছে কোথায়?
তার দেখানো নিশানায় অনুসন্ধান করলে ,পুলিশ আরিয়ানের লাশ দেখতে পায়।
সাত বছরের আরিয়ান কি তার দোষ ছিলো? যাকে এভাবে মরতে হলো?তাছাড়া তার বাবা কোনো রাজনীতিবীদ নয়,কোনো দলের লিডার ও নয়।তাহলে তার মতো সাধারণ একজন মানুষের ছেলেকে কেনো কিডনাপ করে “মুক্তিপণ” দাবি করলো?এতটুকুন একটা বাচ্চাকে টাকার জন্য মেরে ফেলল?একটু ও এদের বুক কাপল না?এরা মানুষ নাকী পশু?এরা অমানুষের চেয়েও নিকৃষ্ট,জানোয়ারের চেয়ে ও ভয়ংকর, পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট, নরপশু।