এই শহরটা আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে।
অভাব আর দরিদ্রতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।
বড়ই আজব শহর—
বড়ই রঙিন, আবার বড়ই নির্জন।
শত লোকের ভিড়ে থেকেও,
একা হয়ে যাওয়া যায় এখানে।
চেনা মুখগুলো অচেনা হয়ে যায় রোজ সকালে,
আর ভালোবাসা,
সে তো এখানে হিসেবের খাতায় লেখে লাভ-লোকসান।
আর চায়ের দোকানে শোনা যায় জীবনের গল্প,
আর দামি রেস্টুরেন্টে শোনা যায় ভণ্ডামির আলাপ।
এই শহর বুঝিয়ে দিয়েছে—
সবাই বন্ধু নয়, আর শত্রুরাও সব সময় বিষ নয়।
যার সাথে হেসেছিলাম, সে-ই একদিন কাঁদিয়েছে;
যাকে এড়িয়ে চলতাম, সেও পাশে দাঁড়িয়েছে সংকটে।
রোদ এখানে সোনালি হলেও পুড়িয়ে মারে,
বৃষ্টি ভিজিয়ে দেয় ঠিকই, কিন্তু ভেজায় না মন।
ভাড়াটে ঘরের দেয়ালে ঝুলে থাকে স্বপ্নের ক্যালেন্ডার,
প্রতিদিন দিন ফুরোয়, কিন্তু স্বপ্ন বাঁচে না।
এই শহরে মানুষ হাঁটে ছুটে,
কিন্তু কোথাও পৌঁছায় না—শুধু ছুটতে থাকে।
এখানে ভালবাসা মুঠোফোনে আসে,
আবার হারিয়েও যায় একইভাবে।
রেললাইনের ধারে বসে থাকা ছেলেটাও জানে—
এই শহর তাকে ফেরাবে না, তবু সে বসে থাকে।
ভিক্ষে করা বুড়োর চোখেও একদিন ছিল প্রেম,
যা এখন হারিয়ে গেছে ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে।
এই শহর শিখিয়েছে—
ভালো থাকতে হলে মুখে হাসি রাখতে হয়,
মন কাঁদলেও চলবে না, হাসতে শিখতে হবে।
মায়ের ফোন এলে বলতে হবে, “ভালো আছি,”
যদিও বিছানায় পেট চেপে ধরে শুয়ে থাকা দিন কাটছে।
বন্ধুদের বলি—ব্যস্ত আছি,
আসলে ব্যস্ত নই, শুধু ক্লান্ত।
এই ক্লান্তি কাউকে দেখানো যায় না,
কারণ, সবাই ব্যস্ত নিজের ক্লান্তি নিয়েই।
এই শহর শেখায়—
প্রেম নয়, প্রয়োজনই বড়ো সত্য।
যত্নের মানুষ পাওয়া যায় না এখানে,
পাওয়া যায় প্রয়োজনমতো সঙ্গী।
তবু এই শহর ছেড়ে যাওয়া যায় না,
কারণ, সে অভ্যাস হয়ে গেছে—
রাতের নিঃশব্দতা, ট্রাফিকের শব্দ,
আর ফুটপাথে ঘুমানো শিশুদের নিদ্রাহীনতা।
এই শহরটা আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে—
হয়তো খুব নিষ্ঠুরভাবে,
তবুও ধন্যবাদ জানাতে হয়,
কারণ, এখানেই আমি বড় হচ্ছি—
ধীরে ধীরে, কঠিন হয়ে।