অন্তরের গহীনে লুকানো যন্ত্রনা কেউ দেখে না, কেউ জানে না, কেউ বুঝে না। তোমার আচরণে যে ব্যথা আমি পেয়েছি তা বুকের পাজর ভাংগার চেয়ে কোন অংশে কম নয়।
তুমি জানো কখনও কখনও ক্ষোভ প্রকাশ করতে যাওয়া সহজ হয়ে পড়ে।
কিন্তু আমি সে পথে হাঁটতে চাইনি।
চিৎকারের মধ্যে যে সুর বেজে ওঠে, তাকে আমি থামিয়ে রাখতে চেয়েছি।
অভিযোগ করা যত সহজ, আমার মনে হয়েছিল সে পথে পা রাখা ঠিক হবে না। তবুও অবুঝ শিশুর মতো সব ভুলে সে পথে পা বাড়িয়েছি কারণ পারিনি আমি সংবরণ করতে।
একটা সময় তোমাকে বুঝাতে না পেরে নিজেকেই বুঝালাম এবং ভয়ংকর একটা আত্মাঘাতি সিদ্ধান্ত নিতে অনুপ্রাণিত হলাম। আমি অনুভব করেছি,
তোমার কাছে থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেওয়া উচিত। দুজনের তৈরি করা পথে বহুদূর একসাথে হাটার স্বপ্ন দেখেছিলাম কিন্তু তা আর হলনা। দমকা হাওয়ায় ভেসে গেলো সব।
সেই চুপচাপ বিদায়ের সময়, আমার মনে হয়েছিল, তুমি হয়তো জয়ী।
কিন্তু আসলে তুমি যে জয়ের জন্য লড়াই করেছো সেটি একজন পরাজিতের মতোই।
আচ্ছা, তুমি কি জানো? সময়ের সাথে সাথে সেই নীরবতা অদৃশ্য হয়ে যায় না।
বরং তা সময়ের সাথে আরো গভীর হয়।
তোমার বিবেকের দরজায় সেই নীরবতা কড়া নাড়বে। হয়তো তুমি নিজেকে বোঝাতে পারবে,
যে তুমি তাদেরই একজন যে সত্যিকার অর্থে জিতেছে।
কিন্তু যখন সত্যি সত্যি বদল আসে,
তখন বুঝতে পারবে নীরব প্রতিবাদ যে গর্জন করে না।
তা কিছুটা আঘাত করেও কিন্তু চুপ করে থাকে।
কারণ এই নীরবতা ধীরে ধীরে একদিন ধারণা তৈরি করবে, অন্তরে জন্ম দেবে অনুশোচনার।
এখন আমি ভাবি, আমাদের সম্পর্কের সেই গভীরতায় কি আসলেই কোনো আশা ছিল?
প্রত্যেকটা মুহূর্তে যখন তুমি আমাকে আঘাত করেছো আমি চুপ ছিলাম।
কিন্তু এই চুপ থাকা কখনও কখনও সবচেয়ে বেশি কথা বলে।
সম্পর্কের বিভিন্ন দিকের মধ্যে যে বলিষ্ঠতা ছিল তা ধীরে ধীরে নিভে গেছে।
তবুও আমি জানি আমি তোমার জীবন থেকে চলে আসার পর,
তুমি একদিন বুঝতে পারবে যে এই কঠিন পথে কিছু জয়ী হওয়ার পরিবর্তে,
আমি শুধু নীরবতায় পাড়ি দিয়েছি।
এলদিন হয়তো তুমি আমার স্মৃতিকে নস্টালজিয়া হিসেবে ভাববে।
কিন্তু চুপচাপ বিদায় দেওয়া তোমাকে একদিন ভয়ংকরভাবে ভাবাবে।
সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার নামই জীবন নয়। জীবন মানেই ভুল আর সঠিকের সংমিশ্রণ। সব আইন মেনে চললে জীবন নিরানন্দ হয়ে যায়।
আমার এই নিঃশব্দ প্রতিবাদ একদিন তোমার হৃদয়ে অনুশোচনার বীজ বপন করবে, যখন তুমি উপলব্ধি করবে, সত্যিকারভাবেই কিভাবে অতি নীরবে কষ্ট বয়ে যায়।