তাকে শেষবার যখন দেখেছিলাম,
তখন সন্ধে নেমে এসেছিল চুপিচুপি।
আকাশে মেঘ ছিল না,
কিন্তু মনটা ভারি হয়ে ছিল অকারণেই।
সে কিছু বলেনি—শুধু তাকিয়েছিল,
ঠিক যেমন কেউ তাকায় শেষবারের মতো
একটি চেনা জানালার দিকে,
যেখান থেকে আর আলো আসে না।
আমি জানি না, আমি তখন কি বলেছিলাম।
হয়তো কিছুই না।
আবেগেরা তখন বুকের ভেতর—
এমনভাবে গিঁট বেঁধে বসেছিল যেন তারা জানত—
যা বলা যায়,
তার থেকেও বেশি থেকে যায় না-বলা কথার মধ্যে।
ভালোবাসা শুধু তার প্রকাশ নয়,
তার অনুপস্থিতিও এক ধরনের ভাষা।
আমি তাকে ভালোবেসেছিলাম, নিঃশব্দে, নিঃশর্তে। অথচ প্রতিবার সে চলে গেলে আমার ভেতরে কিছু ভেঙে পড়ত,
আর আমি কিছুতেই শব্দ করতে পারতাম না।
মানুষ ভাবে, সে বুঝে ফেলে নিজেকে।
অথচ এই বুকের পাঁজরে লুকানো আবেগগুলো একদিন এমনভাবে চেপে বসে যে নিঃশ্বাসে নিতে গেলেও চোখ ভিজে যায়।
এমনই ভাবে অনেক বছর কেটে গেছে,
সে এখন কোথায় আমি জানি না।
তবু কোনও সন্ধ্যায় যখন হাওয়ার মধ্যে নেমে আসে পুরনো দিনের ঘ্রাণ,
আমি চমকে উঠি—ভাবি, সে কি ফিরে এলো?
আসলে, কেউ ফিরে আসে না।
শুধু আবেগেরা থাকে, আর বসে থাকে,
বুকের গহিনে জমে থাকা সেই না-বলা কথারা—
যারা চিরকাল চুপ করে থাকে,
আবারও এক সন্ধ্যায় কাঁদিয়ে তোলে নিজেকে।