ঘরের ভেতর একটা নিঃশব্দ কান্না জমে আছে বহুদিন।
চারপাশে দেয়াল, দরজা-জানালা, ছাদের নিচে মাথা—সব আছে, শুধু নেই মুক্তি।
মানুষ ভাবে, ঘর মানেই শান্তি।
কিন্তু ক’জনই বা জানে, এই ঘরই কখনও কখনও হয়ে ওঠে বন্দিশালা।
ভোরে উঠে সংসারের ছকে বাঁধা জীবন,
সারাদিন অন্যের চাহিদা মেটাতে মেটাতে নিজের চাওয়া গলিত হয়ে যায়।
নিজের মতন কিছু করার স্বপ্নগুলো
দরজার পেছনে ধুলোর স্তূপে চাপা পড়ে থাকে।
অথচ জীবন তো একবারই আসে,
এটা তো কোনো পরীক্ষার খাতা না—যেখানে ভুল করলে আবার লিখে ফেলা যায়!
এখানে সময় গেলে ফেরে না,
এখানে ‘কাল’ বলে কিছু নেই—শুধু আজ আছে, আর এখন।
তবু মানুষ বাঁচে, মানে বেঁচে থাকার অভিনয় করে।
মুখে হাসি, বুকে দীর্ঘশ্বাস,
চোখে বিস্ময়, মনে একরাশ না-পাওয়ার ক্ষোভ।
জানি, সবাইকে খুশি রাখা যায় না,
তবু নিজেকে খুশি রাখার চেষ্টাটুকুও ছেড়ে দিয়েছে বেশিরভাগ মানুষ।
নিজের মতো করে বাঁচা যে অপরাধ নয়—এই সত্যিটা ভুলে গেছে সবাই।
ঘর দরকার, সম্পর্ক দরকার, দায়িত্বও দরকার—
তবে সবের আগে দরকার নিজের জন্য কিছু নিঃশ্বাস, কিছু আলো, কিছু স্বপ্ন।
ঘরে আর মানুষ বাঁচে কয়দিন!
নিজের মতো করে না বাঁচলে, সে বাঁচা তো আসলে বেঁচে থাকা নয়,
বরং ধীরে ধীরে নিজেকে গলিয়ে ফেলা এক মৃত জীবনের নাম।