এই বাংলায় কথা গুলি এখন বন্দুকের গুলির মতো—
একবার ছুটলেই কারও না কারও বুক ফাটে।
এখানে শব্দ দিয়ে খুন হয় অনায়াসেই
এখানে স্ট্যাটাস দিয়ে জ্বলে উঠে জনপদ!
কে বলে সত্য? কে গুজব ছড়ায়?
তফাত মেলানো আজ অলীক সাধনা।
সামাজিক যোগাযোগের এই দেয়ালজুড়ে
লেগে আছে বিদ্বেষের রঙ, উস্কানির আঁচ।
এমন কিছু বলা হয়,
যেটা না বললেই বেঁচে যেতো
কত শত জীবন, কত নিরপরাধ মানুষ
শুধু একটুখানি লাইক ভিউ এর আশায় জ্বলে যায় পুরো গ্রাম।
ক্ষমতা যার, সেই হয়ে যায় রাবণ—
আজকাল রাবণদের সিংহাসন থাকে সোনার ফ্রেমে,
তার চারপাশে থাকে মুখোশধারী বন্দনা।
শাসক বদলায়, শোষণ বদলায় না।
প্রশাসনও একদিন হয়ে যায় দলের মুখপাত্র,
সাধারণ জনতার কান্না তখন ফাইলের নীচে চাপা পড়ে যায়।
কেউ আর শোনে না সেই কণ্ঠ—
যে সত্য বলে, যে শান্তির গান গায়,
তার ঠোঁট সেলাই করে দেওয়া হয় রাতের আঁধারে।
এই বাংলায় এখন আগুন জ্বলে শব্দে,
ধ্বংস হয় মগজ, বিভ্রান্ত হয় মন।
আর মানুষ?
সে বিভক্ত হয় পোস্টে, কমেন্টে, প্রতিক্রিয়ায়।
এখানে শান্তি এখন নিছক কবিতার লাইন—
বাস্তবে কেবলই উস্কানির রাজত্ব।