ঝরা পাতা কি সত্যিই হেমন্তের ঋণ শোধ করতে পারে?
যে পাতা একদিন সবুজ ছিল, ছিল জীবনভর আলো টেনে নেওয়ার ক্ষমতা,
আজ সে নীরবে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
মাঠজুড়ে ছড়িয়ে থাকা পাতার স্তূপ—
কেউ ভাবে ওরা মৃত, কেউ ভাবে ওরা পরিত্যক্ত।
কিন্তু কেউ ভাবে না—ওরা আসলে হেমন্তের কাছে দায়মুক্ত হওয়ার শেষ আকুতি।
প্রকৃতির হিসাব বড় কড়াকড়ি।
হেমন্ত আসে শুষ্ক বাতাস নিয়ে,
আনে সিঁদুরে বিষণ্নতা, ঠাণ্ডার কাঁপুনি,
আর সেই সাথে—এক কঠিন দাবি:
“সময় হয়েছে তোমার সমস্ত ঋণ ফেরত দেওয়ার।”
পাতারা তাই ঝরে পড়ে—
ঝরা পাতারা কাঁদে না, চিৎকার করে না,
তারা জানে—মাটির কোলে ফিরে যাওয়া মানে শেষ নয়,
বরং এ এক নিঃশব্দ প্রার্থনা,
একটা ঋণমুক্ত হবার নিরব প্রতিজ্ঞা।
কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—
এভাবে ঝরে পড়ে কি সত্যিই শোধ হয় হেমন্তের দাবিগুলো?
না কি জীবন এমনই—
যেখানে সব দিতে হয়,
তারপরও কিছু না দেওয়ার দায়ে বিচার হয় প্রতিদিন?
আমি দেখি,
নিজের ভেতরেও যেন কোনো এক পাতা প্রতিনিয়ত ঝরে পড়ে।
তবু হেমন্তের দাবি শেষ হয় না।
আমার ভেতরের বৃক্ষ জানে—
সব ঋণ কখনো শোধ হয় না,
কিছু ঋণ নিয়ত বয়ে চলতে হয় ঝরা পাতার মতো—
নীরব, নিঃশব্দ, কিন্তু অনিবার্য।