যেদিন রক্তে রাঙানো শিশুর জামা
দেখে কেউ ক্যামেরা তুলবে না—
বরং জড়িয়ে ধরবে তাকে,
কাঁদবে… ঠিক একজন “মানুষের” মতো।
আমরা মানুষ হবো কবে?
যেদিন মৃত্যু হবে না ভাইরাল কনটেন্ট,
হত্যা হবে না নীতি নিয়ে রাজনীতি,
আর ক্ষমতা হবে না দুর্বলকে পিষে তোলা সিঁড়ি।
কবে আয়নার দিকে তাকিয়ে
লজ্জায় মুখ ফিরিয়ে নেবে প্রতিটি বিবেক?
কবে মিথ্যার হাসিতে মুখোশ পড়বে না কেউ?
কবে সত্য বলার সাহস হবে না, দায় হবে?
আমরা মানুষ হবো কবে?
যেদিন ক্ষুধার্ত মানুষকে দেখে
রাস্তার কুকুরও কেঁদে উঠবে না করুণা নিয়ে—
কারণ তখন আর মানুষ পশুর চেয়েও নিচে নামবে না।
যেদিন ধর্ম হবে না রক্তের বাজার,
নামে নয়, কাজেই চিনবে আল্লাহকে, ঈশ্বরকে—
কাফের বানাবে না কাউকে শুধু প্রশ্ন করলেই।
আমরা মানুষ হবো কবে?
যেদিন মেয়ের জন্মদিনে বাবা গলায় দড়ি দেবে না,
দরজায় চিকিৎসা না পেয়ে মা মরবে না,
আসনের রাজা খাবারের জন্য
মাটির রাজাকে হত্যা করবে না।
কবে নালায় জন্ম নিয়ে
এক শিশু বলবে না—
“আমি বাঁচতে চাইনি!”
আমরা মানুষ হবো কবে?
যেদিন ভালোবাসা হবে আগুনে পোড়া নয়,
শরীরের লালসা নয়—
নির্ভরতা, শ্রদ্ধা, আর নির্মল চোখের ভাষা।
আমরা মানুষ হবো কবে?
যেদিন হাত বাড়িয়ে কেউ বলবে না—
“তুমি আমার জাত নয়”,
বরং বলবে—
“তুমি আমার মতোই মানুষ।”
সেই দিনই মানুষ হবে মানুষ।