এই মৃত্তিকাই আমাদের অস্তিত্ব
স্মরণে রেখো,বিক্ষুব্ধ তরঙ্গ মাঝে পথের ঠিকানা
পাহাড়ী ঝরণা বেগে আবেগে ভেদরেখাহীন সীমান্ত।
দশদিক মন্থন শেষে একটি প্রান্তবিন্দু,কাঙ্খিত জানালা
দুর্গম অরণ্য ছিন্ন ভিন্ন করে নেমে আসা নদীর মোহনা ।
প্রশ্ন তবু থেকেই যায়—
মুক্তির মন্ত্র পড়া প্রাণমুখর দিনলিপির ধাপ
এমন স্বচ্ছ স্নিগ্ধ ঝরণা কেন রক্তনদী অভিশাপ !
আত্মঘাতী আফিমে বুঁদ নির্বোধ চক্র নিরন্তর
জননীর দিকভ্রান্ত সন্তানের বুকে গোটা অজগর।
বুকখানি মুষড়ে দুর্মদ আত্মপীড়ায়
লাল গোলাপের গল্পটি কেন উলঙ্গ সন্ত্রাস
মৃত্তিকার বুকে তাজা রক্তের অযুত ধারা
এখনও বহমান খুঁড়ে ফেলা মাটির প্রতিটি শিরায়
অলক্ষ্যে সন্তান তোমার হাঁটু মুড়ে প্রার্থনায়।
আত্মবিনাশী অহংকার পরাধীনতার শেকল
হৃদয় ছিঁড়ে বিদীর্ণ চিৎকার অন্ধকারের পালক-তল।
দুর্বৃত্ত সময়ের পৃষ্ঠায় লিখতে থাকে ষড়যন্ত্রের শ্রুতলিপি
রচনা করে দাসখতের প্রাচীন স্বরলিপি।
কলংকতিলক নিয়ে উড়াল দেশ দেশান্তর
বিশ্ববাসী অঙুলি তুলে ঘৃণাভরে—
কৃতঘ্ন হন্তাকারক,বিশ্বাসঘাতক !
মুক্তিমন্ত্র অগ্নিকণ্ঠে,গোলাপ জয়ের দুর্বার বাসনায়
ঋণশোধে স্বচ্ছ সলিল বুকে রাজদণ্ডের ক্ষিপ্ত বুলডোজার।
অস্তিত্ব নড়ে ওঠে আমার,পরমাণু বিস্ফোরণ বুকের ভেতর
জ্বলতে থাকা দাহিকা,দুহাতে মুখ ঢেকে অরব চিৎকার
অক্ষরে অক্ষরে আর্তনাদ অস্থির টঙ্কার
শুনতে পাই হাজার নদীর কান্নায় বঙ্গোপসাগর।
সঞ্চিত ক্লেদ এখনও মাতৃভূমির কোণে কোণে
সারিবদ্ধ শিকারীদল উষ্ণ আলিঙ্গনে।
মৃত্তিকার নীড়ে অগণিত অদৃশ্য ব্যাকটেরিয়া ছত্রাক
ওরা জানেনা হেমলকের নীলে অমর সক্রেটিস
সহস্রাব্দ কালের ইতিহাসের জনক।
পাঠ করি নিত্য হিমালয়সম স্বাধীনতাস্তম্ভ
নির্দ্ধিধায় মুক্তির মূল মন্ত্র,এ মাটিই আমাদের দম্ভ।
অলৌকিক সুরে ভালোবাসার মৌতাত প্রাঞ্জল সঙ্গীতে
দেশপ্রেমের দীর্ঘ প্রতিশ্রুতি,ব্যর্থ পরিক্রমায়
অন্তর্সন্ন্যাসে ধুঁকছে মানুষ,ধুঁকছে রাষ্ট্র
তাইতো পিপাসার্ত প্রশ্ন থেকেই যায় বুকের নদীতে।
স্বত্ব সংরক্ষিত
১১/৮/২০২৫