প্রকৃতির নিয়মে আমি বয়ে চলি—
ঠিক যেন নদী, সাগরের দিকে,
তারপর সমুদ্রে, মহা সমুদ্রে…
এই চলার যেন শেষ নেই।
বাড়িতে এসে মা, বোন,
সবাইকে রেখে আবার যাত্রা কর্মজীবনের পথে।
লুকিয়ে লুকিয়ে চোখ ভিজে যায়,
বোনেদের হাঁপিয়ে ওঠা নিঃশ্বাস
ফিসফিস করে বলে—
“আপু, চলে যাবে… কিভাবে থাকবো?”
এক মাস দশ দিনের সঙ্গ
আজ যেন হয়ে গেলো চিরবিদায়ের মতো ভারী।
সবার জ্বর, বমি,
তবুও ছাড়তে হবে,
কারণ দায়িত্বের ডাক অমান্য করা যায় না।
আমার দুঃখ নেই, কষ্ট নেই—
কারণ সেগুলো আমি গিলে খেয়ে বাঁচি,
দায়িত্বকে কাছে নিয়ে
শিখেছি—
কষ্ট পেতে নেই।
তবুও হৃদয়ের ভেতর কোথাও
একটা শূন্যতা খেলা করে,
যেন আঙিনার তুলসী গাছ
আমার ফেরার দিনের অপেক্ষায় আছে।
মায়ের সকালের ডাক,
বোনের হাতের রান্না,
সন্ধ্যার গল্পের আসর—
সব যেন পিছে ফেলে যাচ্ছি আমি।
ট্রেনের জানালায় তাকিয়ে দেখি,
গ্রাম, মাঠ, নদী পেরিয়ে যায়,
কিন্তু মন পড়ে থাকে ঠিক সেই বারান্দায়
যেখানে একসাথে বসে চা খেয়েছিলাম।
জীবন আমাকে ঠেলে দেয় দূরের শহরে,
যেখানে ভিড় আছে, কাজ আছে,
কিন্তু নেই এই পরিচিত মুখগুলোর উষ্ণতা।
আমি জানি, এই নদীর মতো চলা
একদিন আমায় আবার ফিরিয়ে আনবে ঘরে,
যখন দায়িত্বের সমুদ্র একটু শান্ত হবে।
ততদিন আমি বয়ে যাবো,
অশ্রু, ভালোবাসা আর স্বপ্ন বুকের ভেতর
লুকিয়ে রেখে…