যেখানে সত্যের গান গাইতে যাই—
মাইকের ভেতর ঢুকে পড়ে রেকর্ডেড মিথ্যা।
যেখানে আশার আলো জ্বালাতে যাই—
বাতির সুতোর ভেতর ফেটে যায় শূন্যতা।
অন্ধকার তখন
নিজেকে সাজিয়ে তোলে আলোর নামে।
আমি এক শহরের মানুষ—
যেখানে প্রতিটি বিলবোর্ডে বিক্রি হয় মুখোশ।
হাসির আড়ালে হায়নার দাঁত।
প্রেম মানে ডিসকাউন্ট কুপন।
বিশ্বাস মানে ক্ষুদ্র অক্ষরের ফাঁদ।
ভণ্ডামি—এক অবিনশ্বর মুদ্রা—
যা প্রতিটি হাতবদলে টনটন করে বাজে।
শহরের প্রতিটি মোড়ে মুখোশধারী!
রাজনীতি এখানে পতাকার বিজ্ঞাপন।
অন্ধকার ঢেকে রাখা হয় ফুলেল পোশাকে।
শহরের প্রতিটি মোড়ে মুখোশধারী!
কেউ কবিতা লিখে সোনার দাম তোলে—
কিন্তু শব্দ গলে যায় প্লাস্টিকের মতো।
কেউ ধর্মের নামে ছিটিয়ে দেয়
বিষাক্ত ধূপের ধোঁয়া।
আর কেউ—
ভালোবাসার অভিনয়ে—
মানুষের আত্মা কেটে নেয়
শল্যচিকিৎসকের ছুরির মতো।
আমি তো চেয়েছিলাম স্বপ্ন—
বৃষ্টির কোলাজ।
কিন্তু ছলনার ছাতার নিচে
প্রতিটি ফোঁটাই বিষাক্ত।
আমি তো চেয়েছিলাম মানুষ—
এক মুক্ত দীপ্ত সত্যবত
যার চোখে সমুদ্রের গভীরতা,
যার কণ্ঠে ভোরের প্রথম ডাক।
কিন্তু সে তো হলো প্রতিচ্ছবি—
আয়নার ভেতর আরেক আয়না
ভালোবাসার ভেতর শূন্যতার প্রতিধ্বনি।
আমি কোথায় যাব?
কোথায় পাব খাঁটি মানুষ—
যে সুন্দর অথচ অহংকারহীন,
যে শিক্ষিত অথচ মাটির গন্ধে ভেজা,
যে ভালোবাসবে মুখোশ ছাড়া।
না—
আমি হাল ছাড়বো না।
আমি লিখবো বিপ্লবের কবিতা।
আমি ছিঁড়ে ফেলবো মুখোশের টেক্সচার।
হয়তো চৈত্রের দহন দুপুরে।
হয়তো বর্ষার ভিজে রাস্তায়।
আমার হাত ধরবে সেই মানুষ—
যে মুখোশধারী নয়।
যে সত্য।
যে ভালোবাসা।
তবুও আমি চিৎকার করি—
শহরের প্রতিটি মোড়ে মুখোশধারী
শহরের প্রতিটি মোড়ে মুখোশধারী।
তবুও আমি দাঁড়াই।
তবুও আমি লড়ি।
ছলনার ছায়া যত দীর্ঘ—
সত্যের ক্ষুধা
ততটাই তীব্র।