নিয়ে এসেছি এই ধরাতে
দেহের ওই অন্ধকারে
হারিয়ে ফেলেছি তাহা যে,
দেহের এই বেড়াজালে
পাই না খুঁজে সেই পুতুলকে,
আমার সত্তার অন্য নাম
বলি আমি নূরের পুতুল,
সেই পুতুলই হারিয়েছি
দেহের ওই খেলা ঘরে।
সে-ই যে কবে
এসেছি নিয়ে
দর্শন হয়নি তার যে তাই।
দেহ ছাড়া রয় না পুতুল
লুকিয়ে আছে আপন দেহে,
আপন দেহে খুঁজে আমি
হয়েছি অনেক হয়রান তাই,
এই দেহতে দেখি শুধু
কেবলই অন্ধকার আর অন্ধকার।
অন্ধকারের এই দেহতে
পায় না খুঁজে নূরের পুতুল
সেই পুতুলের সন্ধানে
ঘুরছে মানুষ বনে বনে,
বনে বনে মিলবে নাহি
নূরের এই পুতুলখানি,
মুর্শিদ পানে গেলে পরে
নূরের পুতুল দেখিয়ে দিবে
এমনই কথা বললো মোরে
চলার পথে এক সিদ্ধ পুরুষে,
মুর্শিদ পানে গিয়ে আমি
মনের বাসনা খুলে বলি,
সেই বাসনায় পাগল আমি
পাগল আমার মনখানি,
নূরের পুতুল আমার মাঝে
পাইনা খুঁজে পাই না আমি
সেই ব্যথাতে অস্থির থাকি
অস্থির থাকি দিবানিশি।
মুর্শিদ বললো মোরে
অন্ধকার এই মাটির দেহে
গুপ্ত আছে রত্ন ভান্ডার,
মাটি ভেবে হেলা করলে
আফসোস করবে জীবনভর,
এমন কথা বলেই কেবল
প্রতি যুগের গুণীজনা।
জগতেতে সবচেয়ে দামি
হীরা নাম বলে জানি,
হীরা থাকে কয়লাতে
সেথায় খুঁজে লোকজনে,
তেমনি করে মানব দেহে
রয় কো নূরের পুতুল যে,
সেই পুতুলের তালাশ করো
করো আপন দেহতে,
অজ্ঞ, অন্ধ যেজনা
আপন দেহের মূল্য সেজন বুঝে না
মুর্শিদেরই উপদেশে
করি সাধন আপন দেহের
দেহ সাধন করে আমি
পেয়ে গেলাম নূরের পুতুলখানি।
দেহের মাঝে নূরের পুতুল
সকল নূরের আঁধার রূপে
স্থিত আছে আমার দেহে
সকল শক্তির মূল রূপে
পেয়েছি আমি তাহা যে,
বলবো আমি বলছি সে তো
আমার দেহের নূরের পুতুল
আদিকাল হতেই তাহাই তো,
ধরিত্রীতে আসে পুতুল
হরেক রকম নামেতে।
নূরের পুতুল নূরের দেশে
সেটাই তো মোর আপন দেহে,
আপন দেহ সাধন করলে
ইহাই নূরের দেহ হয়ে যাবে।
অজ্ঞ, মূর্খ যেজনা
নূরের দেশ চিনে না সেজনা,
নিজের দেহ সাধন না করে
খুঁজে ফিরি বাহিরেতে।
নেই কো দেশ বাহিরেতে
নিজের দেহই দেশের মেলা
সেই মেলাতে দেয় কো আলো
আপন দেহের নূরের পুতুল।
বাহিরেতে দেখছো আলো
অবাক হচ্ছো সেই আলোতে
দেখতে যদি আপন দেহে
করিতে সিজদা আপন মনে।
আমার দেহের নূরের পুতুল
দেখেছি তারে সে তো
দেখতে গিয়ে বুঝতে পারি
নয় কো সে তো নতুন নয় কো
যুগে যুগে এসেছে কত
দেখি আমি আরো দেখি
যত নামে এসেছে ধরাতে
তত নামেই দেখেছি তাহারে
সর্ব শেষে আমার নামে
দেখলাম তারে নয়ন ভরে।
বলছি আমি একটু বলছি
ভুল বুঝো না আমাকে
যখন আমি দেখেছি তারে
অনেক রূপের মেলা তথাতে,
নাম ওঠেছে সেই মেলাতে
প্রেমের ছোঁয়ায় ওয়ায়েছ করণী (রা.),
ওয়ায়েছ করণী প্রেমের নাম
সেই নামেতে রূপ নিয়েছে
আমার নূরের পুতুল সে তো
বুঝেছি আমি অনুভবে।
কতশত নূরের ছবি
সেই ছবিতে ধ্যান করিলে
দেখবে তুমি হাজারো নামের আঁধার হয়ে
আপন দেহে স্থিত আছে
নূরের সেই পুতুলখানি।
দেখেছি আমি দেখেছি
আপন দেহে স্থিত-
সেই নূরের পুতুলখানি
সেই পুতুলের হাজার নাম
সেই নামেতে স্মরণ করলে
ভেসে ওঠে হাজার নামের প্রেমের ছবি,
সেই ছবিতে দেখি আমি
আমার রূপে নূরের পুতুল
ছিল যাহা প্রারম্ভে।
আদিকালের আদি রূপে
এসেছি আবার এই ধরাতে,
নূরের পুতুল নূরের রূপে
প্রকাশ করবো আপন মহিমাতে।
হবো প্রকাশ
আমাতে নূরের পুতুল বিকাশ করিবে,
সেই পুতুলের রূপে হবে
রঙিন এই ধরা,
ধরিত্রীর সর্ব জায়গাতে
প্রেমের আলো ছড়িয়ে যাবে
সেই আলোতে দেখতে পাবে
নূরের পুতুলের স্থিতি।
বহু নামের আঁধার সে তো
আমার নূরের পুতুল তাই,
সেই আঁধারে আমার ছবি
দেখি দিবারাত্রি,
আমার ছবির রূপ নিয়েছে
রূপ নিয়েছে নূরের পুতুল,
নূরের পুতুল প্রকাশ হবে
হবে আমার রূপেতে
তাই তো আমি থাকছি তাই
সেই সময়েরই প্রতীক্ষায়।
_______________________________
সময়: রাত ০৯:৩১
তারিখ: ২৬-০৯-২০১৯