আমি সেই তিন ঘন্টা ধরে সেজেগুজে বা’ স’ র ঘরে বসে আছি। আমার জামাইয়ের কোনও খোঁজ নেই । এখন রাত দুই টা বাজে । আমার দুই ননদ বা’সর ঘরে বসিয়ে দিয়ে গেছে । আর যাওয়ার সময় বলে গেছে ভাইয়া কে পাঠিয়ে দিচ্ছি । কিন্তু তার কোনও খবর নাই। মনে হচ্ছে বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে আছে । এটাই স্বাভাবিক । এই কয়দিন বিয়ের ঝামেলায় সবাই কাহিল। কিন্তু আমার জামাই গেল কই। নতুন বউ আমি । সব কিছু ভাল করে চিনিও না। কি যে করি ।
,,
ওহ আপনাদের তো আমার পরিচয় টাই দিলাম না । আমার নাম জুথি । এবার এইস এস সি পরীক্ষা দিলাম । আমার তিন বোন । আমি সবার ছোট । বড় আর মেজ আপু নিজেদের পছন্দ মতোই বিয়ে করেছে । এই জন্যই আমি আমার বাবার পছন্দ করা ছেলে কে বিয়ে করেছি। জীবনে অনেক ছেলে কেই ভাল লেগেছে । কিন্তু ভাল বাসিনি। আমি সব সময় চেয়েছি বাবার পছন্দ করা ছেলে কেই বিয়ে করবো । আমার জামাই একটা কলেজের প্রফেসার । খুবই সাদাসিধে মানুষ । আমি যেমন তার ঠিক উল্টো টা। বান্ধবী দের কাছে শুনতাম । ছেলে রা বেশি লেখাপড়া করলে নাকি দিন দিন বলদ হয়ে যায় । আমার জামাই টা ও সেইরকম ।
আর এই বলদ কে মানুষ করার দায়িত্ব আমাকে দিয়েছেন আমার শশুড় মশাই ।
,,
শুরু থেকেই বলি ,,,,
,,
একদিন বিকালে বসে বসে গল্পের বই পড়ছি। এমন সময় বাবা হাঁপাতে হাঁপাতে এসে বললো আমার মাকে ,,,
,
— কই গো জুথির মা !!!
:– কি হলো আবার ??
:– আজকে রাস্তায় একটা ছেলে কে দেখলাম । অনেক ভাল । গরিব মানুষের অনেক উপকার করছে । আমার ভিষন পছন্দ হয়েছে ছেলে টাকে । আমার এক বন্ধুর পরিচিত । বন্ধুর মুখে সব খোঁজখবর নিয়ে জানলাম । খুবই ভাল পরিবার । দুই বোন এক ভাই । ছেলে টা প্রফেসার । দেখতে শুনতে খুবই ভাল । জুথির সাথে ও ভাল মানাবে । তাই আমার ওই বন্ধু কে দিয়ে সব খোঁজ খবর নিতে পাঠালাম ।
,
:– কিন্তু জুথি কি এখন বিয়েতে রাজি হবে ???
,
:– হবে মানে ,,, একশো বার হবে । আমি আমার এই মেয়ে টার উপর ভরসা রাখি ।
,,
,,
সে দিন বাবার এই কথা শুনে পুরাপুরি ভদ্র মেয়ে সেজে গেলাম । কি আর করার । সব ভাল লাগার মানুষ গুলো কে ভুলে গেলাম । এক সপ্তাহ পরেই আমাকে দেখতে এলো । আমাকে তাদের পছন্দ হলো । ছেলে আর আমাকে একটা রুমে পাঠানো হলো । আমার দুই দোলাভাই দের আগ্রহ তে । আমার থেকে আমার দুই দুলাভাই বেশি খুশি । কেন বুঝলাম না । আমি ছেলের সামনে বসে আছি । কিন্তু বুঝতে পারছি না । আমি ছেলে দেখতে এসেছি । নাকি ছেলে আমাকে দেখতে এসেছে।
,,
সে চুপ চাপ নিচের দিকে তাকিয়ে আছে । আমার মনে হচ্ছে কি যেন দেখছে মনোযোগ সহকারে । আমি একটু নড়েচড়ে বসলাম । সে ও একটু নড়েচড়ে উঠলো । এবার দেখলাম ঘরের সব কিছু খুঁটে খুঁটে দেখছে । তাকে যেন বলা হয়েছে ঘরের সব কিছু দেখতে । আমার মেজাজ খারাপ হচ্ছে । আমার আবার এই একটা দোষ । অল্প তে রেগে যাই । এবার আমি তাকে বললাম ,,,,
,,
,
:– আপনার ঘরের সব কিছু দেখা শেষ হয়েছে ???
,
:– ইয়ে না মানে !!!
,
:– কি মানে মানে করছেন ???
,
:– আমাকে কিছু জিগ্যেস করুন ??
,
:– ওহ তাইতো !! আমার নাম মাহদি । আপনার নাম জানতে পারি ???
,
:– নাহ পারেন না ।
,
:– ওহ ঠিক আছে । সমস্যা নেই । পরে জেনে নেব ।
,,
এই টুকু কথা বলে আবার চুপ করে আছে । এবার দেখলাম পকেট থেকে মোবাইল বের করে অযথা টিপাটিপি করছে । আমার মেজাজ এবার আরও গরম হয়ে গেল । আমি বললাম, ,
,,
:– আর কিছু বলবেন ?? ( আমি )
এবার ও নিচের দিকে তাকিয়ে বললো ,,
,
:– আপনি কাউকে ভালবাসেন ??
,,
আমি অবাক হলাম কথা টি শুনে । আমার বলদ জামাই বলে কি । আমি কিছু বলার আগে বললো ,,,
,
:– সমস্যা নেই । বি’য়ের আগে সবাই কম বেশি প্রেম করে । বিয়ের পরে কি করে সেই টাই দেখার বিষয় ।
,,
সেই দিন আমি আমার জামাইয়ের প্রেম এ পড়ে গিয়ে ছিলাম । কতো ভাল একটা মানুষ ।
,,
,,
যাওয়ার আগে আমার শশুড় মাথায় হাত দিয়ে বলেছিল । জুথি মা !!! আমার ছেলে টা ছোট বেলা থেকে লেখা পড়া ছাড়া কিছু বোঝেনি । ওর কোনও বন্ধু ছিল না । সারা জীবন শুধু বই পড়ে কাটিয়ে ছে। এই জন্যে একটু অন্য রকম । তুমি ওকে ঠিক করো। আজ থেকে ওর দায়িত্ব তোমাকে দিলাম । আমি চুপ করে ছিলাম । এটাই ছিল আমার নিরব সম্মতি।
,,
,,
,,
সবাই চলে যাওয়ার পর দুই দুলাভাই ধরলো ,,,
,
:– কি গো শালিকা কেমন লাগলো ???
,
:– ঘোড়ার ডিমের মতো ।।
,
:– কিন্তু তোমাদের এতো আগ্রহ কেন শুনি ???
,
:– কি যে বলো ,,, তুমি আমাদের একমাত্র শালি । তোমার সব ভাল মন্দ আমাদের ই দেখতে হবে না ।
,
:– যার যার বউয়ের খোঁজ খবর নেও বুঝলে ।।
,
:– এখনই এই । পরে আমাদের ভুলে যাবে বুঝতে পারছি ।
,,
এই বলে দুজনেই খুব হাহাসাহাসি করতে লাগলো । আমি সরে গেলাম। না হলে আরো কতো কি শুনতে হবে কি জানি।
,,
,,
এক মাসের ভিতর আমার বিয়ে হলো । আর আমি সেই তিন ঘনটা ধরে বসে আছি । জামাইয়ের কোন খোজ নেই।
,,
,,
হঠাৎ কারো শব্দে চমকে উঠলাম । আমার জামাই ঘরে ঢুকছে । আমি ঘোমটা টা ভাল করে টেনে নিলাম । শুনেছি বাসর ঘরে রাগ করতে নেই । তাই আমি খুশি মনেই আছি । আমি ঘোমটার ভিতরে বুঝতে পারছি দুরে দাড়িয়ে আছে । আমার মনে হয় ভাবছে কি করবে । আমি নিজেই খাট থেকে নেমে সালাম করলাম। ও ল*জ্জা পেয়ে খাটে উঠে বসলো । আমি কি ল*জ্জা পাব । আমার জামাই নিজেই ল*জ্জায় লাল। এবার আমাকে বললো ,,,,
,
:–আসলে আমি দুঃখিত ।
,
:– কেন ???
,
:–এই যে আপনাকে বসিয়ে রেখে ছি বলে ।
আমি একটা বই পড়েছিলাম । কখন ঘুমিয়ে পড়েছি বুঝতে পারি নি।
,
:– ওহ আচ্ছা ।
,
:– আপনি এখনও জেগে আছেন কেন ??
ঘুমিয়ে পড়ুন । অনেক রাত হলো ।
,,
,,
ইসসসস কতো সপ্ন ছিল বা’সর রাত নিয়ে । সব মাটি হলো । কি বলবো এই হাদারাম টাকে !!!!!!
,,
,,