অনেক-তো লেখা হলো, বলা হলো
ভালোবাসি, ভালোবাসি, ভালোবাসা-বাসি
পথে-মাঠে-ঘাটে, বৃক্ষের ছায়ায়, নদীর ঢেউয়ে
অঙ্গসৌষ্ঠবের ভাঁজে ভাঁজে, মনের মণিকোঠায়;
কিন্তু কোথাও স্থায়ীত্ব পায়নি চার অক্ষরের শব্দটি
অভিধানে এই শব্দটি না থাকলে কি এমন ক্ষতি হতো!
ভালোবাসার দেবীকে পুজো করতে
কতো সহস্র ফুল ঢেলেছি মণ্ডপে মণ্ডপে
ধ্যানে নিবিষ্ট থেকেছি বেহিসেবী সময়
ক্রুশবিদ্ধ যিশুর যন্ত্রণাভোগ করেছি অবলীলায়;
জ্বেলেছি ধূপশিখা আগরবাতি, মেখেছি আতর
গোলাপজল ছিটিয়েছি – কার্পণ্য করিনি কিছুতেই।
ভালোবাসার জন্য হয়েছি বেহায়া, নির্লজ্জ
তাকিয়ে থেকেছি উপরি বসন খোলা বুকের মাস্তুলে
উষ্ণ নিঃশ্বাসের গভীরতায় খুঁজেছি নীরবতার চিৎকার
দেখেছি ক্লান্ত দেহের আড়মোড়া ভাঙ্গা সৃষ্ট কম্পন;
নূপুরের নিক্কণ, কাঁচের চুড়ির রিনিঝিনি
ভেজা খোঁপায়, মুক্ত আঁচলে খুঁজেছি সুপ্ত ভালোবাসা।
ভালোবাসার জন্য নির্ঘুম রাতে থেকেছি চাঁদের সাথে
পানাহারে অনিহা হলেও সোনামুখী সুঁইয়ে বেঁধেছি সুতো
কাটা ঘুড়ির পেছনে ছুটেছি বন্ধুর পথে
স্রোতের বিপরীতে ডুবসাঁতারে ভালোবাসার ঢেউ তুলেছি;
এতো কিছুর পরেও অভিধানে ভালোবাসা খুঁজে-খুঁজে
তনু-মনে সাতকাহনের সীলমোহর এঁটে দেয়া হলো না।
……………………………..
১৩/০৬/২০২৪@বরিশাল