1. admin@mannanpresstv.com : admin :
ছোটগল্প-কলমি ডাঙ্গা - নাজমুল ইসলাম রাজু - মান্নান প্রেস টিভি
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৫ অপরাহ্ন

ছোটগল্প-কলমি ডাঙ্গা — নাজমুল ইসলাম রাজু

এম.এ.মান্নান.মান্না
  • Update Time : শনিবার, ২২ জুন, ২০২৪
  • ১৭০ Time View
আকাশ মেঘলা ছিলো, ছিলো টিপটিপ বৃষ্টি ও । অল্প সময়েই তার জোর শুরু হলো। কিছুক্ষণেই তা আরো বাড়লো । ধীরে ধীরে প্রবল হলো, বাড়লো নদীর ঢেউও। বজ্রপাতের শব্দ ও শোনা গেল দূরে। পানি অনেকটাই উথাল পাথাল। একটি কদম গাছের নিচে বসেছে সে, বার বার পানির ঝাটকা এসে লাগছে গায়। ভিজতে প্রায় কোথাও বাদ নেই। তবুও আধ ভাঙ্গা ছাতাটা মাথায় ধরে আছে মুয়াজ, একটু জোর করেই। ছাতাটা সে আনতে চায়নি কিন্তু তার মায়ের চাপাচাপিতে- আনতে হলো ! হাত থেকে ছুটে গেলে কতদূর যাবে ছাতাটি, তা বলা মুশকিল । দুই একটি নৌকা অবশ্য যাচ্ছে- যদিও দুলছে ঢের । কি করবে- হয়তো গন্তব্য অনেকদূর- যাওয়াই লাগবে।
হঠাৎ ক্যারররর….. শব্দ হলো, কারণ মুয়াজ টান দিয়েছে হাতে থাকা ছিপটি। না তুলতে পারেনি, কেঁয়ারকাটা বনে জড়িয়েছে। তবে দাপাদাপির জোর শব্দ শোনা গেলো !
মুয়াজের জোর চাপাচাপি এবং তার মায়ের দিন দুই যাওয়া আসার ফলে, ছিপটি আজ মুয়াজের হাতে। অবশ্য তার মা বলেছিলো, মধুগঞ্জ থেকে একটি বড়শি কিনে এনে দিতে।
কিন্তু মিজান চাচা তার নিজের একটি ছোটো ছিপ তাকে- দিয়েই দিলো। মিজান চাচার ছিপে মাছ ধরার সুনাম আছে। বড়শি কিনতে দেওয়া দশটি টাকাও তিনি, স্ব স্নেহে ফেরত দিয়েছেন- তার মায়ের কাছেই ।
ছিপটি বাড়িতে আনলে মুয়াজ সে কি খুশি ! চিকন বাঁশের আগা দিয়ে তৈরিকৃত ছিপ । সুতাটাও একধরণের পানি নাইলন, বড়শিটাও কিছু বড় । সবকিছু যেন একটু অন্যরকম!
এমনি বড়শিতে সে আগে কখনো মাছ ধরেনি। আসলে বলতে গেলে তার এই চৌদ্দ বছরের জীবনে, এমনি ছিপের প্রয়োজনীয়তাও খুব একটা- না থাকারই কথা ।
কলমি ডাঙ্গা গ্রাম । মা- ছেলে দুজনে থাকে, ছোট্ট একটি বাড়ি। তা বাড়ি না বলে অবশ্য, বাসা বলাই ভালো। বেড়ার ঘর উপরে গোলপাতার ছাউনি। তাও প্রায় নড়বড়ে। চালে কোথাও কোথাও প্লাস্টিকের বস্তা দেওয়া। কোথাও আবার ছিঁড়ে যাওয়া পলি। যেগুলির বেশির ভাগই তার হাতে দেওয়া হয়েছে । প্রায়ই তার চালের উপর উঠা লাগে, উপরে উঠতে তার ভালোই লাগে, আকাশ টাকে একটু কাছে কাছে মনে হয়, এই অনুভূতিটা অন্যরকম। কোনোটা আবার তার মায়েরই দেওয়া, কঞ্চির সাহায্যে। সামনে একটু বেড়াও আছে, সেটা পাটখড়ির ।
এই গাঁ টি- দক্ষিণ অঞ্চল- খুলনার। এখানে এমনি অনেক বসতি রয়েছে। মাঝে মাঝে বিল জুড়ে পানি। কোথাও আবার ফসলি জমি । তবে তাদের জমি জায়গা বলতে এই বসত ভিটা টুকু।
আর যে তিনকাঠা জমি ছিলো- তা কাঁঠাল বাগানের পূর্ব কোণের, ঐ আলিম সরদার এর । সে এক অন্য কাহিনী।
দুই বছর বয়সে পিতা হারিয়েছে মুয়াজ। তারপর থেকে মা এর হাত ধরে আজ তার বয়স চৌদ্দ। ৮ম শ্রেণীর ছাত্র। পাশের গাঁয়ের স্কুলে যায়। তার গাঁয়ে অবশ্য পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাইমারি স্কুল আছে। সামনেই পরীক্ষা, তবে বেতন বাকী। ফি ও দেওয়া হয়নি। হয়তো তার এবারও পরীক্ষা দেওয়া হবেনা ! পড়া লেখায় যদিও তার মান খুব উঁচু দরের নয়, তবুও পাস করেই সে- এ পর্যন্ত এসেছে। কিছুটা দূর- আর অনেকটা নানান কাজের জন্যই নিয়মিত স্কুলে তার যাওয়া হয়না। মাঝেমধ্যে আকস্মিক স্কুলে যেয়ে- স্যারদের
মাইর খাওয়া তার স্বাভাবিক । আর বকুনি সেতো প্রায়- নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার ।
কিন্তু কি করবে, কাজ যে তার করাই লাগে।
কখনো অন্যের জমি চাষ। কখনো কাঠ কেটে আনা, কখনো রান্নাবাড়ার কাজে মা কে সাহায্য করা, কখনো বা কলা, কচু, মাটি আলু ইত্যাদি বাজারে নিয়ে যাওয়া । বিল থেকে শাপলা তুলেও সে বিক্রয় করতে নেয় ।
খেলাধুলা তার- করা হয়ে ওঠেনা। কাঁঠালবনে সমবয়সী দের খেলার হৈহুল্লোড়- আনন্দ চেঁচামেচি দেখেও, সে যেন দেখেনি- এমনি ভাবে পাশ কাটিয়ে যায়। তবে কাঁঠাল বনটি তার বড় ভালো লাগে। এখানকার কাঁঠাল সে খেয়েছে, খেয়েছে তার মায়েও। অদ্ভুত একটি মিষ্টি ঘ্রাণ সে এখানে পায়, যতবারই যায়। যদিও গাছ গুলি তাদের নয়, তবুও বড্ড আপন লাগে, বড্ড আপন- সেই তিনকাঠা !
এমনি চলে যাওয়ায়, তাকে নিয়ে বন্ধুদের বাড়তি দু”কথাও তার- শোনা লাগে । কিন্তু কি করবে, সৃষ্টিকর্তা যেন তাকে বয়সের তুলনায় একটু বুদ্ধি বেশিই দিয়েছেন । তাই ছোটো হলেও দায়িত্ব টা সে- বোঝে, খানিকটা জীবনও।
তার উপর তার মা এখন অসুস্থ। কয়দিন হলো জ্বরে ভুগছে। মাকে নিয়ে তার বেশ চিন্তা হয়। অবশ্য মায়েরও তাকে নিয়ে- চিন্তার শেষ নেই।
ছেলের স্কুলের পড়াশুনাটা হচ্ছেনা, অভাবের সংসার । তারপর গত কয়দিন অসুস্থতাজনিত কারনে ঠিকমত খাবার ও যোগাড় করা হয়নি।
কারো ধান শুকিয়ে, কারো ঘরবাড়ি পরিছন্ন করে, কারোবা বাসন মেজে কাপড় কেঁচে- এমনি চলে জীবন।
ঘরে কটা চাউল থাকলেও- তরিতরকারি ব্যবস্থা তেমন নেই। জ্বর গায়ে তার নিজের মুখেও- কিছু তেমন তুলতে পারছেনা। তার উপর ছেলেটাকে কত আর- শাকপাতা দিয়ে খাওয়ানো যায় !
তাই ভোর হতেই ছেলেটাকে বল্লো- বাজান রে, দেখনা কোথাও থেকে দুটো- মাছ ধরে আনতে পারিস কিনা, তবে মানকচু দিয়ে রান্না করলে বুঝি মুখে ভালো লাগতো। দেখেছিস বাজান আমাদের ছয় সাতটি কচু- কেমন বড় হয়েছে। দুই কাঁধি কলাও সামনের সপ্তায় বাজারে নেওয়ার মতন হবে । তুই কিন্তু সামনের শুক্রবার, কিছু বাজারে নিবি। তা- পূবের খালে মাছ আছে নাকি রে- বাজান ?
তা নেই আবার ? আচ্ছা মা আমি দেখবো যেয়ে, নিশ্চই মাছ আছে । তুমি এই ভাত কটি খাওতো দেখি, এই পাকা কলা দিয়ে। রহিম চাচা কলা গুলি দিয়েছিল, ঐ উনার সবজির ডালি গুলির মুখ- বাজার নেওয়ার সময় বেঁধে দিলাম, কিনা ।
তারপর- পেছনের চালের নিচ থেকে, দিন কয়েক আগে এনে রাখা- ছিপটি নিয়ে বের হলো। পাশের একটি বাগানে ঢুকে লতা গাছ থেকে পাড়লো কিছু নাইলশোর ডিম, যা মাছেরা খুব পছন্দ করে। তারপর খালের দিকে পা বাড়াতেই-
নূরু দাদার সাথে দেখা এবং যথারীতি তার সহাস্যে জিজ্ঞাসা- মেঘ বৃষ্টিতে মাছ ধরতে যাস নাকিরে মুয়াজ ? তোর কি মরার ও ভয় ঠয় নেই- রে ? আর একটু হলেই মুয়াজের লুঙ্গি মাটিতে পতিত হওয়ার কথা ছিল, অল্পের জন্য এ যাত্রায় বেঁচে গেছে আরকি ! তা নূরু দাদা এমনি দুষ্টুমির ভাবটা তার সাথে করে, করে তার বয়সি এমনি ছেলেদের সাথেও । দারুণ আমুদে এক লোক, বড় ভালবাসে ছোটদের, ছোটদের সাথে খেলাধুলায় ও তাকে প্রায়শ দেখা যায় । গাঁটের টাকায় ছেলেদের মিষ্টি কিনে খাওয়ানোর রেকর্ড টাও বুঝি, অত্র অঞ্চলে আজও তার । বিনে পয়সায় কত মানুষের যে, কাজ করে দেয় ! একটু রান্না-ঠান্না ভালো হলেই, পথের লোক টেনে বাড়ি নিয়ে যায় এবং পরে তার নিজেরই দুই ওয়াক্ত না খেয়ে থাকার বিষয়টাও গাঁয়ের লোকের অজানা নয় ! আর্থিক অবস্থাটা যে তার বারোমাসই এক ঠিকানায়, নুন আনতে পান্তা ফুরায় ! তবু তাদের ঘরের চালটা, রহীম চাচার জমির আইল দিগুণ করে আবারো ঠিক করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিটা যথারীতি তাকেই দিতে হয় । তাদের ঘরের চালের কাজে হাত দিবে, এই মাসের শেষ সপ্তাহেই ।
রোজ হাসরে আল্লা আমার, কোরোনা বিচার… নূরু চাচা গাইতে গাইতে চলে গেলো । মুয়াজ চল্লো খালের দিক, কিন্তু না- কি এক অজানা কৌতুহলে দিক পরিবর্তিত! খালের দিকে না গিয়ে, উল্টো দিকে- নদীতে এসে বসলো, হ্যাঁ রূপসা নদী। যদিও আকাশ মেঘাচ্ছন্ন গুড়িগুড়ি বৃষ্টির মাঝে, তা ভাদ্রের শুরুতে এমনি কখনো কখনো হওয়া- অস্বাভাবিক নয়।
কত কি যে আজ এই- বৈরী আবহাওয়ার মাঝেও তার মনে আসছে। স্কুলে যাওয়া হয়নি চারদিন। রশীদ স্যার নিশ্চই তাকে এবার ছাড়বে না। অংকের ক্লাস নেন তিনি। শিক্ষকতায় সুনাম আছে, নাম আছে তার বেতের ও ! আবিদ বলেছিলো ওর কাছে একটি ইংরেজি গ্রামার আছে বাড়তি । লাগলে ও নিতে পারে। তা লাগবেনা আবার ! অবশ্যই লাগবে । জ্যামিতির একটি পুরানো বক্সও নাকি আছে, যা ওর বড় বোন রুনার। যে এখন শশুর বাড়ি। চাইলে সেটিও নাকি দিবে তাকে! তা সে দিতে পারে- তেমন বিশ্বাস তার হয়। স্কেল তার আছে, আছে পেন্সিলও। কলমও আছে মোটামুটি চলার মতো। এবারও স্কুলের দৌড় প্রতিযোগিতায় সে দুটি কলম পুরষ্কার পেয়েছিলো। এখন ঐ গাঁয়ে, আবিদের বাড়িতে যেয়ে আনতে হবে। যাওয়া দরকার। হঠাৎ মুয়াজ চমকালো, কিছুক্ষণ চলে গেছে- মুয়াজ কিছুটা ঘোরের ভিতর ছিলো । আছে এখনো- মনে হলো স্বপ্ন দেখছে ! না স্বপ্ন নয়। বজ্রপাতের শব্দেও সেটা বুঝতে বাকি রইলোনা। কি বাঁধলো তার ছিপে ?
কেঁয়ারকাটার ঝোপটা যেন ভেঙ্গেচুরে যেতে লাগলো। মাছ নাকি অন্যকিছু ? না ভূতপ্রেত সে বিশ্বাস করেনা, তার মা বহুবার বলেছে ভূতপ্রেত ওসব বাজে কথা।
তবে কি ? কাউকে ডাকবে সে ? কিন্তু কাকে ডাকবে ? কে এই রূপসার নির্জন ঝোপে আসবে, তাও আবার এই তীব্র বৃষ্টি হাওয়ার মাঝে। মাঝেমাঝে তো বজ্রপাত ও হচ্ছে।
দূরের খেয়াঘাট ও অস্পষ্ট, শুধু বৃষ্টি পানির ঢেউই দেখা যাচ্ছে । ছেড়া ফাটা ছাতাটা তাকে পানি থেকে বাঁচাতে পারেনি, অবশ্য ভালো ছাতাও আজ তাকে- বাঁচাতে পারতো না ।
কি করবে সে ? সে কি চলে যাবে ? তাহলে ছিপ রেখেই যে যেতে হবে। তা এমনি বৃষ্টি ঝড়ে ছিপ রেখে যাওয়া কঠিন কিছু নয়। কিন্তু ছিপে কি আছে ? সেই কৌতুহল রেখে- কে কবে যেতে পেরেছে ? সেও পারলোনা ।
তাই অপেক্ষার পালা, কিন্তু অপেক্ষা কতক্ষণ করা যায়…
ভীষণ এক উত্তেজনায় তার গরম লাগছে, অথচ যখন কেঁয়ারকাটার এই কোণটিতে এসে বসেছিলো, তখন তার কিছুটা শীত করছিলো বৈকি । চৌদ্দ বছরের জীবনে এমনি তার আগে কখনো লাগেনি। মাঝেমাঝেই সে দাপাদাপি শুনছে, তবে কেঁয়ারকাটার ঝোপের উপর দিয়ে কিছুই দেখতে পাচ্ছে না । নদীর সাথে তার একটি সম্পর্ক আছে, সেই ছোটো বেলা থেকে। এই নদির বুকে সাঁতার কেটেই তার বড় হওয়া, যদিও ঘাট রেখে আজ একটু অন্যদিকে আসা। তাই এই সময় নদিতে নামতে তার সাহস হলোনা, তাছাড়া তার মায়ের নিষেধ ও আছে নদীতে নামা । তবে আশার কথা হলো জোয়ার ফিরে এখন ভাঁটার টান শুরু হয়েছে। তবু অপেক্ষা করতে হচ্ছে, আর অপেক্ষাটা তার যেন আজ সবচেয়ে দীর্ঘ লাগছে।
আরো সময় গেলো। তার কৌতুহল আরও বাড়ছে । ধীরেধীরে ভাঁটার টানে পানি কমতে লাগলো, কমে আসছে বৃষ্টিও । আর কিছুক্ষণে পানি আরো কমলো, আর সে নিজেকে সামলে রাখতে পারলোনা। তখন অল্প পানি আছে, সে নেমে পড়লো, পাশ থেকে একটি কাদা মাখা লাঠি নিলো, সেটা গরান হবে হয়তো, কারন সুন্দরবন আর খুলনা যে একই কথা ।
কেঁয়ারকাটা ঝোপের ভিতর, লাঠিটা দিয়ে পরখ করা মাত্রই- ধাপাধাপ শব্দ শুরু। চমকে কেঁপে উঠে- সরে আসলো মুয়াজ। তবে এবার যা দেখলো তাতে তার নিজের চোখকে অবিশ্বাস্য লাগলো ! আরো একটু অপেক্ষার পর, দৃশ্যমান হলো মাছ। ছিপের শুতা কেঁয়ারকাটার সাথে জড়িয়ে পেঁচিয়ে এমন ভাবে আঁটকেছে- নয়তো এই মাছ কিছুতেই এতক্ষণ এই ছিপ সুতায় থাকার কথা নয়। আনন্দে মুয়াজ কি করবে বুঝে উঠতে পারছেনা। নিজের গায়ের গেন্জি খুলে অনেক খানি চেষ্টার পর, মাছটির মুখ আর কাইনকো একসাথে বাঁধলো। তারপর আরো কিছু কাঁটাবন ভেঙ্গে উপড়িয়ে, নিজের হাতে কাঁটার আঁচড় লাগিয়ে- মাছটিকে সে তীরে টেনে হেঁচড়ে তুল্লো। বিরাট বোয়াল মাছ। ছিপটা কোনোরকম পেঁচালো, তারপর মাছটিকে টেনে বাড়ির পথে রওনা হলো। একটু দূরে আসতেই করিম চাচার সাথে দেখা, চাচা তো অবাক! চাচার হাকডাকে আরো কয়জন হাজির হলো। দারুণ আনন্দ চিত্তে সবাই তার পেছন ধরলো, আর শুনতে থাকলো এই অসাধ্য সাধনের কাহিনী। সে কাহিনী শোনার আকাঙ্ক্ষা আরো বাড়তে থাকলো এবং তাকে একসময় উঠানে বসে তা বর্ণনা করতে হলো। নয় কেজি ওজনের ঝকঝকে বোয়াল মাছটি দেখতে গাঁয়ের বহু মানুষের ভীড় জমে গেলো ।
একটা সময় সেটা বিক্রয় করার কথা উঠলো।
আট হাজার টাকায় সেটা কিনে নিলেন পাশ গাঁয়ের এক লোক। মুয়াজ যেন ঠিক বুঝে উঠতে পারলোনা, সে ভেবেছিল মাছ খেতে দারুণ হবে। মাথাটা নিশ্চই তার মা ঝোল করে তাকে দিবে, কিন্তু এত বড় মাথা সে একা খেতে পারবেনা, নিশ্চই তখন মায়েরও তার সাথে খাওয়া লাগবে। তার নানী কেও সে নিয়েই আসবে, এমন মাছ তাকে ছাড়া সে খাবেই না। কিন্তু কিসে- কি হয়ে গেলো ! মাছটা তার খাওয়া হচ্ছে না- হলোনা। এমনি হাজার মুয়াজের বুঝি এমনি খাওয়া হয়না !
পুরো আট হাজার টাকা। ওহ, অনেক টাকা !
মুয়াজের মা যেন মুহূর্তে বেশ সুস্থ হয়ে উঠলো । আসলে মানুষিক জোর- অর্থনৈতিক ছোঁয়ায় মজবুত হয়, তার মায়েরও তাই ।
মুয়াজ কে বুকে টেনে নিলো তার মা । কান্নার অস্ফুট চিত্তে বল্লো, বাজান রে আল্লাহ্ আছেন। এই দেখ কত টাকা ? তোর স্কুলের ফি, বেতন সব দিবো। তুই আবার পাস করবি। আবার উপরের ক্লাসে উঠবি । তুই বড় হবি রে বাজান- তুই বড় হবি ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Categories

© All rights reserved © 2022 mannanpresstv.com
Theme Customized BY WooHostBD