বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় করে রাখতে বিভিন্ন প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি। তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে সর্বোচ্চ জনসমাগম ও নিরাপত্তা এবং পুরো প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খল রাখতে রাতদিন নিরলস কাজ করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা-কর্মীরা। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার জন্য সরকারি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি দল থেকেও নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিএনপি নেতারা বলছেন, তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে রাজধানীতে অন্তত ২০ লাখ লোকের সমাগম ঘটবে। ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীরা নিজেদের শক্তি-সমর্থন জানান দিতে তাদের পক্ষে সর্বোচ্চ কর্মী-সমর্থকের সমাবেশ ঘটাতে চাইবেন। এতে জনসমাগম আরও বাড়তে পারে। সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার প্রতি। বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফিটের গণসংবর্ধনা স্থান এবং গুলশান পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সেদিকে খেয়াল রাখতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সারা দেশ থেকে নেতা-কর্মীরা আসতে শুরু করেছেন। আগামীকালের মধ্যে অধিকাংশ নেতা-কর্মী চলে আসবেন।
দলের শীর্ষ নেতারা তারেক রহমানকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাবেন। এ ছাড়া ঘোষিত সম্ভাব্য প্রার্থী, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থেকে এদিনের কর্মসূচি সফল করবেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিমানবন্দর থেকে বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতালে তাঁর মা বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি খিলক্ষেতে ৩০০ ফিটের গণসংবর্ধনায় যোগ দেবেন তিনি। তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে নেতা-কর্মীদের ঢাকায় আসার সুবিধার্থে ইতোমধ্যে বিশেষ ট্রেন ও বগির ব্যবস্থা করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।
বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত দলের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্সসহ একাধিক টিম কাজ করবে। এ ছাড়া দলের বিশ্বস্ত নেতা-কর্মীদের সমন্বয়েও একটি টিম গঠন করা হয়েছে।
জানা গেছে, তারেক রহমান যাতায়াতের সময় পাবেন পুলিশি পাহারাসহ বিশেষ নিরাপত্তা। এ ছাড়া তাঁর বাসভবন ও অফিসেও থাকবে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা। নিরাপত্তা ছাড়পত্র ছাড়া কাউকে তাঁর ধারে কাছে ভিড়তে দেবে না পুলিশ। ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকেও গোয়েন্দারা তারেক রহমানের নিরাপত্তার দিকটি দেখভাল করবেন। বিমানবন্দর থেকে খিলক্ষেত, বসুন্ধরা ও গুলশান পর্যন্ত কয়েক হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ওই দিন তাঁর নিরাপত্তায় মাঠে থাকবে ঢাকা মহানগর পুলিশের সোয়াট টিম, বম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা। তাঁর বাসা ও অফিস ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিংয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে পুলিশ। দেশে ফেরার পর স্বল্প সময়ের মধ্যে তিনি তাঁর পিতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করবেন।
অভ্যর্থনা কমিটির সদস্যসচিব বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরা স্মরণীয় করে রাখতে কাজ করছে কমিটি। প্রতিদিন প্রস্তুতি সভা হচ্ছে। সারা দেশের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি সভা হয়েছে। সব অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে।
তারেক রহমান ভোটার হবেন ২৭ ডিসেম্বর : ২৭ ডিসেম্বর ভোটার হবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশে আসার পর তিনি ভোটার হচ্ছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ২৫ তারিখে দেশে আসবেন এরপর তিনি (তারেক রহমান) ২৭ ডিসেম্বর ভোটার হবেন। গতকাল আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। সিইসির সঙ্গে বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিল সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ ও দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ জকরিয়া। বৈঠকে ইসি আবদুর রহমানেল মাছউদ ও ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ১০ রুটে চলবে স্পেশাল ট্রেন : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন অনুষ্ঠানে দলটির নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের যাতায়াতের জন্য ১০টি রুটে স্পেশাল ট্রেন পরিচালনা করবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। নিয়মিত চলাচলকারী একাধিক ট্রেনেও সংযোজন করা হবে অতিরিক্ত কোচ। এ কারণে স্বল্প দূরত্বের রাজবাড়ী কমিউটার (রাজবাড়ী-পোড়াদহ), ঢালারচর এক্সপ্রেস (পাবনা-রাজশাহী) এবং রোহনপুর কমিউটার (রোহনপুর-রাজশাহী) ট্রেনের ২৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবারের যাত্রা স্থগিত থাকবে। বিএনপির পক্ষ থেকে বিশেষ ট্রেন/ অতিরিক্ত কোচ বরাদ্দের জন্য আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
যেসব রুটে স্পেশাল ট্রেন পরিচালনা করা হবে সেগুলো হচ্ছে কক্সবাজার-ঢাকা-কক্সবাজার, জামালপুর-ময়মনসিংহ-ঢাকা-জামালপুর, টাঙ্গাইল-ঢাকা-টাঙ্গাইল, ভৈরববাজার-নরসিংদী-ঢাকা-নরসিংদী-ভৈরববাজার, জয়দেবপুর-ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট-জয়দেবপুর (গাজীপুর), পঞ্চগড়-ঢাকা-পঞ্চগড়, খুলনা-ঢাকা-খুলনা, চাটমোহর-ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট-চাটমোহর, রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহী এবং যশোর-ঢাকা-যশোর। এ ছাড়া নিয়মিত চলাচলকারী একাধিক ট্রেনে চাহিদার ভিত্তিতে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হবে।








