মৃত্যু অবধারিত, মৃত্যুর চেয়ে অঘোম সত্য পৃথিবীতে আর কিছু নেই। নক্ষত্রেরও একদিন মরে যেতে হয়।
কিন্তু নক্ষত্ররা কখনো মরে না, যুগের পর যুগ বেঁচে থাকে তাদের সৃষ্টির মাঝে সৃজনশীলতার বহুমাত্রিক রূপে আর তেমনি একজন শিল্পমনা মানুষ মান্নান হীরা। হ্যাঁ, বলছিলাম সিরাজগঞ্জের উজ্জ্বল নক্ষত্র সিরাজগঞ্জের কৃতি সন্তান শুধু সিরাজগঞ্জের বললে বলা ভুল হয়ে যাবে। মান্নান হীরা তার সৃষ্টি দিয়ে গোটা বাংলাদেশে তার স্থান করে নিয়েছেন। বাংলা নাটকের, পথ নাটকের, মঞ্চ নাটকের
পথ প্রদর্শক যে কিনা চোখের সামনে ঘটে যাওয়া ঘটনা কে মুহূর্তের মধ্যেই নাটকে রূপ দিতেন। মান্নান হীরা ১৯৫৬ সালে জন্ম গ্রহণ করেন।
মান্নান হীরা পথ নাটক আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন, মান্নান হীরা পথ নাটক পরিষদের সভাপতি ও আরণ্যক নাট্যদলের অধিকর্তাও ছিলেন তিনি প্রায় ১৫ টি নাটক লিখেছেন। উল্লেখযোগ্য নাটক গুলোর মধ্যে রয়েছে “লাল জমিন,ভাগের মানুষ, ময়ূর সিংহাসন, সাদা-কালো ইত্যাদি। ‘মূর্খ লোকের মূর্খ কথা’ মান্নান হীরা রচিত ও নির্দেশিত অন্যতম পথনাটক। ২০১৪ সালে মান্নান হীরা সরকারি অনুদানে শিশুতোষ চলচ্চিত্র, একাত্তরের ক্ষুদিরাম তৈরি করেন। এটি তার পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র।
এছাড়াও মান্নান হীরা রচিত নাটক গুলো হলো ক্ষুদিরামের দেশে,ফেরারী নিশান, আদাব,ঘুমের মানুষ, ‘মৃগনাভি,’ শেকল, ‘জননী বীরাঙ্গনা, ‘মণিমুক্তা, ‘ একাত্তরের রাজকন্যা, ‘ ফুটপাত, ‘ মেহেরজান, ‘ রেফারি, ‘ বাংলার বাদশা, ‘ সুখদৈত্য প্রভৃতি। ” গরম ভাতের গল্প ও’৭১-এর রঙপেন্সিল’ নামে দুটি স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি পরিচালনা করেন।
জীবনের অবসান ঘটিয়ে মান্নান হীরা ২০২০ সালের ২৩ ডিসেম্বর না ফেরার দেশে চলে যান। মান্নান হীরার অকালে চলে যাওয়ায় পথ নাটকে এর প্রভাব ফেলে।
২০০৬ সালে নাটক শ্রেণিতে মান্নান হীরা বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।