মানবসেবা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর প্রত্যয় নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার কৃতি সন্তান ও ইতালি প্রবাসী মোজাম্মেল হোসেন মোল্লা। মানবিক কর্মকাণ্ডে তাঁর আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও দীর্ঘদিনের অবদানের কারণে স্থানীয়ভাবে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ হিসেবে।
সম্প্রতি তিনি শতরূপা মানবিক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের মহাসচিব হিসেবে পুনরায় মনোনীত হয়েছেন। এটি তাঁর জন্য দ্বিতীয়বারের মতো মহাসচিবের দায়িত্ব গ্রহণ। সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পথচলায় তাঁর নেতৃত্ব, শ্রম, মেধা, প্রজ্ঞা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও আন্তরিক পরামর্শ শতরূপা মানবিক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত ও গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
মোজাম্মেল হোসেন মোল্লার নেতৃত্ব ও পরিশ্রমে শতরূপা মানবিক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন আজ একটি সুসংগঠিত সামাজিক ও মানবিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম, এতিমখানা, চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসা সহায়তা, শিক্ষা সহায়তা, কর্মসংস্থান সহায়তা, বৃক্ষরোপণ, উন্মুক্ত পাঠাগার, বয়স্কদের কোরআন শিক্ষা কার্যক্রমসহ বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগ পরিচালনা করছে সংগঠনটি।
শুধু সংগঠনের দায়িত্বের মধ্যেই তাঁর মানবিক কর্মকাণ্ড সীমাবদ্ধ নয়। ব্যক্তিগত উদ্যোগেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আসছেন। বিশেষ করে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার মানুষের কাছে তিনি একজন সৎ, পরোপকারী ও মানবিক মানুষ হিসেবে সুপরিচিত। প্রবাসজীবনে থেকেও দেশের মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা কখনো কমেনি। বরং দূর ইতালিতে থেকেও মাতৃভূমির মানুষের সুখ-দুঃখের খবর রাখেন এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।
অসহায় বিধবা নারীর পাশে দাঁড়ানো, দরিদ্র মানুষের চিকিৎসায় সহায়তা করা, অর্থের অভাবে মেয়ের বিয়ে দিতে না পারা পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, গৃহহীন মানুষের জন্য ঘরের ব্যবস্থা করতে সহযোগিতা করা—এমন নানা মানবিক উদ্যোগের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার কথা স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে শোনা যায়। তাঁর মানবিক সহায়তার পরিধি ধর্ম-বর্ণ বা সামাজিক পরিচয়ের সীমারেখায় আবদ্ধ নয়। মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনেও তিনি সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন।
তাঁর কাছে মানবসেবা কোনো প্রচারণার বিষয় নয়; বরং এটি মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধের বহিঃপ্রকাশ। নিজের ব্যস্ততা ও প্রবাসজীবনের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দেশের অসহায় মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা তাঁকে আলাদা করে পরিচিত করেছে। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো, অসহায় পরিবারকে সাহস দেওয়া এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করা—এসব কাজের মধ্য দিয়ে তিনি মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন।
শতরূপা মানবিক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের মহাসচিব হিসেবে তাঁর দ্বিতীয়বারের দায়িত্বপ্রাপ্তি সংগঠনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁর সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, পরিকল্পনা, পরামর্শ ও দীর্ঘদিনের শ্রমের মাধ্যমে সংগঠনটি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিসরে মানুষের কল্যাণে কাজ করবে—এমন প্রত্যাশা রয়েছে।
মোজাম্মেল হোসেন মোল্লার জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়তো তাঁর প্রবাসী পরিচয় নয়; বরং মানুষের প্রয়োজনে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা। অর্থ, সময় ও শ্রম দিয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করার যে মানসিকতা তিনি ধারণ করেন, সেটিই তাঁকে মানুষের কাছে আপন করে তুলেছে।
মানুষের ভালোবাসা অর্জন করা সহজ নয়। আর সেই ভালোবাসা যদি আসে নিঃস্বার্থ সেবা, সহযোগিতা ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে, তবে তা নিঃসন্দেহে একজন মানুষের জীবনের বড় অর্জন। মোজাম্মেল হোসেন মোল্লার মানবিক পথচলাও তেমনই—নীরবে, নিরলসভাবে এবং মানুষের কল্যাণকে সামনে রেখে।
মানবতার জন্য তাঁর এই নিরন্তর পথচলা আরও দীর্ঘ হোক, তাঁর হাত ধরে আরও অসংখ্য অসহায় মানুষের জীবনে আশার আলো ফুটে উঠুক—এটাই প্রত্যাশা।,