জীবন রাঙাতে বাস্তবতার ভাগাড়ে,
রোজ করেছি কত হলুদের চাষ।
অথচ সময়ের সিঁথি বেয়ে বারংবার
বিস্মৃতির ঘোরে ঢলে পড়েছে অতীত।
অপাংক্তেয় জীবনের গিরিখাতে
সূর্যটা আলসেমি করেছে আজীবন,
হাভাতে অনুভবের তোড়জোড় ছাড়া
শত চেষ্টাতেও দিনমান জোটেনি।
কোনো একদিন চাঁদ এসে উঠোন রাঙাবে ভেবে
গোধূলির গায়ে হেলে পড়ত যে ক্লান্ত বিকেল,
সেও বুঝে গেছে—তা ছিল কেবলই মতিভ্রম।
ওপাড়ার মোল্লাবাড়ির ছাদে আহ্লাদে
লুটোপুটি খেত কত বাসন্তী গোলাপ,
বাতাসে হেলান দিয়ে ইশারায় ডাকত।
অথচ নির্ঘুম লাল চোখের স্বপ্ন আর
ছুঁতে চাওয়ার আকাঙ্ক্ষার দৌঁড় ছিল
শেওলা-পড়া ঝুলবারান্দা অবধি।
এমন বেহাল দশা দেখে
অপলাপে অগুনতি কচুরি ফুল মুখ টিপে হাসত,
কখনোবা ভর্ৎসনা করে যেত শাপলা।
অপেক্ষার প্রহরে
তুলি হাতে রঙের স্বপ্ন জিইয়ে রাখা জীবন।
অবশেষে একান্নতে এসে বুঝল—
নিউজপ্রিন্ট কাগজে যে মানচিত্র আঁকা,
তা কখনো জলরঙে রাঙানো যায় না।