ভৈরব নৌ থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান চৌধুরী জানান, রেলওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাটি আমাকে অবহিত করলে স্থানীয় ফায়ারকর্মীদের নিয়ে শুক্রবার রাত ৮টা পর্যন্ত নদীতে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাইনি। মেঘনায় প্রচুর স্রোত। যদি সে পানিতে ডুবে মারা যায়, তবে লাশ দু-তিন পর ভেসে উঠতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।
গতকাল সকাল থেকে আবারও পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদীতে তল্লাশি চালায়। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ আক্কাছ আলী বলেন, ‘শুক্রবার রাত ৮টা পর্যন্ত এবং আজ (শনিবার) সকাল থেকেই নদীতে তল্লাশি চালাই। কিন্তু তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।’
কর্মী প্রেরণ করতে না পারা খুবই দুঃখজনক-প্রতিমন্ত্রী : সিলেট থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেছেন, মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণ করতে না পারা খুবই দুঃখজনক। মালয়েশিয়ায় ৫ লাখের বেশি কর্মী প্রেরণের জন্য সে দেশের সরকার সুযোগ দিয়ছিল। সেই কোটা পূরণে কাজ করেছিল বাংলাদেশ। এর পরিপ্রেক্ষিতে রিক্রুটিং এজেন্টদের সংগঠন বায়রার সঙ্গে কথা বলে কাদের ভিসা হয়েছে আর কাদের ভিসা হয়নি সে তথ্য চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু বায়রা সে তালিকা দিতে পারেনি। ফলে ফ্লাইটের সমস্যা হয়েছে। পরে কর্মী পাঠানোর জন্য ২২টি বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়। একই সঙ্গে মালয়েশিয়া সরকারকে সময় বাড়ানোর জন্যও চিঠি দেওয়া হয়। তবে এখনো সে চিঠির উত্তর আসেনি বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, এ সমস্যা সমাধানে এম্বাসি ও মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। সরকার চায় বৈধপথে শ্রমিক বিদেশে যাবে, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাবে। আমাদের উদ্দেশ্য হয়রানি করা নয়, যারা হয়রানি করছে তাদের ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। গতকাল দুপুরে সিলেটে সরকারি আলিয়া মাদরাসা পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
দ্রুত মালয়েশিয়া নেওয়ার চেষ্টা চলছে-হাইকমিশনার : মালয়েশিয়া প্রতিনিধি জানান, ভিসা পেয়েও যারা মালয়েশিয়া যেতে পারছেন না, তাদের দ্রুত নেওয়ার ব্যাপারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. শামীম আহসান। শুক্রবার রাতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কুয়ালালামপুর বিমানবন্দর পরিদর্শন করেন মো. শামীম আহসান। হাইকমিশনার বলেন, ৫ লাখ ২৭ হাজারের বেশি ডিমান্ড লেটার সত্যায়ন করেছে হাইকমিশন। এ পর্যন্ত ৪ লাখ ৭২ হাজারের বেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় এসেছে। আমরা নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি, তারা (বাংলাদেশি বাকি কর্মী) যেন প্রতিশ্রুত কাজে যোগদান করতে পারেন। বিভিন্ন জটিলতায় হয়তো তারা আসতে পারছেন না। কিন্তু আমাদের প্রচেষ্টা চলমান আছে। তার সঙ্গে থাকা প্রথম সচিব প্রেস সুফি আবদুল্লাহিল মারুফ জানান, মালয়েশিয়ায় রাত ১২টার পর বাংলাদেশ থেকে আসা কর্মীরা নির্বিঘ্নে ইমিগ্রেশন পার হচ্ছেন। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করেছে। ৩১ মে বাংলাদেশ ত্যাগ করে যারা মালয়েশিয়ায় আসছেন, ১২টার পরও তারা ইমিগ্রেশন পার হয়েছেন। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজার মালয়েশিয়া। দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মী আছেন। গত বছর সেখানে গেছেন ৩ লাখ ৫১ হাজার ৬৮৩ কর্মী। এ পর্যন্ত ৪ লাখ ৭২ হাজারের বেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় এসেছেন। মালয়েশিয়ার গত মার্চের ঘোষণা অনুযায়ী, ৩১ মে অর্থাৎ শুক্রবারের পর আর কোনো নতুন বিদেশি শ্রমিক দেশটিতে ঢুকতে পারবেন না। সময়সীমার কারণে হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এয়ারলাইনস সংস্থাগুলো আসনসক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি শুক্রবার পর্যন্ত বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করে। কিন্তু ভিসা পাওয়ার পরও ফ্লাইট জটিলতায় বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৩১ হাজার কর্মী মালয়েশিয়ায় যেতে পারেননি।








