ফেসবুকটা খুললেই যেন রান্নার এক মেলা,
সকাল-সন্ধ্যা চলছে কেবল পাকশালা খেলা!
আজকে মুরগি, কালকে গরু, সামনে খাসির ঝোল,
সুবাস দেয় শুটকি চড়চড়ি আর বোয়াল মাছের কোল।
কচু শাক আর লতাপাতা, সাথে নারকেলি ডাল,
রান্নার হাত পাকা বটে, নেইকো তুলনাকাল!
মাঝেমধ্যে ইলিশ মাছের পাতলা মজার ঝোল,
কাতলা মাছের পেটি দেখে জিহ্বায় আসে জল।
গরুর ভুড়ি রান্না করে ফেবুতে দেয় ছেড়ে,
ভিডিও দেখে গরিব মানুষ দীর্ঘশ্বাস যায় বেড়ে।
যাদের কেনার সামর্থ্য নেই, তাকিয়ে রয় শুধু,
এমন লোভনীয় রান্না দেখলে মন মানে কি বলো শুধু?
ডলারের ঐ নেশায় সবাই ছুটছে পিছে পিছে,
শিক্ষক-ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার—সব হারিয়ে গেছে নিচে!
পড়াশোনা শেষ করে আজ কন্টেন্ট ক্রিয়েটর,
ভিডিওর ভিউস বাড়াতে সবাই দিতেছে যে জোর।
কে লাইক দিল, কে কমেন্ট করল, কে বা দিল শেয়ার—
এইসবেতেই কেটে যায় যে দিনের সব প্রহর!
রাতে কেবল নোটিফিকেশন চেক করারই পালা,
আর দিনের বেলা ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে কাটে যে বেলা!
ভার্চুয়াল রান্নায় বুঁদ হয়ে না থেকে,
বাস্তব জীবনে তুমি সততার পথে থেকো।
সোশ্যাল মিডিয়ার মোহে মেধা করো না তো ক্ষয়,
সৎ শ্রমে গড়া জীবনই তো আসল নিশ্চয়!