বিশেষ প্রতিনিধি, নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা): কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার মক্রমপুর ইউনিয়নের টুয়া গ্রামের এতিম ও একমাত্র উপার্জনক্ষম কিশোর অটোচালক আরমান নিখোঁজের প্রায় এক মাস পার হতে চললেও এখনো তার কোনো সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজের পর থেকে তার পরিবারে নেমে এসেছে চরম অন্ধকার ও অনিশ্চয়তা।
পরিবারের করুণ অবস্থা:
পিতৃহীন ও অসহায়: বাবা মৃত বাচ্চু মিয়াকে হারিয়ে আগেই পিতৃহীন হয়েছিল কিশোর আরমান।
ভারসাম্যহীন মা: তার মা মরিয়ম বেগম একজন মানসিক ভারসাম্যহীন নারী।
একমাত্র সম্বল: আরমানই ছিল এই অসহায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার নিখোঁজে পরিবারটি এখন বাকরুদ্ধ ও দিশেহারা।
চাঞ্চল্যকর মোড় ও পুলিশি অভিযান:
জিডি ও অনুসন্ধান: নিখোঁজের পর নাঙ্গলকোট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও এবং সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি চালিয়েও কোনো সূত্র মিলছিল না।
তদন্তে তথ্য প্রকাশ: নাঙ্গলকোটে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক একটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে নতুন তথ্য বেরিয়ে আসে। তারা জানায়, উপজেলার আটিয়াবাড়ির এক জনমানবহীন নির্জন ঘরের ‘দমদমা’য় আটকে রাখা হয়েছে আরমানকে।
অভিযান ও আলামত উদ্ধার: তথ্যের ভিত্তিতে গত রাতে পুলিশ, স্বজন ও স্থানীয়রা উক্ত নির্জন বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেন। তবে সেখানে আরমানের সন্ধান না পাওয়া গেলেও বিভিন্ন অপরাধমূলক আলামত ও বিপজ্জনক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
জনমনে আতঙ্ক ও স্বজনদের আকুতি: নির্জন ঘর থেকে বিপজ্জনক সরঞ্জাম উদ্ধারের পর থেকে পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা ও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় অপরাধচক্রের এমন ভয়ানক কাণ্ড সবাইকে শঙ্কিত করে তুলেছে। পরিস্থিতি যতই আঁধার ঘনিয়ে আনুক না কেন, স্বজনদের কেবল একটিই প্রত্যাশা—কোনো এক অলৌকিক ক্ষমতায় তাদের পরিবারের আলোর প্রদীপ আরমান যেন সুস্থ শরীরে ফিরে আসে।