যশোর প্রতিনিধি:
যে নৃশংস ঘটনা একসময় দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল, সেই যশোরের মা হত্যার ঘটনায় নতুন অধ্যায় যুক্ত হয়েছে। মাকে ধারালো বঁটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা এবং মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগে কারাগারে থাকা ছেলে মামুনুর রশিদ মামুন (৪৫) মারা গেছেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ভাষ্য অনুযায়ী, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে খুলনার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খুলনা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সৈয়দ হাসান আলী এবং যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ।
কারা সূত্রে জানা গেছে, রোববার হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন মামুন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনার হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ যশোরে পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৭ আগস্ট যশোর সদর উপজেলার বাজে দুর্গাপুর গ্রামে ঘটে ভয়াবহ এ ঘটনা। ৫৮ বছর বয়সী মা আনোয়ারা বেগমকে ধারালো বঁটি দিয়ে হত্যা করার অভিযোগ ওঠে তাঁর ছেলে মামুনের বিরুদ্ধে। একপর্যায়ে মায়ের শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে জানা যায়।
মামুন পেশায় একজন স্কুলশিক্ষক ছিলেন। তিনি ঝিকরগাছার লাউজানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ইংরেজি পড়াতেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর দুটি বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর মায়ের প্রতি ক্ষোভ তৈরি হয়। স্ত্রীদের সঙ্গে বিচ্ছেদের জন্য মাকে দায়ী করতেন তিনি। এ নিয়ে মা-ছেলের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ও মারধরের ঘটনা ঘটেছিল।
এলাকাবাসীর দাবি, পারিবারিক অশান্তির পাশাপাশি মামুন মানসিক সমস্যায়ও ভুগছিলেন। প্রায় তিন বছর আগে তাঁকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে দুই থেকে তিন মাস চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি বাড়িতে ছিলেন না। ঘটনার দিন প্রায় পাঁচ বছর পর বাড়িতে ফেরেন তিনি।
বাড়িতে ফেরার পর মায়ের সঙ্গে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ঘটে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড। পরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁকে আটক করে। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়। এরপর থেকে তিনি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন।
মামুনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তির জীবনের সমাপ্তি ঘটল। তবে একজন মায়ের এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী সময়ে অভিযুক্ত ছেলের কারাগারে মৃত্যুর ঘটনা এলাকায় ও জনমনে গভীর বেদনার সৃষ্টি করেছে।