রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে সুন্নতে খতনা করতে গিয়ে ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে শিশু আয়ানের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আয়ানের মৃত্যুর জন্য দোষী চিকিৎসকদের গ্রেপ্তার করা না হলে ইউনাইটেড হাসপাতাল ঘেরাও করা হবে বলে জানান স্বাস্থ্য সুরক্ষা আন্দোলনের সদস্যরা। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাড্ডার ইউনাইটেড হাসপাতালের ভুল চিকিৎসায় শিশু আয়ানের মৃত্যুর প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এ কথা জানানো হয়।মানববন্ধনে স্বাস্থ্য সুরক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক নাজমুল হাসান বলেন, ভুল চিকিৎসার কারণে শিশু আয়ানের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে তার পরিবারকে যথাযথ আর্থিক জরিমানাসহ চিকিৎসায় জড়িত ডাক্তারদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। অনতিবিলম্বে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ডাক্তার সাব্বির, ডাক্তার তাসনুভা মেহজাবিনকে গ্রেপ্তার করতে হবে। অন্যথায় ইউনাইটেড মেডিকেল হাসপাতাল ঘেরাও করা হবে। একইসঙ্গে আয়ানের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তিনি বলেন, শিশু আয়ানকে ঘিরে তার বা-মার হাজারও স্বপ্ন ছিল। নতুন বছর তাদের বাচ্চাটি স্কুলে যাবে। এজন্য নতুন বইও ঘরে নিয়ে এসেছিল।কিন্তু সে আশা তাদের আর পূরণ হয়নি। শিশু আয়ানকে কবরে শুইয়ে আসতে হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা বলেন, আয়ানের সুন্নতে খতনায় যেন কষ্ট না হয় সেজন্য দেশের নামকরা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সুন্নতে খতনা করানোর আগে তার বেশকিছু শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়েছিল। তখন তার কোনো ধরনের সমস্যা ছিল না। ডাক্তার তার রিপোর্ট দেখে বলেছিল, আয়ানের শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক। আয়ান তখন হেঁটে হাসিমুখে অপারেশন থিয়েটারে ঢুকে। আয়ানকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়ার পর ডা. সাব্বির তাকে অতিমাত্রায় এনেস্থেসিয়া দেয়। অভিযোগ করে তারা বলেন, ডাক্তার সাব্বির ১৯ বছরের অভিজ্ঞ এনেস্থেসিয়ান। আয়ানকে এনেস্থেসিয়া দেয়ার পর অবহেলায় রেখে সার্জারি ডাক্তার তাসনুভা মেহজাবিনসহ বেশ কয়েকজন ইন্টার্ন ডাক্তারকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ক্লাস করানো হয়। ফলে শিশু আয়ানের মৃত্যু হয়।
মানববন্ধনে সঞ্চালনা করেছেন সংগঠনের সদস্য মো. রাকিব হোসেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আয়ানের চাচা মো. মানিক, স্বাস্থ্য সুরক্ষা আন্দোলনের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সম্রাট, সদস্য নেওয়াজ খান বাপ্পী প্রমুখ।