1. admin@mannanpresstv.com : admin :
এখনকার নাটক-কনটেন্ট পরিবার নিয়ে দেখার মতো নয় বলে দেখি না : অভিনেতা রফিকুল্লাহ সেলিম - মান্নান প্রেস টিভি
বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন

এখনকার নাটক-কনটেন্ট পরিবার নিয়ে দেখার মতো নয় বলে দেখি না : অভিনেতা রফিকুল্লাহ সেলিম

অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ১৮১ Time View

নব্বই দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘রূপনগর’-এর কথা মনে আছে নিশ্চয়ই। এতে হেলালের প্রধান সহযোগী ছিলেন টিপু। চরিত্রটি তখন তাক লাগিয়ে দিয়েছিল সব দর্শকদের। এ চরিত্রে যিনি অভিনয় করেছিলেন তিনি রফিকুল্লাহ সেলিম। মঞ্চ থেকে টেলিভিশন নাটক, টেলিফিল্ম ও সিনেমা―সব মাধ্যমেই দেখা গেছে তাকে।

তিন দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আট-দশটি সিনেমা ও পাঁচ শতাধিক নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। তবে নাটকে খলচরিত্রে অভিনয় করে খ্যাতি লাভ করেন এ অভিনেতা। সম্প্রতি দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ার ও ইন্ডাস্ট্রির সমসাময়িক ব্যাপারে চ্যানেল 24 অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন রফিকুল্লাহ সেলিম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাহজাদা সেলিম রেজা―

➨ প্রথমেই বর্তমান ব্যস্ততা জানতে চাই?
এই মুহূর্তে আমি শোবিজে কাজ করছি না। মঞ্চ নাটকের সঙ্গেও যুক্ত নেই। ২০১৭ সালে আমার বাবা মারা যাওয়ার পর পারিবারিক ব্যবসা-বাণিজ্য, এলাকার স্কুল-কলেজ, মাদরাসা এবং রাজনৈতিক বিষয়গুলো নিয়েই ব্যস্ততা আমার। এসব কাজ সামলাতে গিয়ে এখন পর্দা বা মঞ্চের কাজ করতে পারছি না।

অভিনেতা রফিকুল্লাহ সেলিম

অভিনেতা রফিকুল্লাহ সেলিম

➨ মঞ্চ থেকে টেলিভিশন নাটক এবং সেখানে খলচরিত্রে জনপ্রিয় হলেন; শুরুটা কীভাবে হয়েছিল?
আমি অনেক দিন ধরেই মঞ্চে কাজ করতাম। ইন্টারমিডিয়েট (বর্তমান এইচএসসি) শেষ করার পর মঞ্চে নিয়মিত ছিলাম। আমার গ্রুপের নাম ‘ঢাকা নান্দনিক’। পরে আমাদের বিক্রমপুরের লেখক ইমদাদুল হক মিলনের সঙ্গে পরিচয় হয়। সেই সুবাদে তার ‘বারো রকম মানুষ’ নামের একটি নাটকে আমায় ডাকা হয়। এতে একটি কমেডি চরিত্রে কাজ করেছিলাম। চরিত্রটি ছিল দ্বিতীয় নায়কের; কমেডি ধাঁচের। এতে বিউটিফুল বলে একটি ডায়লগ ছিল। এর মাধ্যমে মোটামুটি পরিচিতি পাই। এরপর ১৯৯৪ সালে ‘রূপনগর’ নাটকে ডাকা হয় আমাকে। আমাকে বলা হয়, তোমাকে তো বড় কোনো চরিত্র দিতে পারলাম না, একটি মাস্তানের চরিত্র দেয়া হয়েছে। আমি সেটা করি। ভাবলাম, যদি ভালো করতে পারি তাহলে এই চরিত্র থেকেও বের হতে পারব। আমার একটি স্বভাব আছে, কো-আর্টিস্টরা কতটুকু যাবে, কেমন করবে, সেটা একটু ভাবি। তারপর আমি নিজের চরিত্র তৈরি করি। যাইহোক এরপর ‘রূপনগর’-এর সেই ছোট্ট টিপু চরিত্রটি এমনভাবে করলাম, যা সবার নজরে পড়ে গেল।

➨ থিয়েটারে জড়ালেন কীভাবে?
এইচএসসি শেষ করার পর সবারই তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক লক্ষ্য থাকে। আমিও এর ব্যতিক্রম ছিল না। এইচএসসি পরীক্ষা দেয়ার পর বন্ধুরা মিলে টিএসসিতে বসে আড্ডা দিতাম। সেখানে আবার দু-তিনজন বন্ধু গ্রুপে কাজ করতো। দূর থেকে বসে বসে তাদের দেখতাম। মাঝে মাঝে দূর থেকে ওদের ইশারা করতাম। ব্যাপারটা এমন ছিল যে, ‘অকাজ করতেছস তোরা। তাড়াতাড়ি বাইর হ।’ একপর্যায়ে ওই নাটকের ডিরেক্টর আমাকে ডেকে তাদের সঙ্গে কাজের কথা বলে। আমি না করলে আমাকে বলে, ভয়ের কিছু নেই। তখন আমি বলি, ‘আপনাকে কি একবারও বলছি ভয় করে আমার? বাস্তব জীবনে যা হচ্ছে সেটাই আপনারা করতেছেন, এখানে তো ভয়ের কিছু নেই।’ এরপর আমাকে অনেকবার তাদের সঙ্গে কাজের কথা বলা হয়। তখন আমাকে জানায়, তার একটি পথনাটকে এরশাদ চৌধুরীর একটি চরিত্র রয়েছে। আর আমাকে দেখতে নাকি অনেকটা এরশাদ চৌধুরীর মতো লাগে।

এ অভিনেতা আরও যোগ করেন, এটা ১৯৮৬ সালের কথা। এরপর তিনদিন রিহার্সাল করার পর নাটকটি করি। মঞ্চ নাটক তো, উপস্থিত দর্শকের সামনে মাইক হাতে নিয়ে ডায়লগ দেয়া খুব টাফ ব্যাপার। ডায়লগ সব ঠিকই ছিল, কিন্তু পা তো কাঁপাকাঁপি শুরু করে দিয়েছিল (হাসতে হাসতে)। শো শেষ করার পর ডিরেক্টরের পা ধরে বলি ভাই আমাকে মাফ করেন, আমি এসবের মধ্যে নাই। ডিরেক্টর জানায় আমি নাকি খুব ভালো করেছি। পরদিন সকালে বাড়িতে ডাইনিং টেবিলে বসেছি নাশতার জন্য। অপর পাশে দেখি আব্বা পত্রিকা পড়ছে। আর পত্রিকার শেষ পাতায় দেখি আগের দিনের মঞ্চ নাটকে আমার অভিনয়ের বিশাল একটি ছবি। ওইদিন সারাদিন যেখানে গেছি সবাই বলছিল, আরে পত্রিকায় তোমার ছবি দেখলাম। এই বিষয়টা খুব ভালো লেগেছিল আমার। তারপর থিয়েটারে জড়িয়ে যাওয়া।
অভিনেতা রফিকুল্লাহ সেলিম

অভিনেতা রফিকুল্লাহ সেলিম

➨ এ সময়ের নাটকের মান নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেন। আপনাদের সময়ের সঙ্গে তুলনা করে কিছু বলবেন?
আপনি হয়তো এটা বুঝিয়েছেন, এখন কিছু নাটকে অশ্লীল অঙ্গ-ভঙ্গির ব্যাপারগুলো মাঝে মাঝে বিভিন্ন মাধ্যমে দেখা যায়। এসব কিন্তু আমাদের সময় ছিল না। বর্তমানে যারা এসব কাজ করে, আমি বলব তারা সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য করে। যা আসলেই উচিত নয়। আমাদের সময় যারা নাটক-থিয়েটারে কাজ করেছি, তারা কখনো জনপ্রিয়তার জন্য কাজ করিনি। আমাদের কাজে দেশ, সমাজ বা মানুষের প্রতি বার্তা থাকতো কিংবা সমাজের অসংগতিগুলো তুলে ধরা হতো। এসবের কিছু না থাকলে আমরা কাজ করতাম না। আমরা কাজের আগে চরিত্রকে ভালোভাবে বিচার-বিবেচনা করতাম।

➨ এসব কাজ নিয়ে কিছু বলার আছে…
সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য যারা কাজ করে তাদের উদ্দেশে আমি বলব―আপনারা এমন কোনো কাজ করবেন না যা দ্বারা সমাজের ক্ষতি হয়, আপনার পরিবারের ক্ষতি হয়। এখন কিন্তু আমরা বউ, ছেলে-মেয়ে বা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে একসঙ্গে বসে নাটক দেখতে পারি না। কখন কোন ডায়লগ দেয়, কী কাজ করে বসে কিছুই তো বোঝা যায় না। বলতে পারেন এসব কারণে আমি এখন নাটক দেখি না। তবে ভালো কাজ যে হয় না, তা নয়। মাঝে মাঝে মোবাইল ফোনে কিছু নাটক দেখি। যা দেখলে খুব ভালো লাগে। কয়েকজন ডিরেক্টরকে আমি ফোন করে তাদের প্রশংসাও করেছি।

➨ নাটকে অশ্লীলতা, মানহীনতা দূর করতে কী করা যেতে পারে বলে মনে করেন?
এ ক্ষেত্রে সমাধানের পথ একটাই। সেটা হলো দর্শক। সবার আগে আমাদের দর্শকদের রুচির পরিবর্তন জরুরি। তবেই অশ্লীলতা থেকে মুক্তি সম্ভব। দর্শক যদি নিয়মিত মানহীন কাজগুলো দেখতে থাকেন, তাহলে তো মুক্তি সম্ভব না। প্রতিযোগিতায় গিয়ে ভালো জিনিস হারিয়ে যাবে। দর্শক যদি এসব নাটক বা কনটেন্ট দেখা বন্ধ করে তাহলে তো খারাপ কিছু তৈরি হবে না। তখন সবাই ভালো ভালো কাজ করবে।

অভিনেতা রফিকুল্লাহ সেলিম

অভিনেতা রফিকুল্লাহ সেলিম

➨ আপনাদের সময়ের শিল্পীদেরকে এ প্রজন্মের শিল্পীদের সঙ্গে খুব একটা দেখা যায় না। কারণ কী?
এখানে অনেক কিছু জড়িত রয়েছে। কিছু ব্যাপার আছে। বলা যেতে পারে এ, বি, সি, ডি, ই―পাঁচ ক্যাটাগরির পাঁচজন মানুষ। ‘এ’ ব্যক্তি নাটক পাওয়ার জন্য প্রোডিউসার, ডিরেক্টর, স্পন্সরদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। সবসময় নায়িকা নিয়ে চলাফেরা করে, কফি আড্ডা দেয়। স্বাভাবিকভাবে ‘এ’ ব্যক্তির সঙ্গে সবার ভালো সম্পর্ক থাকায় তার চাহিদা বেশি থাকবে প্রোডিউসার-ডিরেক্টরের কাছে। এদিকে ‘বি’ ব্যক্তি  কাজ ভালো জানে, ভালো কাজ করে বলে সে খুব একটা যোগাযোগ রাখে না। কারও ধরনা ধরে না। ‘বি’ মনে করে তাকে ডাকা হবে। কিন্তু তাকে ডাকা হয় না। এখানে তো ‘এ’ ব্যক্তির কারণে ‘বি’ ডাক পায় না। এভাবেই সি, ডি, ই কাজ পায় না। বলতে পারেন এটা এক প্রকার সিন্ডিকেট।

➨ পর্দায় নিয়মিত হওয়া নিয়ে পরিকল্পনা আছে আপনার?
ফিরব না, বিষয়টা তা নয়। এর মধ্যে যদি বিশেষ, গুরুত্বপূর্ণ কোনো চরিত্র পাই তাহলে অবশ্যই কাজ করব। সেটা যে হিরো বা ভিলেন হতে হবে, তা নয়। হঠাৎ যদি এমন কোনো চরিত্র চলে আসে, তাহলে অবশ্যই কাজ করব। এর বাইরে ১৬ ডিসেম্বর, ২১-শে ফেব্রুয়ারি, ২৬-শে মার্চে মুক্তিযুদ্ধ বা দেশাত্মবোধক নাটক ও সিনেমা হয়। এতে রাজাকার চরিত্রের জন্য আমাকে প্রয়োজন হয় প্রোডিউসার-ডিরেক্টরদের। এসব কাজ করি। আবার ঈদের সময় কিছু নাটক হয়, তাতে একটু কমেডি ধাঁচের বা রাগি স্বভাবের বাবার চরিত্র থাকে। এসব চরিত্রে কাজ করা হয়।

অভিনেতা রফিকুল্লাহ সেলিম

অভিনেতা রফিকুল্লাহ সেলিম

➨ দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ারে কোনো অপূর্ণতা রয়েছে?
মানুষের জীবনে চাওয়ার শেষ নাই। হাজার কোটি টাকার মালিক হওয়ার পরও মানুষ টাকার পেছনে দৌড়াতে থাকে। চরিত্র নিয়ে যদি বলি, তাহলে এখনো আমার মনে হয় যদি একটা সেই রকম চরিত্র পেতাম। যদিও এমন অনেক ভালো, দুর্দান্ত চরিত্রে অভিনয় করেছি। তারপরও কেন যেন মনে হয়, যদি মন-দিল দিয়ে সেই রকম একটা চরিত্র করতে পারতাম।

➨ পুরস্কার নিয়ে…
বিভিন্ন মিডিয়া সংশ্লিষ্ট সংগঠন থেকে তো অনেক পুরস্কার পেয়েছি। এ নিয়ে কোনো চাওয়া নেই। তবে আমি কোনো জাতীয় পুরস্কার পাইনি। জাতীয় পুরস্কারের ক্যাটাগরিতে যাওয়া হয়নি আমার। এক সময় এটা যদিও আশা ছিল। আমি যখন কাজ করি ওই সময় কিন্তু সিনেমায় খলচরিত্রে পুরস্কার ছিল না। শ্রেষ্ঠ অভিনেতা ও অভিনেত্রীর পুরস্কার ছিল। আবার পার্শ্বচরিত্রে পুরস্কার রয়েছে। এই পার্শ্বচরিত্রে আবার খলচরিত্র আনা হয় না। তো তখন এক সাংবাদিক বন্ধু বলেছিল, যদি খলচরিত্র ক্যাটাগরিতে পুরস্কার থাকতো তাহলে রফিকুল্লাহ সেলিম তার তিন নাটক থেকে বাছাইকৃত হয়ে অন্তত একটি পুরস্কার পেতেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Categories

© All rights reserved © 2022 mannanpresstv.com
Theme Customized BY WooHostBD