প্রতিবেশি চাচিকে তার কথিত প্রেমিকের সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখে ফেলায় কুমিল্লায় শিশু আরিয়ান হোসেন সায়মনকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার দুপুরে জেলার পুলিশ সুপার মো. আব্দুল মান্নান নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।
চলতি বছরের ১৯ অগাস্ট দুপুরে তিতাস উপজেলা সদরের কড়িকান্দি ইউনিয়নের কলাকান্দি গ্রামের বজলুর রহমান নামের এক ব্যক্তির জমির কাশবন থেকে সাত বছর বয়সী সায়মনের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
ওইদিনই তিতাস থানায় একটি মামলা দায়ের করেন তার মা খোরশেদা আক্তার। চার মাস পর শনিবার রাতে কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় এলাকা থেকে ৪২ বছর বয়সী মো. বিল্লাল পাঠানকে গ্রেপ্তার করল জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
কলাকান্দি গ্রামের মাস্টারবাড়ির সৌদি প্রবাসী আবুল কাশেমের ছেলে সায়মন স্থানীয় পেরুজল ইসলামিক স্কুলের প্লে-শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
গ্রেপ্তারের পর হত্যাকাণ্ডে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা বিল্লাল স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ সুপার মান্নান জানিয়েছেন।
বিল্লালের বরাতে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিল্লালের স্ত্রীর বড় বোন শেফালী আক্তারের স্বামী বিদেশে থাকতেন। এ সুযোগে শ্যালিকার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। চলতি বছর ১৬ অগাস্ট বিকালে সায়মন খেলতে গিয়ে শেফালীকে বিল্লালের সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখে ফেলে।
“এ সময় সায়মন বলে যে, দেইখা ফালাইছি হগলরে কইয়া দিমু। তার এ কথা শুনে আতঙ্কিত হয়ে সায়মনের গলা ও মুখ চেপে ধরেন বিল্লাল এবং সায়মন যেনো এ কথা কাউকে জানাতে না পারে, তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।”
এ সময় শেফালী তার আলমারির ওপর থেকে ছুরি এনে দিলে বিল্লাল সায়মনের বুকের দুই পাশে তিন থেকে চারটি গভীর ছুরিকাঘাত করেন বলে জানান পুলিশ সুপার।
তিনি বলেন, “সায়মনের মৃত্যু নিশ্চিত করে বিল্লাল ও শেফালী ঘরে থাকা একটি প্লাস্টিকের বস্তায় লাশ ঢুকিয়ে খাটের নিচে রেখে দেয়। পরে রাত ১২টার পর বাড়ির পাশে বালুর মাঠে কাশবনের ঝোঁপের মধ্যে বস্তাবন্দি লাশ ফেলে দেয়।
“লাশের যেন পরিচয় পাওয়া না যায়, এজন্য বিল্লাল লাশের ওপর এক ধরনের কেমিক্যাল ঢেলে যায়। যার কারণে সায়মনের চেহারা বিকৃত হতে শুরু করেছিল।”
এ ঘটনায় জড়িত ৪২ বছর বয়সী শেফালী আক্তার কলাকান্দি গ্রামের প্রবাসী জামাল মিয়ার স্ত্রী। তিনি নিহত শিশু সায়মনের সম্পর্কে চাচি হন বলে পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান জানান।
মান্নান আরও বলেন, সায়মনের লাশ উদ্ধারের পরদিন ২০ অগাস্ট শেফালীকে তিতাস উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যে হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার এবং বিল্লালকে গ্রেপ্তার করতে ঢাকা, কুমিল্লা ও সুনামগঞ্জে অভিযান চালানো হয়।
বিল্লালের নামে দুইটি মারধরের মামলাও রয়েছে। তাকে কুমিল্লার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।