যুথি -কি মিরা কেমন ভ্রমন হলো এ যাত্রায় সিলেটের তাপমাত্রা কেমন ঢাকায় তো ৪০°
মিরা – যুথি কে বললো হুম ভালোই হলো ভ্রমন পাবনার পাগলরাও এর থেকে বোধ হয় ভালো হাহাহা মিরা এই বলে শুধু হেসেই চলছে হাসি থামাতে পারছে না
যুথি – এই মিরা কি হলো এতো হাসছিস কেন কি হয়েছে কেমনে গেলি সব খুলে বল।
মিরা – হুম বলছি তবে শোন, সিলেট এক প্রবাসী সে তার নিজ গ্রামে ফিরে এসেছেন শুধুর আমেরিকা থেকে নাম শাহ্ মোহাম্মদ সুফি নুর সে একজন সাহিত্য প্রেমিক তার সাহিত্য গ্রুপের নাম ইউএসএ- বাংলা আন্তর্জাতিক সাহিত্য ফোরাম। তো সেখানে অনেক কবি সাহিত্যিকদের নিমন্ত্রণ করেছেন দেশ – বিদেশ থেকে অনেকেই উপস্থিত হয়েছেন ওরা ওদের মতো করে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছেন দেখে মনে হলো
যুথি দেখে মনে হলো মানে তার মানে কিছু জগা খিচুড়ির গন্ধ পাচ্ছি
মিরা – হুম, বলছি শুন আব্দুল গনী নামের এক ভদ্রলোক সে একজন কবি আর রবি নামের একজন সে ভদ্রলোকও একজন কবি ও সাংবাদিক ওনারা দুজন প্রাচ্যবাংলা সাহিত্য সামাজিক গ্রুপের মেম্বার তো ওনারা বললো আমদের অনেক কবি আপা কবি বন্ধুরা যাবেন সিলেট এ প্রগ্রামে সাথে সিলেট জাফলং, বিছানা কান্দি, সাদা পাথর, চা বাগান আরো কিছু কিছু জায়গা ঘুরা হবে সবাই মিলে গেলে আনন্দ হবে তুমি তো আমাদের সাথে যেতে পারো সব কথা ফোনে ফোনে চলতে লাগলো
যুথি মন দিয়ে নীরবে শুনে যাচ্ছে।
রবি – মিরা তুমি চলো আমাদের সাথে দুদিন ব্যাপি অনুষ্ঠান এর পর আমরা ঘুরা ফেরা করবো খুব আনন্দ হবে চলো
মিরা – ভাই আচ্ছা যাওয়া আশা কিভাবে কি সব বিস্তারিত বলেন।
রবি- এসি ট্রেনে যাতায়াত হবে আর আর সিলেট যেয়ে আমরা ভালো কোনো লোকেশনে উঠবো এটা বাংলাদেশ ব্যাংকে কর্মরত আছেন হালিমা আপা উনি সব ঠিক করে রেখেছেন এ নিয়ে কোনো চিন্তা নেই নিরাপদভাবেই সবাই থাকতে পারবে
মিরা – ও আচ্ছা, তো ভাই আমি যে যাবো আমি কার সাথে থাকবো রাতে কোনো মেয়ে কি যাচ্ছে?
রনি- হুম দিবা, শিলা, এরা সিঙ্গেল আছে আর আমি আমার পরিবার নিয়ে যাচ্ছি আমার শাশুড়ীসহ, হাসিনা আপা ওনার পরিবার, সিপার পরিবার, রসু আপা ওনার হাসবেন্ড এমন অনেকেই সব মিলিয়ে ২০ থেকে ২৫ জন
মিরা – হুম বুঝলাম ঠিক আছে ভালোই মনে হচ্ছে তবে আমার এক কথা আমার সব নিরাপত্তার দায়িত্ব কিন্তু আপনার উপর কোনো বাজে মন্তব্য বা বাজে কোনো ঘটনার ফেস হতে যেন না হয়।
রবি- আরে না কোনো সমস্যা হবে না তুমি আমাদের ছোট বোন তোমার প্রতি সবারই খেয়াল থাকবে কোনো রকম সমস্যা হবে না।
গনি মিরা কি খবর কি সিদ্ধান্ত নিলা যাবে কি সিলেটে অনেক গরম পড়ছে আমি যাবো অনুষ্ঠান শেষ হলে আমি হয়তো চলে আসবো ঘুরাফেরার সময় হবে না।
মিরা – ও তাই? আমি তো ফিরতি টিকিট কাটতে বলেছি রবি ভাইকে সবাই এক সাথে যাবো এক সাথেই আসবোও তাই।
গফুর – তুমি তো বেশি বুঝ নিজে নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নাও
মিরা – হুম তো কি! ঠিকই তো আছে আমি সহজ সরল কোনো ঘোর প্যাচ নেই যেটা ভালো মনে করেছি তাই তো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
দুদিন পর কিং কিং রিং বেজে উঠল
মিরা – কে ফোন করলো দেখিতো
গনি – কি হলো তোমারে কখন থেকে কল করতাছি রিসিভ করছো না যে
মিরা – আমি ব্যস্ত ছিলাম, আচ্ছা কি বলবেন বলেন
গনি – টিমে তো আরও মানুষ বাড়ছে টিকিট কিনতে হবে রবি আমারে রেলস্টেশনে যেতে বলছে আগামীকাল কমলাপুর রেল স্টেশন তুমি আসবা নাকি এ দিকে
মিরা – আমি এ গরমে বের হবো না আর যাওয়ার কি দরকার টিকিট তো কেনা হয়েছে, আমি রবি ভাইকে বিকাশে গতকালই টাকা দিয়ে দিয়েছি
গনি – না এমনই আসতে বলছিলাম ভাবলাম সারাদিন ঘরেই থাকো বের হওনা একটু বের হলে দেখা হতো ঘুইরা গেলা এই আর কি আর আমিও ভাবতাছি ফিরতি টিকেট কাটবো সবার সাথেই আসবো কি বলো মজাই হইবো ভাবলাম ঘুরাফেরা করেই আসি
মিরা – হুম সে আপনার ইচ্ছে যা ভালো মনে করেন করবেন আমার কি বলার আছে।
যথা রীতি ২৫ তারিখে সবাই সময় মতো রেলস্টেশনে মিলিত হলো গাড়ি রাত ১০ টায় ছাড়লো গাড়ি চলছে গাড়িতে যে যার মতো বসে পড়লো কিছুক্ষণ পর রবি ভাই সবার টিকেট মিলাচ্ছে যায়গা পরিবর্তন করে অনেকে তার আসনে বসে। এভাবে চলতে লাগলো হটাৎ চিল্লাচিল্লি গালাগালি! কি হলো কি হলো হৈচৈ কিসের শুনলাম গনি ভাইয়ের এক কলিক তার স্ত্রীকে নিয়ে আমাদের সাথে বেড়াতে যাচ্ছে কিন্তু তার আসনটি ঠিক মতো বুঝে পাচ্ছে না বার বার তাকে যায়গা পরিবর্তন করতে হচ্ছে এর জন্য সে রাগান্বিত রবি ভাই কে বলছে টাকা ফেরত দিতে তারা নেমে যাবে আবার বলছে ডাবলের ডাবল টাকা দিয়েছে তারপরও তাকে হয়রানি করা হচ্ছে বেটা খচ্চর টাকা খাইয়া এখন বিটলামি করছোস তাড়াতাড়ি টাকা দে নইলে এখনই ঘাড়ে খাবি, ওরে বাবারে এই বেটা তো ছোটখাটো হাতির মতো রবি ভাইকে একটা দিলে তো ৩ দিন পড়ে থাকবে অসুস্থ হয়ে এমনই শরীরের গঠন! রবি ভাই অনেক ধর্য্যশীল মানুষ, সে সব হজম করে পরিবেশ ঠান্ডা করলো তাদের বসার ব্যবস্থা করে দিলো, ধিরে ধিরে গাড়ি চলছে হটাৎ গাড়ির স্পিরিট বেড়ে গেলো সব জানালা খোলা, জানালা খোলা রাখার কারণ হলো এসি গাড়িতে যাবার কথা থাকলেও টিকিট কাটা হয়েছে নন এসি, সেই কি শব্দ মনে হচ্ছে সব ভেঙে চুড়ে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এমন বিকট শব্দ!
মিরা – চুপচাপ সবটা উপভোগ করছে হটাৎ পিছন থেকে একজন বলে উঠলো আমার কিছু ভালো লাগছে না কি করি ও চট্টগ্রাম থেকে বারবার ছবি পোস্ট করছে আমি তো পোস্ট করতে পারছিনা! তার ভিষণ মন খারাপ ওনার নাম মালেক রিটায়ার্ড পুলিশ কর্মকর্তা ওনার সেই কি অবস্থা ছটফট ছটফট করছে
মিরা – আচ্ছা এই লোকটা কে যে চট্টগ্রাম থেকে ছবি ছাড়ছে ফেসবুকে তা দেখে ওনার এমন সমস্যা
গফুর – তুমি এসব বুঝবা না বুড়ো হইছে তার মনের রং কমে নাই চট্টগ্রাম থেকে হের গার্লফেন্ড ছবি তুলে ছাড়ে আর এহন হেয় হেরে মিস করতাছে এ শুনে সবাই হাসাহাসি শুরু করলো
একটু পর পর দেখি মালেক যারে পায় তার সাথে ছবি তুলে ফেসবুকে দিয়ে দিচ্ছে এ নিয়ে সবাই বিরক্ত সবার ধারণা ওনার ছবি তোলার রোগ এক রকম প্রতিবন্ধী! ছবি তাকে তুলতেই হবে মিনিটে মিনিটে ছবি তোলে আর ফেসবুকে পোস্ট করে এ নিয়ে সবাই আতঙ্ক! বিশেষ করে মহিলা বা মেয়েরা সবার কাছে গিয়ে দাড়ায় আর বলে একটু তাকাও তো ছবি তুলি প্রথমে কেউ বুঝে উঠতে পারেনা পরে দেখে ওনার আন লিমিটেড ছবি তোলার শখ!
দিবা – ঘুম পাচ্ছে আপনি আমায় বিরক্ত করবেন না মালেক কে উদ্দেশ্য করে বলছে এরই মাঝে সিপাত নামের একজন এসে মকবুল কানে কানে বলছে আপনার নাকি মাথা ঠিক নাই রিটায়ার্ড হয়েছেন হালকা স্বভাবের, লুজার, মেয়ে দেখলে মাথা ঠিক থাকে না!
মকবুল – এই কথা শোনে সেই চেতা কে বলছে এই কথা আমি পাগল আমি লুজার একবার এদিক লাফ মারে একবার ওদিক ঘুরে সেই কি হৈ-হুল্লোড় এ সকল বিষয় নিয়ে সিপাত নামের লোকটা পাগল নাড়া দেওয়ার মতো অবস্থা করে সে সাইড কেটে বেজা বেড়াল সাজল সে যেন কিছুই জানে না এমন ভাব নিলো আর এ দিকে মালেক কে নিয়ে ভিতরে ভিতরে সবাই মজা নিচ্ছে
পর্ব ২
যুথি – রিমা দাড়া আমি একটু খাবার নিয়ে আসি খেতে খেতে গল্প শুনবো
রিমা – ঠিক আছে তোর তো আবার ক্ষুধা বেশি মুখ না নড়লে হয়না যা তাড়াতাড়ি আসিস।
যুথি – কিরে রিমা কি হলো কার সাথে ফোনে কথা বলছিস
রিমা – একটা প্রগ্রামের ব্যাপারে কল আসলো
যুথি – ও আচ্ছা ঠিক আছে নাস্তা সেরেনে এর পর বাকি গল্প বল।
রিমা – ঠিক আছে শোন, ট্রেন চলছে রাত প্রায় ২ টা বাজে গনী ভাইকে পিছনে কে যেন ডাক দিলো উনি উঠে দাড়ালেন বল্লো পিছনে হাসিনা আপা ডাকছে ওনাদের সাথে একটু গল্প করে আসি, আমি চোখ বন্ধ করে চুপচাপ বসে আছি হটাৎ কেউ একজন আমার পাশের সিটে বসেই বলছে এই রিমা তাকাও তো একটা ছবি তুলি চোখ খুলে দেখি সেই আতঙ্ক!
মকবুল – এই রিমা একটু তাকাও ছবি তুলবো আমি মাথা নত করেই আছি বিরক্ত লাগছে এতো ছবি তোলার কি আছে তাও আবার ওনার আনলিমিটেড ছবি তোলার শখ হাহা হাসি পাচ্ছে বিরক্ত লাগছে মাথা তো তুলছি না ঘাড় বাকা করেই আছি সাথে সাথে উঠে গেলেন, পাশের সিটে দিবাকে গিয়ে বলছে এই শোনো না রিমা-না আমার সাথে ছবি তুলছে না ওর এতো অনিহা কেনো!
দিবা – আপনি অন্য দিকে যানতো আমায় বিরক্ত করবেন না
মকবুল – দুর এরা আমার সাথে কেউ ছবি তুলতে চায় না আমি তো ফেসবুকে ছবি ছাড়তে পারছি না কেমন একটা অসহায় ভাব নিয়ে এবার সে চুপচাপ।
কিছুক্ষণ পর গনি ভাই নিজের আসনে এসে বসলেন এরই ভিতর রবি ভাই ও একজন ভদ্র মহিলা ৩ বা ৪ বছরের একটা ছেলে কোলে নিয়ে ওনার পিছন পিছন হাটছে আমাদের সিটের পাশ দিয়ে যাচ্ছে আমি জিগ্যেস করলাম কে এই ভদ্র মহিলা গনি ভাই বললেন এটা রবির স্ত্রী, রবি হইলো তাল গাছ আর এটা হইলো বাইট্টা টেবলেট বলে হেসে দিলো জানি উনি মজা করতে পছন্দ করে তাই বলে মানুষকে এমন করে বলা ঠিক নয় চুপচাপ নিজের মতো রইলাম কিছুক্ষণ পর হাসিনা আপা আসলেন গনি ভাইয়ের কাছে তোমরা গানটান করো যেতে যেতে ভালো লাগবে তখন গনি ভাই ওনার লেখা গান গাইলেন সখের পিরিত হাউসের পিরিত কোনো দিনও এক হয় না, গান শেষ হতে হতেই গনি ভাইয়ের চোখ পড়লো দিবা আপুর দিকে,
দিবা – এই বুইড়া আমারে চোখ মারলো কেনো? দিবা চোখ বড় বড় করে চোখে চোখে শাসন করছে!
গনি – হাহাহা হাসতে হাসতে বল্লো তোমারে আমার মনে ধরছে আমার বাপ যদি বাইচা থাকতো তাইলে তোমার বাড়ি ঘটক পাঠাইতাম।
দিবা – আহারে যেই না চেহারা নাম রাখছে পেয়ারা।
গনি – কেন দেখতে কোন দিকে কম আছি নাকি?
গনি – দিবা চলো রাজি থাকলে পালাইয়া যাই কামটা সাইরা ফালাই
দিবা – বুইড়ার বুইড়াকালে ভীমরতিতে ধরছে মন চাইতাছে মরিচ ভাইঙ্গা চোখে ডইলা দেই
গনি – আরে এতো চেতো ক্যা? তোমারে যে আমি এতো পছন্দ করছি তোমার এ বয়সে আর কেউ এভাবে বলবো?
দিবা- বলার জন্য আমার জামাই আছে মরে নাই এখনো আমার জামাই তোমার থেকেও স্মার্ট, ও জানলে তোমারে জাম্বুরার খোসার মতো বল বানাইয়া শর্ট মারবো, গনি ভাই যেমন মজা করে কথা বলে দিবাও কম যায় না কেউ কাউকে কথায় ছাড় দেয় না কথার কাটাকাটি চলছে এর ভিতরে রবি ভাই এসে বলছে লাইভ হবে সবাই এ যাত্রা পথের অনুভূতি প্রকাশ করবেন এই নিয়ে চললো লাইভ আড্ডা
কিছু সময় পর-
সিপাত – মকবুলের কানে কানে গিয়ে বলছে আপনাকে না দিবা পাগল বলছে আর গনি ভাই আর দিবা চুটিয়ে গল্প করছে-
মকবুল – কি দিবা আমার সাথে ছবি তোলে নাই গনির সাথে গল্প করছে আবার আমায় পাগল বলছে! চোখ বড় বড় করে নাকের ডগায় চশমা রেখে তাকিয়ে দিবাকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলবে বলে দাড়িয়ে পড়লো সিট থেকে বের হয়ে গলা ছেড়ে গান ধরলো দিবাকে উদ্দেশ্য করে –
কিবা তোমার নাম ঠিকানা বাড়ি কোন গ্রাম? নাম ঠিকানা যদি জানিতাম, আমি তোমার বাড়ি ঘটক পাঠাইতাম আমি তোমারে বউ বানাইতাম।
দিবা – আরে বুইড়াগো তো দেখি পিরিত জ্বালাইছে পানি জানি কোন দিকে গড়াইতাছে এরে কয় কোন পাগল জাতে মাতাল তালে ঠিক এই বুইড়া এতো সুন্দর গান শিখলো কবে!
নাচতে নাচতে মকবুল গান গেয়ে চলছে
পর্ব – ৩
মকবুল – গান শেষ হলে মকবুল কায়দা করে সিফাতের পাশের সিটে বসলো গাড়ি চলছে মাঝে মাঝে বেশ শব্দ হচ্ছে
রবি – এই শেলী তুমি যেন কি বলবা বলছিলা
শেলী- হুম ঐতো কখন কোথায় ঘুরবো সে রুটিন টা ঠিক করে ফেলতাম
রবি – ও আচ্ছা সে তো ভালো কথা ঠিক আছে তো কখন কোথায় ঘুরবো একটা রুটিন হয়ে যাক, যেই কথা সেই কাজ রুটিন ঠিক করলো,পিছন থেকে মেয়ে কন্ঠ এই বাবুর বাপ বাবুকে একটু নিয়ে যাও তো ওর হিসু পেয়েছে হিসু করাইয়া আইনা দাও
রবি – আসতাছি সাথে সাথে চলে গেলো বাবুর মায়ের কাছে সাথে আছেন শাশুড়ী রবি ভাই প্রায় রোবট এর মতো চলছে কারণ ভ্রমনে বউ বাচ্চা সাথে শাশুড়ী সব মিলিয়ে জটিল অবস্থা। বাবুকে যথা সময় আবার বাবুর মায়ের কাছে দিয়ে আসলো, রাত প্রায় ৩ টা বাজে এর ভিতর রবি ভাই দিবা আপুর কাছে গেলেন
রবি – এই দিবা কি খাও একা একা আমাদের রাইখা
দিবা – ছোলা আর বাদাম নিন খেতে থাকেন রবি ভাই কয়েক মুঠো খেয়ে কোষ ভরে কিছু ছোলা বাদাম এনে গনি ভাইকে দিলেন বল্লেন নেন খান
গনি – আরে তুমি এত রাতে এগুলো কই পাইলা
রবি – দিবা দিছে
গনি – মানে আমি ওরে এত লাইক করি আমারে না দিয়া তোমারে খাওয়াইলো কামটা তো ভালো হইলো না, তুমি হ্যারে কি যাদু করছো যে তোমার লাইগা হ্যার এতো টান!
রবি – দুর ভাই মজার কথা বাদ দেন তো আগে খান পরে কথা এই বলে রবি ভাই চলে গেলো সামনে শেলীর পাশে একটা সিট খালি ছিল সেখানে বসলো
শেলি- রবি ভাই এখানে আসছি মূল উদ্দেশ্য হলো ঘোরাঘুরি করবো কে কি বললো তাতে মাথা ঘামানোর দরকার নেই
রবি – হুম আমিও তো আমার পরিবার নিয়ে আসছি ঘুরার উদ্দেশ্যে
শেলি – রবি ভাই আপনার শাশুড়ী কি এতো ঘুরাঘুরি করতে পারবে?
রবি – আসছে তো ঘুরার জন্য ওনার আবার নিউরো সমস্যা আছে ঘুরলে যদি ভালো লাগে তাই নিয়ে আসলাম।
শেলি- কথা বলার সময় অসময় রবি ভাইয়ের দিকে বেশ কয়েক বার মুগ্ধ মনে তাকাচ্ছে
রবি – কি দেখছো ওমন করে
শেলি – কিছু না এমনই
রবি – শেলি তোমায় জিন্স আর টপসে বেশ লাগছে এই বলে রবি ভাইও এবার চোখে চোখ রাখলো
রিমা – গলাটা কেমন শুকিয়ে আসছে গনি ভাইয়া পানি খাবো
গনি – ব্যাগ থেকে পানির পট বের করে দিলো
রিমা – পানি ঢকঢক করে প্রায় এক গ্লাসের মতো পানি প্রান নিলো চোখ পড়লো শেলি আর রবি ভাইয়ের দিকে আহা কি মনোরম দৃশ্য!
রিমা – এ দৃশ্য দেখে গুনগুন করে গান ধরছে এক পলকে একটু দেখা আরও একটু বেশি হলে ক্ষতি কি যদি কাটে প্রহর পাশে বসে মনের দুটো কথা বলে ক্ষতি কি!
রিমা – গুনগুন করে গান করছে আর ভাবছে আসলে মানুষের জীবনে ভালো লাগার এক এক মুহূর্ত এক এক রকম!
গনি – এই রিমা তুমি ওগো দিকে এমন কইরা চাইয়া রইছো ক্যা? ও তাই তো কই রবি ছোলা দিয়া ফুরুত কইরা গেলো কেন! আর তুমি ওগো এমন দৃশ্য দেইখা এমন গান গাইতাছো এবার বুঝলাম এ গান গাওয়ার মানে কি। দেখছোনি রবি যে সরল মনে এমন কইরা শেলির লগে এমন গল্প জোড়াইছে ওর বউ দেখলো তো একেবারে খাইয়ালাইবো।
রিমা – কেন কি হইছে মানুষ তো মানুষের সাথে একটু গল্প করতেই পারে কি এমন হইছে যে হ্যার বউ হ্যারে খাইয়ালাইবো
গনি – এইডা তুমি বুছতানা আমরা যারা বিবাহিত আমাগো জীবনডা আ্যকেবারে তেজপাতা বউ পাশে থাকলে কোনো বিডিতার দিকে তাহান যাইতো না কাজ ছাড়া কতা কওন যাইতো না আর ওয় এমন কইরা এহেবারে ছিনেমা ইস্টাইলে চাইয়া রইছে ওরে এমনে দেখলে তো যাতা কইয়া ইজ্জত মাডামাডা কইরা হালাইবো
মিরা – এবার আর হাসি চাপা দিয়ে রাখতে পারলো না খটখটে হাসি দিয়ে উঠলো
গনি – মিরার এমন বাচ্চাসুলভ হাসি দেখে গনি ভাইও এক গাল হাসি হেসে নিলেন।
দিবা – এই তেমাগো কি হইছে এমন কইরা হাসতাছো কেন
দিবা – এই রবি ভাই দেখেন তো ওরা এমন করে হাসছে কেন
রবি – হটাৎ করে রবি ভাইয়ের খেয়াল এদিকে এলো হুম দিবা আসি দেখি নাতি আর দাদা কেন এতো হাসে।
পর্ব – ৪
সিফাত – আপনি কি একটা ব্যাপার খেয়াল করছেন?
বাবুর মা- কি খেয়াল করতাম?
সিফাত – সবাই দেখলো আর আপনি দেখলেন না!
বাবুর মা – কি হইছি খুইলা কন আমি তো আমার মা আর বাচ্চারে নিয়া ব্যস্ত
সিফাত – আপনার জামাই যে ঐ আপার সাথে ভাবে মইজা গেছে হেইডা দেখেন নাই
বাবুর মা – কোন আপা? আর আমার জামাই ভাবে মজচ্ছে এইতা কিতা কইতাছেন ভালো কথা কি মুখে আসে না? সিফাতরে ধমক দিয়া থামাইলেও নিজের মনে কিন্তু ঠিকই হার্টবিট বেড়ে গেছে
সিফাত- মনে মনে কয় কাম যা করার কইরা ফালাইছি এবার এখান থাইকা ভাগি হাহাহিহি মনে মজা মাইরা স্থান পরিবর্তন করলো।
রবি – গনি ভাই কি হইছে তোমরা এমন কইরা হাসছো কেন দিবার মনে হয় ঘুমের ডিস্টার্ব হইছে এমনই মনে হইলো।
গনি – আরে না আমরা তো তোমাগো রোমান্টিক সিনেমা দেখতাছিলাম এই বলে গনি ভাই হালকা স্বরে সুর ধরে বললো পড়ে না চোখের পলক কি তোমার রূপের ঝলক আহ্ কি মনোরম দৃশ্য
রবি – গনি ভাই যে এতো মজা করতে পারেন আপনার থেকে আসলে অনেক কিছু শিখার আছে এরই মাঝে পিছন থেকে মেয়ে কন্ঠ বাবুর বাপ এই বাবুর বাপ
গনি – আমার থেকে কিছু শিখা লাগবে না যাও পিছনে যাও সেখানে গেলে কিছু শিখতে পারবা। রবি আসতাছি
বাবুর মা – এই তুমি আমাদের কেন আনছো সারারাত তো দেখি ট্রেনের এ মাথা ঐ মাথা কইরা পাড় করলা শাশুড়ী বউ বাচ্চাদের খবর রাখছো কি? আর কার সাথে এতো গল্পে মইজা যাও?
রবির শাশুড়ী – এই সব কইরাই কি চলবো কাম কাজ কি নাই কাম করেনা কাজ করেনা শুধু ঘুইড়া বেড়াইলেই কি চলবো?
আমার মাইয়াডা যে কি জীবন গড়লো আল্লাহ কি আজাব দিলো হাতে ধইরা জীবন নষ্ট করলো একলা একলা বিয়া কইরা এখন এই কান্ড! বকবক শুরু করলো
রবি – এই তোমার মারে সামলাও নিউরো সমস্যা বাড়ছে, এরই ভিতর ওঠে দাড়ালো শেলি
শেলি- কখন কোন সময় কোথায় বেড়াবে সে তালিকা বলতে লাগলো, বলা শেষ এরই ভিতর রিমা উঠে দাড়ালো
রিমা – দেইখালাইছি কইয়া দিমু দেইখালাইছি কইয়া দিমো
শেলি – হাসি মুখে বলছে কি বলবা বলো
রিমা – সখি তোরা প্রেম করিওনা, পিরিত ভালানা, সখি তোরা প্রেম করিওনা, প্রেম করছে যে জন, জানে সে জন পিরিতের কি বেদনা।প্রেম করে ভাসলো সাগরে অনেকে পাইলো না কূল, জগৎ জুড়ে বাজে শুনি পিরিতের কলঙ্কের ঢোল।
দিতে গিয়ে প্রেমের মাশুল মান কূলমান রইলা, সখি তোরা প্রেম করিওনা পিরিত ভালা না গানটি চমৎকার ভাবে পরিবেশন করলো রিমা সবাই তালে তাল মিলালো, এরই মাঝে -শেলির দিকে, মকবুলের দিকে, আর গনি এ তিনজনের দিকে ঘুরেঘুরে দিবা তাকাচ্ছে মিটমিট করে হাসছে গনি ভাই এবার দিবার চোখে চোখ রাখলো দিবাও চাইয়া রইছে
গনি – চাইয়া রইছোস কেন কি কবি ক তুই কইলেই তো আমি কমু হ সবাই গানে টান দিলো, আনন্দের মাত্রা বেড়েই চলছিল বিপরীত মুখি ট্রেন এবার ট্রেনের গতি ধিরে ধিরে কমছে মনে হচ্ছে গন্তব্যে এসে গেছি সকাল ৬ টা বাজে
রবি – এই সবাই সবার জিনিসপত্র নিয়ে ধিরে ধিরে নামো।
ট্রেন থেকে নামতে দেরি শুরু হলো ছবি তোলার বাইছকুপ! রিমা – মনে মনে ভাবছে ভাতের সাথে ছবি মিশাইয়া ভাত খাওন যাইতো তাইলে মনে হয় মনের সাথে এগো পেটও ভরতো এতো ছবি তুলতে পারে এরা অহ্ বাবারে বাবা সিলোটিরা যেমন ভাতের লগে চা খায় এরা পারলে ছবির লগে ভাত খাইতো মানে কিছু তা আর বাদ নাই
ট্রেনের যে ওয়াশরুম ঠিক সেই বরাবর বাহিরে নাইমাই এরা ছবি তোলা শুরু করছে! ওরে আল্লাহ কি ছবি তোলার নেশা এ টিমে না আসলে তো এ বাইছকমু খেলা দেখা মিস কইরা ফালাইতাম! আহারে আল্লাহ এগো নাকে কি কোনো গন্ধ পায় না! কি বাজে গন্ধ আর এরার মনে হইতাছে জান্নাতে দাঁড়াইয়া ছবি তুলতাছে! সবাই মিলে এই রিমা এই তুমি আসো একসাথে ছবি তুলি।
রিমা – ওরে বাপরে বাপ এই গন্ধের ভিতর এক মুহূর্ত দাঁড়াইতে পারতাম না মনেমনে ভাবছে, মুখে কিছু বলছে না
রিমা – না-না আপনারা তোলেন আমি এখন তুলবো না, সবার ছবি তোলা হলে দুটি বারো সিটের মাইক্রো নিয়ে গন্তব্যে পৌছালো।
চলবে….