হঠাৎ খানিকটা বৃষ্টি ফোঁটা এসে
ভিজিয়ে দিয়ে গেল
আমার বন্ধ ঘরের জানালার পর্দা ,
আর সাথে করে নিয়ে চলে গেল
আমার মাঝ রাত্তিরের তন্দ্রাচ্ছন্ন বিলাস!
প্রচন্ড তাপদাহকে বুড়ো আংগুল দেখিয়ে
মুহূর্তেই যেন সব শীতল করে দিল
আত্মপ্রত্যয়ী এক পশলা রূপালী বৃষ্টির ছাঁট!
সাথে বয়ে যাওয়া লু হাওয়া
যেন খুলে দিয়ে গেল আমার
অনুভবী মনের দুয়ার।
ইশ্! কতোদিন বৃষ্টি ছুঁয়ে দেখা হয়নি!
শুধু কি বৃষ্টি!
সকাল ছোঁয়া হয়নি ! রোদ্দুর ছোঁয়া হয়নি!
ছোঁয়া হয়নি অন্ধকার কিম্বা প্রেম !
এমনকি ছোঁয়া হয়নি প্রিয় সন্তানের
কচি কোমল দু’খানি হাত!
আমার চার দেয়াল জোড়া একাকীত্ব
রোজ প্রশ্নবোধক চিহ্ন এঁকে দিয়ে যায়
মনুষ্য সভ্যতার কংক্রিট হৃদয়ের মাঝ বরাবর!
কি নিয়ে এতো বড়াই তোমাদের?
অর্থ – বিত্ত – মেধা সব কেন পরাভূত আজ ?
রবের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে কি
পৌঁছে দেয়া হয়নি কোনো ঐশী বাণী?
যদি তোমরা জানতেই যে-
এই পৃথিবীতে কেউই চিরস্থায়ী নও !
তবে কেন এতো হিংসা! মারামারি ! হানাহানি!
এখনো সময় আছে –
বন্ধ করো সব অন্যায় – ব্যভিচার!
নতজানু হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করো
– মহান সৃষ্টিকর্তার দরবারে!
ভাবনায় ছেদ আসে কিছু খুনসুটি খেয়ালে।
মাঝেমধ্যে মনে হয় –
এই বন্ধ ঘরে দুই একটা আরশোলা
বা টিকটিকির দেখা পেলে ভালো হতো খুব!
ইবাদত শেষে ছেলেমানুষীতে
মেতে থাকা যেত কিছুক্ষণ ওদের সাথে!
পাতানো শয্যায় আর কতো সময় ক্ষেপণ!
বাইরের দেয়াল হতে চুঁইয়ে পরা
টুপটাপ বৃষ্টির জলেও একটা ছন্দ আছে –
যা নেই এই অসহ্য হিমবাহ গলা
সময়ের অভিস্রোতে!
ল্যাপপোষ্টের নিয়ন আলোয় –
ঘরের সিলিং ফ্যানটাও যেন দাঁত কেলিয়ে হাসে
আমাকে একা পেয়ে!
অসুস্থ মস্তিষ্কের বিলাপে
ফ্যানটাকে শুনিয়ে দেই কিছু কটাক্ষ জবাব!
– খবরদার হাসবি না! দাঁত ফেলে দেব বেয়াদব !
দূর হ সামনে থেকে! ব্লা ব্লা ব্লা…
ও তো আর জানে না!
আমার সাথে আছে তোমাদের যতো
মুঠো মুঠো আশীর্বাদ!
বোকা জড় এও জানে না যে,
তোমাদের পাঠানো এতো এতো বার্তায়
মনোবল এখনো কতোটা দৃঢ় আমার!
যোজন যোজন দুরত্বেও তোমাদের মতো হিতৈষী
আমাকে দিয়ে যাচ্ছে কতোটা অক্সিজেন!
মহান আল্লাহর রহমতের ভান্ডার
তাঁর প্রেরিত পরীক্ষা থেকেও
যে অনেক অনেক বেশি
তা ঐ বোকা জড় কি করে জানবে!
তাইতো তোমাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলছি –
এক পেয়ালা সজীবতায় এভাবেই নিও
আমার রোজকার খবর।
ভুলেও কখনও বোলো না –
হে বন্ধু বিদায়!
রচনাকাল : ১৯/৫/২০২০ইং
বনশ্রী , ঢাকা।