আমার এইভাবেই কেটে গেলো বসন্ত, সংখ্যা যে হলো একত্রিশ।ঋতু এলো, ঋতু গেলো, কেবলই নীরবতার শূন্যতা বাড়লো। জানালার ফাঁকে রোদ উঠলো, বৃষ্টির ছন্দ এলো, ঝরে পড়লো কাশফুলের সাদা তুলোর মতো সময়। তবুও সেই দরজায় একটিও কড়া পড়লো না।
প্রতিটি প্রভাতে মনে হতো, হয়তো আজ কেউ আসবে। হয়তো কোনো হাসি ভেসে উঠবে, হয়তো কোনো চিঠি পড়বে বুকে। অথচ দিনশেষে চার দেয়াল ভরে উঠলো শুধু নিজের পদশব্দে, নিঃশ্বাসে আর অব্যক্ত দীর্ঘশ্বাসে। বসন্ত মানেই যে রঙের উৎসব, পাখির কলরব, সুগন্ধে ভরা বাতাস— সেই বসন্ত আমার কাছে কেবল নিঃসঙ্গতার প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরলো।
বারবার সময়কে বলেছি— “তুমি কি আমার ভাগ্যে কিছু রেখেছো?” সময় নীরব থেকেছে, শুধু ঋতুর পালা বদলেছে। বন্ধু পাখিরা উড়ে গেছে দিগন্তের ওপারে, ফুলেরা মিশে গেছে মাটির বুকে, অথচ আমার ঘরের দরজা চিরকাল নিস্তব্ধ, অচেনা ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত।
তবু এ শূন্যতার মাঝেই শিখেছি— আলোকে খুঁজতে হয় ভেতরে। হৃদয়ের অন্ধকার ভাঙতে হয় নিজের সাহসে। জীবন হলো একা হেঁটে যাওয়া পথ, যেখানে কেউ পাশে থাকুক বা না থাকুক, স্বপ্নই হয়ে ওঠে একমাত্র সঙ্গী।
তবুও কোথাও এক বিন্দু আশা রয়ে যায়। হয়তো আগামী কোনো বসন্তে, হঠাৎ একদিন নীরবতার দরজায় কড়া নাড়বে অচেনা এক হাত, ভেঙে দেবে এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা। হয়তো সেই দিনেই সত্যিকার অর্থে শুরু হবে আমার নিজের বসন্ত।