এতো এতো ঋণে ক্ষত বিক্ষত, হৃদপিণ্ডে, জমা হয়েছে বিষাক্ত নীল রক্ত কনিকা।
আর ছড়িয়ে পড়ছে শিরা উপশিরায়।
এতো ভালোবাসা, এতোএতো ভালোবাসা, নিতে পারছে না আমার ভিখারি হৃদয়।
কেবলই ঋণের দায়ে অভিযুক্ত আমি বারবার নিক্ষিপ্ত হচ্ছি জীবনের কাড়াগারে।
আসামি আমি বহু বার দাঁড়িয়েছি
অবাঞ্ছিত কাঠগড়ায় !
ভাগ্যের নির্মমতা কখনো খালাস দেয়নি, ঋণের অভিযোগ থেকে।
ঋণের কলঙ্কিত অধ্যায় থেকে, জামিন নামঞ্জুর হ’য়ে যায় বারবার।
অনুতাপ এর আগুনে পুড়ে পুড়ে যেনো জলন্ত ভিসুভিয়াস আমি।
স্রষ্টার কাছে ঋণী, যিনি আমাকে সৃজন করে পাঠিয়েছেন মায়ের জঠোড়ে।
বাবা মা এর কাছে ঋণী।
ভাই, বোন, প্রতিবেশী, সবাই আমাকে
ভালোবেসেছে দিয়েছে স্নেহ মমতার ঢালি।
বৃক্ষের কাছে, নদীর কাছে, অবারিত সবুজ মাঠ,নীল আসমান গ্রহতারা
সকলের কাছে ঋণী আমি বারো মাস।
পাখির খসে পড়া পালকের কাছে ঋণী!
আমি ভিখারি,আমি করুণা যাচি অনুশোচনার চোখে ক্লেদ।
নক্ষত্রের অগ্নিবলয়ে দগ্ধ হৃদয় ছাইঁয়ের ভেতরে খুঁজি কঙ্কাল এর
নগ্নতা,অস্পৃশ্যতা করি জাতের ভেদাভেদ।
আমি শৈবাল পানির স্তরে স্তরে জমে থাকি,
শিরদাঁড়া উঁচিয়ে নড়তে পারিনা আজ।
আমি চির বিমুখ কঙ্কালনদী
কচুরিপানার ফুল।
জোয়ার ভাটার উৎস গেছে মরে তীরের উঠুন জুড়ে শুধু ঝুলে আছে কিছু সাদা সাদা কাশফুল।
আমি অভিশাপ কুড়াই মৃত নদীর
তীর্থ অনূদিত রুবাইয়ের মূল।
আমি তবুও ভালোবাসা চাই!
আরো, আরো, এক সমুদ্র ভালোবাসা
মাটি থেকে আকাশ অব্দি নিরঙ্কুশ ভালো বাসা।
ঋণের দায়ে অভিযুক্ত আমি।
ভিখারি হৃদয় মোর ভালোবাসার দুয়ারে দুয়ারে করি করাঘাত। বারেবারে মাগি ভালোবাসা
আরো চাই ভালোবাসা।
আরও।
রেখা