নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধের জেরে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক যুবদল নেতা গুলিবিদ্ধসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের তাহেরপুর গ্রামের বাহারের দোকান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ শাকিল মাহমুদ (৩১) ছয়ানী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের রামেশ্বপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং ওই ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি প্রার্থী। সংঘর্ষে আহত অন্যান্যরা হলেন- মো. আলাউদ্দিন (৫০), মহর আলী (৫৯), মনোয়ারা বেগম (৫০), মাহফুজুর রহমান (২২), নাসরিন আক্তার (১৮), আলমগীর হোসেন (২৬) এবং জহির (৫০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত জাতীয় নির্বাচনের দিনের একটি মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের শুরু। সোমবার বিকেলে কৃষকদলের আনন্দ মিছিলে যাওয়ার সময় এক কর্মীকে মারধর করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাতে ছয়ানী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আলাউদ্দিন দলবল নিয়ে তাহেরপুর এলাকায় গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষ চলাকালে শাকিল পাটোয়ারীর বুকের বাম পাশে গুলি লাগে এবং আলাউদ্দিনের মাথা ফেটে যায়।
বিএনপি নেতা মো. আলাউদ্দিনের দাবি, বিষয়টি সমাধান করতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং রাকিব নামে এক যুবক গুলি ছুঁড়লে শাকিল আহত হন। অন্যদিকে, অভিযুক্ত রাকিব এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি পেশায় চালক এবং কোনো গুলির ঘটনার সাথে জড়িত নন, বরং আলাউদ্দিনের নিজের অস্ত্র থেকে ভুলবশত গুলি বের হয়ে শাকিল গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন চৌধুরী এই ঘটনার জন্য জামায়াতকে দায়ী করলেও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বোরহান উদ্দিন তা প্রত্যাখ্যান করে একে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল বলে উল্লেখ করেছেন।
গুলিবিদ্ধ শাকিলকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে এবং এলাকায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে দ্রুত অভিযান চালানো হবে।