রাজধানীতে ছিনতাইয়ের অভিযোগে মো. স্বপন প্রকাশ ওরফে চোরা স্বপন (৫২) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তেজগাঁও থানার ফার্মগেট খামারবাড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি ছুরি এবং ছিনতাই করা টাকা উদ্ধার করা হয়। গতকাল তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বাসে যাত্রীবেশে উঠে বমি করে যারা ছিনতাই করে তাদের গুরু স্বপন নামে পরিচিত চোরা স্বপন। সে বরিশাল জেলার কাজিরহাট থানার সন্তোষপুর গ্রামের মৃত আয়নাল ফকিরের ছেলে। স্বপন চিহ্নিত ছিনতাইকারী। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে ১০টি মামলা রয়েছে। সে একসময় চুরি করতো। চুরির অভিযোগে বেশ কয়েকবার আটকও হয়। এ কারণে গ্রামে সবাই চোরা স্বপন নামেই চেনে তাকে। গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় এসে সে ছিনতাই শুরু করে। প্রথমে অন্য দলের সঙ্গে থাকলেও পরে নিজেই দল গঠন করে। এরপর সে নিজেই বমি পার্টি করে। তার দলের সদস্যরা বিভিন্ন বাসে উঠে। বাসে প্রথমে কৃত্রিম জটলা তৈরি করে, এরপর কেউ একজন কৃত্রিম বমি করে। বমি করার পর বাসের মধ্যে এক ধরনের হৈ-হুল্লোড় তৈরি হয়। সে সুযোগে এই গ্রুপের সদস্যরা যাত্রীর মোবাইল, মানিব্যাগ ছিনিয়ে পালিয়ে যায়। তারা চকলেট এবং পানির বিশেষ মিশ্রণে কৃত্রিম বমি করতো বাসে থাকা যাত্রীদের শরীরে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে কৈশোরে গ্রামে চুরি করার হাতেখড়ি নেয়। তাই সেখানে তাকে সবাই চোরা স্বপন নামে চেনে। চুরির অভিযোগে সে কয়েকবার আটকও হয়েছিল। ৪০ বছর আগে সে ঢাকায় আসে। এরপর কিছুদিন পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করে। পরে স্বপন ছিনতাইকারীদের দলে যোগ দেয়। বছরখানেক আগে সে ছিনতাইকারী দল ‘বমি পার্টি’ গড়ে তোলে।
ওসি মহসীন বলেন, কৃত্রিম এই বমি সবাই করতে পারে না। এই বমি করার প্রশিক্ষণ দেয় স্বপন। তাই তাকে এই ধরনের ছিনতাইকারী দলের সদস্যরা গুরু স্বপন নামেই ডাকে। মঙ্গলবার ফার্মগেটে একটি বাসে স্বপন তার আরও দুই সদস্য নিয়ে উঠে। তারা সেখানে বমি করে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলে যাত্রীরা দেখে ফেলে। এসময় দু’জন পালালেও স্বপনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে পুলিশ তার কাছ থেকে একটি ছুরি ও ৮০ হাজার টাকা উদ্ধার করে।