শুধু একমাত্র দেবর শাকিল মাঝে মাঝে প্রতিবাদ করত। সে বলত- দোষটা কার তাতো জানো না, তবে কেন শুধু শুধু ভাবীর উপর দোষ চাপাচ্ছ? ভাইয়াকে বলো ডাক্তার দেখাতে।
বেশি কিছু বলতেও পারে না, কি থেকে কি বলে দেয়?
রত্নার শ্বাশুড়ি যখন তাকে ঝাড়ত শামীম চুপ করে রুম থেকে বেরিয়ে যেত। এ-ই নিয়ে ওদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো কিন্তু শামীমের কথা হলো- আমি কাকে কি বলব? একদিকে মা অন্য দিকে তুমি, কাউকে কিছু বলতে পারবো না।
পাড়ার এক কাকিমা একদিন এসে বলে- শামীমের মা তোমাদের বাড়িতে আর আসা যাবে না। বাজা বউয়ের মুখ দেখলে দিন টাই খারাপ যাবে। দিনে দিনে বউ তো তোমার আইবুড়ো হয়ে যাচ্ছে।
শাকিলের কানে কথাটা যাওয়া মাত্রই বলে দেয়- কাকিমা কেউ তো আর দাওয়াত করে না-ই। না আসলেই পারেন তবে হ্যাঁ আমার বিয়েতে দাওয়াত করবো তখন কিন্তু আসতে হবে।। কাকিমা গজগজ করতে করতে চলে যায়।
রত্না কতদিন বাথরুমের দরজা বন্ধ করে কেঁদেছে যাতে কেউ দেখতে না পায় এমনকি শামীমও যেন না দেখে। আর দেখলেই বা কি হবে। ওদের ভালোবাসা যেন দিন দিন করপুরের মতো উড়ে যেতে লাগল।
পাশের বাড়ির এক বুড়ো জেঠা কবিরাজি ওষুধ দেয়। উনার কাছে সবকিছু বলার পরে উনি বলেন–এক দামে কিনে একটা আপেল নিয়ে এসো।রত্না চুপচাপ বাজারে গিয়ে একটা আপেল কিনে জেঠা’র কাছে যায়।
তিনি আপেলের গায়ে জাফরানি কালিতে কিছু আরবি হরফ লিখে দিয়ে বলেন- একটানা তিনদিন রোজা রাখবে আর এ-ই আপেল দিয়ে ইফতার করবে। দেখবে দুই এক মাসের মধ্যেই একটা সুখবর পেয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
রত্না কাউকে কিছু না বলে তিনদিন রোজা রাখে ও আপেল দিয়ে ইফতারি করে। তিন মাস পরে খেতে বসে হঠাৎ রত্নার বমি আসে —–