ডাক এসেছে দেশে যাব, দেখব গাঁয়ের মুখ,
দেশের ঘাসের লতায় পাতায়
ভরবে সুখে বুক।
ধুলায় দেব গড়াগড়ি, কাদায় দেব ডুব,
শ্যাওলা পানার ময়লা জলে মাখব গায়ে রূপ।
দেখব নিযুত লতাপাতা হাঁস মুরগির ডাক,
গরু ছাগল মহিষ ভেড়ার মন মাতানো হাঁক।
নদীর জলের জোয়ার ভাটা নানান রকম মেলা
দেখব সবাই, খেলব গ্রামীণ ধুলোবালির খেলা।
খাব গ্রামের নানান পিঠা, যাব নানার বাড়ি,
বাল্য স্মৃতির সাক্ষী আজও বৃক্ষ সারি সারি।
গ্রাম থেকে গ্রাম ছুটে ছুটে দেখতে যাব তাঁদের,
বেড়ে ওঠি এ জীবনে কোলে কাঁধে যাঁদের।
দোয়া নেব দয়া নেব, নেব আদর স্নেহ,
আমার ঘরটি হবে জানি সারা গাঁয়ের গেহ।
শাপলা জলে কাটবো সাঁতার
ভেঙ্গে দু’কুল পাড়,
ডাকলে মা বাপ ফিরতে ঘরে
শুনব না ডাক আর!
ধরব ঢেলা মোয়া খল্লা রয়না পাবদা পুঁটি,
টেংরা চান্দা ভেদার সাথে করব ছুটাছুটি।
কালিয়া বাইম কাকিলা সিং
দাড়কানা আর কৈ,
ডুবটি দিয়ে ধরব হাতে করব হল্লা হৈ।
জলের সাথে মাছের সাথে বলব বহু কথা,
ছেলেবেলার স্মৃতি প্রীতি হাজার সুখ আর ব্যথা।
গ্রাম থেকে গ্রাম ছুটে যাব উড়াই পথের ধুল,
সাথীর সাথে অকারণে করব কেবল ভুল।
ঝগড়া হবে কিল ঘুষিও চলবে সমান তালে,
বলব, ‘বন্ধু, জোরশে ঘুষি মারিস আমার গালে;
আজ বহুদিন পাইনি তোদের
ঘুষি আঘাত গালি,
এই বেদনায় বুকটি ফেটে অশ্রুঝরে খালি!
তোদের বকা গ্রামের গালি নিত্য বাজে বুকে,
জীবন আমার কাল করেছে
বিদেশ বিপুল সুখে।
এস বন্ধু, বুকে এস, একটু কাঁদি হাসি,
শেষের বেলায় খানিক তরে জীবন-ভেলায় ভাসি!
চলনা সাথী যাই হেরে যাই ওই যে মাঠের ধারে,
ও যে দেখ গাছগুলো সব ডাকে বারে বারে!
ওই যেন এক জংলি-বাগান
পারব লিচু আম,
বকলে মাতা জেনে রাখিস বলব তোদের নাম!
দেখবি তবে মায়ের বকা মিষ্ট রসে ভরা,
হাসলে মাতা হাসে সাথে আকাশ পাতাল ধরা।
দেখব নানান কেশটি মুথা বাদাইল জাম মনা,
ক্ষুদেশ্যামা শুষলি আম; নেই বিষধর ফণা।
ভুলে যদি সর্প আসে ধরব টিপে গলা,
ফণী শনি বুঝবে তখন ঘুষির কত জ্বালা!
পরব মালা জুনজুনিয়ার দাঁতরাঙা ভাঁটফুলে,
সূর্যকন্যা মটমটিয়ার সবার গলে গলে।
সকাল থেকে রাত হয়ে যাক ফিরব না’ক ঘরে,
করব মজা পিঁপড়া ফড়িং মশা মাছি ধরে।
শুনব গীতি মৌমাছিদের গোবরে পোকার ছড়া,
প্রজাপতি শুয়োপোকার নৃত্য হৃদয় হরা।
শামুক মাকড় কেন্নোপোকার বুঝব মনের কথা,
আমরাও চাই শুনাই কিছু জমাট বুকের ব্যথা!
গিরগিটি মথ কাঠবিড়ালি আসবে নামি বুকে,
গাইবে ঝিঁঝিঁ গান হাবিবিকস্ H11 সুখে।
জোনাকিরা আলো দেবে গন্ধ দেবে ফুল,
হয়তো তারা বলবে চেনে “এই তো নজরুল”!
একটু ঘাসের আদর ফেলে আসবে চোখে জল,
পোকার পায়ে বিলিয়ে দেব শব্দ-পদ্মদল।
খেলব সবাই দাড়িয়াবান্ধা এক্কা দুক্কা কত,
কানামাছি ইচিং বিচিং রাত হলেও গত।
লাঠি খেলা ডাংগুটি দৌঁড় গোল্লাছুটে ছুটি,
কাটিয়ে দেব জীবন ভুলে আমরা সবাই জুটি।
শুনব রে গান ভাটিয়ালি হঁলা পল্লীগীতি,
বাউলা ভজন আঞ্চলিকে জাগবে আবার প্রীতি।
দেখব গ্রামের কৃষক মজুর মিশব তাঁদের সাথে,
বসব পাটির ধুলে ঝুলে খাব মাটির পাতে।
খবর নেব বন্ধু স্বজন খেলার পড়ার সাথী,
যাদের সাথে বেড়ে ওঠি সুখে-দুখে মাতি।
দেশবাসীরে বুকে নেব মত কিবা পথ ভুলে,
ঘ্রান বিলাব পরম মায়ায় সকল জাতির ফুলে।
দেখতে যাব প্রথম দিনের বর্ণমালার স্যার,
অক্সফোর্ড পড়ার পথ দেখাল বেত্রাঘাতে যার।
গুরুর পায়ে পুষ্প দেব বৃক্ষ থেকে এনে,
বলব, ‘আজও হইনি মানুষ, দিন দু’টি কান টেনে’।
খবর নেব কাজের মেয়ে কাজের ছেলে গাঁয়,
বেড়ে ওঠি আমরা যাঁদের স্নেহে রক্তে ঘায়!
যাঁদের বাগান বিরান করি
খেলাধুলার ছলে,
তাঁদের কথা মনে পড়ে চোখ ভিজে যায় জলে!
মায়ের কবর বাবার কবর জাগবে আমার লাগি’,
মনে মনে বলব কথা দোয়ায় দয়ায় জাগি’।
আমার ভাইয়ের বোনের আদর মাখব সারা গায়,
কলমিদের বুকে নেব পরম মমতায়।
সাথী শোন, বাংলাদেশ এই
বিশ্বসেরা দেশ,
দলে মতে সবাই আপন নেই শ্রেণি ভেদ দ্বেষ।
বিশ্বসেরা গ্রাম আমাদের ফুলে ফলে ভরা,
ঘাসের হাঁসের পাখির মেলায় স্নিগ্ধা মনোহরা।
এই পৃথিবীর মধুর ভাষা বাংলাভাষা ভাই,
অন্বিতসুর শব্দ সুরে শ্রেষ্ঠ দুনিয়ায়।
বিদেশ থেকে তোদের কথা নিত্য ভাবি লিখি,
তোদের স্মৃতি পড়লে এ বুক জ্বলে ধিকি ধিকি!
মাঝেমধ্যে ভুল বানানে চিঠিপত্র দিস,
টেলিফোনে গালি দিয়ে খবর টবর নিস।
অপর দিকের ফোনটি আমার
আর যদি না বাজে,
মনে করিস জীবনভেলা
ডুবল সাগর-সাঁঝে!
অপর পারে দেখা হবে জীবন নদীর ঘাটে,
ডাংগুটি আর কানামাছি খেলব আবার মাঠে।
আমার হাতে থাকবে কলম, লিখব তোদের গান,
চাই ‘অক্ষরে অমরতা’ আমাদের শ্লোগান।
চট্টগ্রামের রাউজান থানার
কেউটিয়া মোর গ্রাম,
চাইলে তুমি ঘাসের কাছে বলবে আমার নাম।
স্মরণ কর একটু করে জাগবে বহু স্মৃতি
বলবে কথা আমার ছন্দ H11 নিতি।
১৫.০১.২০২৫
লন্ডন।