গ্রীষ্ম প্রখর, মাঝদুপুরের তপ্ত বালুর পরে
চলছে ক্ এক বাহাদুর; নেত্রে অগ্নি ঝরে।
হস্তে খোলা তরবারি এক, মরুভূমি চারধার,
কাঁপিয়া যেনবা দেখে সেই রূপ; যায় দূর সরে তাঁর।
কোথায় যাচ্ছে এমন করিয়া এই মরুবাসী আজ?
কার জীবনের আলোটারে চির করিতে আঁধারভাজ?
সত্যি সেটাই তবে, রাগ তার আর কারো পরে নয়—
সৃষ্টি-কূলের মহামানবের করিতে জীবন ক্ষয়!
আজ জীবনের পণ যে তাহার—মাথা রাসূলের চাই,
যার তরে এই বিশ্বভুবন; সৃষ্টি রবের তাই।
অবয়ব তাঁর লক্ষ্য করিয়া বল্লো নঈম ডেকে—
“থামিও উমর, রাখো কী খবর তোমার আপন থেকে?
“বোনটি তোমার আর তোমার ঐ আপন ভগ্নিপতি—
দেখছো তাদের নিকট সময়, জীবন চলার গতি?
দুজন মিলিয়া হয় মুসলিম—করিবে কী তুমি তবে?
ঘর ছেড়ে দিয়ে বাইরে শাসন কেমন করিয়া হবে?”
শুনে নঈমের এমনি কথায় রাগ হলো খুব তার,
বল্লো তখন—”ঠিক আছে, ঠিক! দেখে আসি নিজ ধার!”
ছুটলো ঘুরিয়া বোনের বাড়িতে—বোনটি ফাতেমা তার
কুরআন পাঠ করিছে তখন, ঘরের একটি ধার।
উমর তাহার সামনে গিয়েই রাগেতে জানতে চায়—
“কীইবা করছো?” ফাতেমা কম্পে, বিবর্ণ হয়ে যায়!
ভগ্নিপতিটি বল্লো তখন—”বুঝবে না তার কিছু,
পড়তে ছিলাম আমরা দুজন—” বল্লো উমর পিছু।
“মুসলিমের ঐ দলেতে তোমরা দিয়েছো দুজন যোগ—
কঠিন কেমন তার পরিণাম, করিবে এখন ভোগ!”
বলিয়া উমর বাঘের মতো ঝাঁপ দিয়ে এক ধরে,
দেখিয়া বিপদ, স্বামীর এমন, ফাতেমা চেষ্টা করে।
কিন্তু তাতেই শরীর তাহার কাটলো নানান দিক—
বোনটির এই রক্ত যে তাঁর ভাবায় খানিক ঠিক।
তাই তো তখন বল্লো—”তোমরা করছিলে পাঠ যেটা,
নিয়ে আসো ফের, পড়ো তো আবার, শুনবো কেমন সেটা?”
সত্যি, দুজন অবাক তখন—”বল্লো, ঠিকটি আগে
হাতমুখ ধুয়ে পাক হয়ে সেটা অর্জন করা লাগে।”
করলো যে তাই উমর তখন—ফাতেমা শোনায় শেষে
পৃথিবীর পর, আকাশ-বাতাস—যতসব যেই বেশে।
সকল কিছুই মহান রবের এক বন্দনা করে—
তিনিই শক্তি, জানেন সকল—মুহাম্মদের তরে।
জানান আরও—”নয় জাদুকর, নয়তো গণক কোনো,
ঠিক তিনি, ঠিক মহান রবের পয়গম্বর, শোনো।”
এমনি সত্য কুরআন-বাণী শুনলো উমর চুপে,
লাগলো তাহার হৃদয় চমক, শান্ত কোমল রূপে!
বেরিয়ে পড়েন পথের মধ্যে, তরবারি হাতে ফের—
রাসূল তখন দরবারে ঠিক; সঙ্গীরা পেল টের।
বল্লো সবাই—”আসছে উমর, কিবা জানি ভাব তার!”
রাসূল বলেন—”দাও তো আসতে, যাইবা ঘটুক আর।”
তরবারি নিয়ে ধীর পদালয়ে উমর নিকটে এসে,
রাসূল পায়ের নিচ রাখিলেন, বড় অপরাধী বেশে।
বলেন কণ্ঠে—”সত্য ধর্ম গ্রহণ করবো আজ!”
খুশিতে রাসূল উল্লাসে—সব উমর, তাদের মাঝে।
দরবার জুড়ে বয় হিল্লোল, বাহির জুড়েও তাই—
বলে মুসলিম সাথিরা সকল—”সব মোরা ভাই-ভাই!”