প্রেম লিখেন, প্রকৃতি লিখেন
আর মানবতা তাঁর কলমে জেগে ওঠে শিরিষপাতার মতো।
এক হাতে কবিতা, অন্য হাতে করুণা —
যেন শব্দ ও কর্ম মিশে তৈরি করেছে
একটি মানবিক রাষ্ট্রের নকশা।
মুহাম্মদ আবু তাহের—
একটি নাম নয়, এক প্রার্থনা।
যে নাম উচ্চারণ করলেই
মাটি ভিজে ওঠে দয়ার জলে
আকাশে বাজে এক অদৃশ্য বাঁশি
যেন কবিতার প্রতিটি পঙ্ক্তি
খুঁজে নেয় নিজের দায়, নিজের মানুষ।
আবু তাহের—
একজন সংগঠক,তাঁর সংগঠন আপনজন মানবিক ফাউন্ডেশন।
এ যেন এক খোলা মাঠ
যেখানে শিশু হাসে, বৃদ্ধ বিশ্রাম নেয়
ক্ষুধার্তের মুখে ওঠে প্রথম অন্নের গান।
আবু তাহের—
কবিতা লেখেন
শব্দের ভেতর দোলা দেয় রিকশাওয়ালার মুখ
ভেসে ওঠে এক মায়ের চোখের জল।
আর কবিতার শেষে একটি পাখি
উড়ে যায় গ্রামের দিগন্তে
মানবতার পতাকা বয়ে।
তাহের, তুমি যেন এক অগ্নিশিখা—
যে শিখা দগ্ধ করে না, আলোকিত করে।
তুমি শেখাও,
“সমাজসেবা মানে প্রদর্শন নয়,
এটি এক দীর্ঘ কবিতা,
যার প্রতিটি ছন্দে লুকিয়ে আছে মানুষের হাহাকার।”
তুমি প্রেমিক, কিন্তু প্রেম তোমার রক্তে নয়—কর্মে।
তুমি কবি, কিন্তু কবিতার সীমা ছাড়িয়ে
মানুষের অন্নে তোমার অক্ষর মিশে যায়।
তুমি প্রকৃতি লিখে শেখাও—
গাছও কাঁদে, মাটিও ভালোবাসে,
মানবতাও এক জীবন্ত বৃক্ষ,
যাকে জল দিতে হয় আত্মা দিয়ে।
তুমি যে বিপ্লব ঘটাও,
তা কোনো পতাকার নয়, কোনো দলের নয়—
তা এক মানবিক দিগন্তের বিপ্লব,
যেখানে ভিক্ষুকও সম্মানিত,
আর শিশুর মুখে উঠে আসে “ধন্য আমি” বাক্যটি।
তুমি অর্থ নয়, অর্থের অর্থ শেখাও।
তোমার অর্থনীতি হলো মানবতার পুঁজি,
যা দিয়ে তুমি গড়ো
এক নিঃস্বের মুখে হাসির মুদ্রা।
তাহের, তুমি কবি—
কিন্তু তোমার কবিতা কেবল পৃষ্ঠায় নয়,
রক্তে, ঘামে, মানবতার শিরায় প্রবাহিত।
তুমি যেদিকে হাঁটো
সেদিকেই জন্ম নেয় এক নতুন আলোকপাত,
এক নতুন কবিতা।
যা বলে—
হয়তো একদিন ইতিহাসে লেখা হবে—
“একজন কবি ছিলেন,
যিনি কবিতা দিয়ে মানুষ বাঁচিয়েছিলেন।”
মুহাম্মদ আবু তাহের —
কেবল কবি নন
মানবতার সৈনিক
একটি জাতির আত্মায় লেখা
এক দীপ্ত শ্লোক।
তাহের, তুমি অনন্ত —
মানবতার কণ্ঠে
কবিতার ছায়ায়
আর প্রতিটি ক্ষুধার্ত হৃদয়ের আশ্বাসে।