নরসিংদীর রায়পুরায় পৃথক স্থান থেকে ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ট্রেনে কাটাপড়া দুজনের লাশ উদ্ধার করেছে রেলওয়ে পুলিশ।
রোববার (১৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় আমীরগঞ্জ-বাদুয়ারচর রেলব্রিজ এলাকায় রোমান সরকার (২০) নামে এক কলেজছাত্র এবং পরদিন সোমবার সকাল ৯টায় রায়পুরা উপজেলার মেথিকান্দা এলাকায় জুয়েল ভূইয়া (৪৫) নামে এক যুবক ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান।
নিহত রোমান সরকার রায়পুরা উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের বাহেরচর পশ্চিমপাড়া এলাকার হক মিয়ার একমাত্র ছেলে আর জুয়েল একই উপজেলার অলিপুরা ইউনিয়নের নবিয়াবাদ এলাকার মোকাদ্দেস আলী ভূঁইয়ার ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, সকাল ৯টায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা এগারোসিন্ধুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি মেথিকান্দা স্টেশনে প্রবেশ করছিল। ওই সময় স্টেশনের পশ্চিম পাশে রেললাইনে হাঁটার সময় ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই জুয়েল ভূঁইয়ার মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে।
নিহত জুয়েল বেসরকারি একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন, তাকে মানসিক রোগের কারণে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, রোমানের স্বজনরা জানায়, রোমানের পৈতৃক বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় হলেও তিনি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরিতে থাকতেন। সেখানে স্থানীয় কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়ছিলেন তিনি। এক সপ্তাহ আগে তিনি বাবার বাড়ি রায়পুরাতে আসেন। পরে সন্ধ্যায় বাদুয়ারচর ব্রিজে এলে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান।
নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক নাজিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা পৃথক স্থান থেকে নিহত দুজনের লাশ উদ্ধার করে ফাঁড়িতে নিয়ে এসেছি। মেথিকান্দায় নিহত জুয়েল মানসিক ভারসাম্যহীন বলে জানতে পেরেছি। নিহতদের পরিবারের সাথে কথা বলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’